, || - ||

জাককানইবি বর্তমান উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এইচ এম মোস্তাফিজুর রহমান

প্রকাশিত হয়েছে-
প্রকাশ করেছেন- স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট, নয়া আলো।

বর্তমান উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এইচ এম মোস্তাফিজুর রহমান’কে নিয়ে বিভিন্ন গ্রুপে লেখালেখি হয়, কেনো এখনো মসজিদ, মন্দির, অডিটোরিয়াম, ইত্যাদি ইত্যাদি নির্মাণ করছেন না? কিন্তু আমরা সবাই জানি আমাদের বর্তমান উপাচার্য এখানে যোগদান করেছেন এখনো দুই বছর হয়নি। উনি আসার আগে দীর্ঘ ১২টি বছর অন্যান্য উপাচার্যগণ চালিয়েছেন (উনি আমাদের ৫ম উপাচার্য)। দীর্ঘ ১২বছরেও যে কাজটি হয়নি সেটি কি দেড় বছরে করা সম্ভব! তাও তিনি অনেক কষ্ট করে আগামী তিন মাসের মধ্যে মসজিদ নির্মাণের টেন্ডার দিবেন। এর আগে যে সকল উপাচার্যগণ ছিলেন তাঁরা কেউ ক্যাম্পাসে অবস্থান করেন নি পরিবার সহ।  শুধু মাত্র আমাদের দিকে তাকিয়ে পরিবার নিয়ে ক্যাম্পাসে থাকেন, এমনকি এখানে ঈদের মাঝেও ক্যাম্পাসে অবস্থান করেন। মাঝে মাঝে ছুটির দিনে সুযোগ পেলে  তাঁর বৃদ্ধ মা’কে দেখতে যান, সকালে গিয়ে আবার বিকালে চলে আসেন।

 

উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এইচ এম মোস্তাফিজুর রহমান

 

এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ে কোনো অডিটোরিয়াম না থাকায় শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের আয়োজনে বিভিন্ন সেমিনার/ অনুষ্ঠান করার জন্য কনফারেন্স রুম উন্মুক্ত করে দিয়েছেন তিনি। বর্তমানে এমন কোনো মাস নেই যে এ কনফারেন্স রুমে প্রতি মাসে ১৫ থেকে ২০ টি সেমিনার/ অনুষ্ঠান হয় না এবং সকল সেমিনার ও অনুষ্ঠানে শত ব্যস্ততার মাঝেও আমাদের এ উপাচার্য উপস্থিত থাকেন।মোস্তাফিজুর রহমান আসার আগে ১২বছরেও তো কোনো উপাচার্য এটি নিয়ে কোনো চিন্তাও করেনি। তাই তেমন কোনো সেমিনার/অনুষ্ঠান হয়নি। এখন এ সেমিনার রুমে কোনো খরচ ছাড়াই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ক্যারিয়ার বিষয়ক সহ বড় বড় সেমিনার অনুষ্ঠানের আয়োজন করতে পারছে।

 

ক্যাম্পাস থেকে জিরো পয়েন্ট পর্যন্ত রাস্তায় কোনো লাইটিং এর ব্যবস্থা ছিলো না। রাতের বেলা অন্ধকারেই শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের চলাচল করতে হতো। উপাচার্য নিজের প্রচেষ্টায় ক্যাম্পাস থেকে জিরো পয়েন্ট পর্যন্ত লাইটিং এর ব্যবস্থা করেছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের ১২ বছরেও তো কোনো পোস্ট অফিস ছিলো না, তিনি আসার ১বছরের মধ্যেই পোস্ট অফিস নিয়ে আসেন। শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের ডিজিটাল সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিতকরণে নানা ব্যবস্থা কার্যকর করা হচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটকে আধুনিকায়ন করা হয়েছে।

 

বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্মাণাধীন দশতলা বিশিষ্ট দুটি হল ও দুটি একাডেমিক ভবনের অবকাঠামো নির্মাণকাজের অগ্রগতি হচ্ছে উপাচার্যের তাগিদে। তিন তলা বিশিষ্ট কেন্দ্রীয় লাইব্রেরীকে পাঁচতলায় উন্নতিকরণ করা হচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন প্রকল্পের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা শতভাগ নিশ্চিত হয়েছে। উপাচার্যের একান্ত প্রচেষ্টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের জমি অধিগ্রহণের কাজ চলছে।

 

আগে বাংলাদেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মাঝে ভর্তি বাণিজ্যে কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে ছিলো এ বিশ্ববিদ্যালয়। অধ্যাপক ড. এ এইচ এম মোস্তাফিজুর রহমান উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব পাওয়ার এক সপ্তাহ পরেই অনুষ্ঠিত হয় ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি পরীক্ষা। তখন তিনি সকলের সামনে প্রতিজ্ঞা করে বলেছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা স্বচ্ছভাবে সম্পন্ন হবে। ভর্তি পরীক্ষা প্রশ্নফাঁস ও ডিজিটাল জালিয়াতি এমন কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই স্বচ্ছভাবে সম্পন্ন করতে পেরেছিলেন তিনি। একইভাবে গতবছরের ভর্তি পরীক্ষাটিও স্বচ্ছভাবে সম্পন্ন করেন। গতবছর নজরুলের জীবন ও সৃষ্টিকর্ম নিয়ে গবেষণার লক্ষে এ বিশ্ববিদ্যালয় ও ভারতের নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে গবসড়ৎধহফঁস ড়ভ টহফবৎংঃধহফরহম (গঙট) চুক্তি সম্পন্ন করেন এ উপাচার্য। আপনারা ধৈর্য ধরেন, তিনি প্রতিনিয়তই জাককানইবির কথা ভাবেন, উনার নিজের কোনো চাহিদা নেই, টাকার প্রতি কোনো লোভ নেই। শিক্ষার্থীদের গাড়ির সমস্যা, তিনি গাড়ির জন্য বারবার আবেদন করেছেন এবং তাদেরকে অনুরুধ করেও বলেছেন দ্রুত গাড়ির ব্যবস্থা করে সমস্যা সমাধান করার।  গাড়ির সকল সমাধান হয়েছে।

 

শিক্ষার্থীদের সেশনজট দূরীকরণের জন্য সব অনুষদের ডিন, বিভাগীয় প্রধান ও পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক দপ্তরের সঙ্গে প্রতিনিয়ত যোগাযোগ রাখছেন, আর যেন কোনো শিক্ষার্থী সেশনজটের কবলে পড়ে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়।

 

এ উপাচার্য  প্রতিদিন ঠিক ৯টায় অফিসে আসেন, এমনকি কাজের চাপে দুপুরের খাবার অফিসেই বসেই খেতে হয়। অফিস থেকে বেশির ভাগ সময়ই সন্ধ্যার আগে বের হতে পারেন না। এদিকে মাঝে মাঝে অফিসে এসেই প্রথমে প্রতিটি দফতর ঘুরে ঘুরে দেখেন কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ঠিকমত অফিস করছেন কি না। মাঝে মাঝে একাডেমিক ভবন গুলোতেও ঘুরে দেখেন শিক্ষকরা ঠিকমত ক্যাম্পাসে উপস্থিত থেকে ক্লাস নিচ্ছেন কি না। এমনকি উপাচার্য নিজেও শিক্ষার্থীদের ক্লাস নেন। আমি চ্যালেন্স করে বলতে পারি বাংলাদেশের কোনো পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্য ড. এ এইচ এম মোস্তাফিজুর রহমান এর মতো উপাচার্য নেই। উনার মত একজন সাদা মনের মানুষকে উপাচার্য হিসেবে পেয়েছি এটি আমাদের ভাগ্যের বিষয়।

 

আর আপনারা এই উপাচার্যকে নিয়ে নিজের ইচ্ছামত জেনে না জেনে ফেসবুকের বিভিন

Please follow and like us: