, || - ||

ঝিনাইদহে গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী লাঠিখেলা অনুষ্ঠিত

প্রকাশিত হয়েছে-
প্রকাশ করেছেন- খোরশেদ আলম চৌধুরী, স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট।

ঝিনাইদহ থেকে, তরিকুল ইসলাম তারেক:
ঝিনাইদহ সাংস্কৃতিক সমৃদ্ধ জনপদ বাসুদেবপুরে গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী লাঠি খেলা অনুষ্ঠিত হয়। আবহমানকাল ধরে এই উপজেলায় বিনোদনের খোরাক যুগিয়েছে এই লাঠিখেলা। কিন্তু কালের বির্বতনে মানুষ ভুলতে বসেছে এই লাঠিখেলা। বাংলার ঐতিহ্যের অংশ লাঠিখেলা নিয়ে মানুষের আগ্রহ আছে। এক সময় প্রতিটি গ্রামেই লাঠি খেলার পৃথক পৃথক দল থাকতো। কিন্তু লাঠিখেলার নতুন করে কোন সংগঠন বা দল তৈরি হচ্ছেনা। বিজ্ঞান, প্রযুক্তির উৎকর্ষতার ফলে হারিয়ে যেতে বসেছে ঐতিহ্যবাহী লাঠিখেলা। ঢোল আর লাঠির তালে তালে নাচা নাচি। এই অঞ্চলে বিভিন্ন ধরনের লাঠি খেলা রয়েছে। তার মধ্যে অন্যতম সড়কি খেলা, ফড়ে খেলা, হাডুডু খেলা ইত্যাদি।

এক সময় ঝিনাইদহে বিভিন্ন গ্রামের সাধারণ মানুষেরা তাদের নৈমিত্তিক জীবনের উৎসব- যেমন বাংলা বর্ষবরণ, বিবাহ, সুন্নতে খাতনা, চড়ক পূজা, মহরম ইত্যাদি উপলক্ষে বিভিন্ন গ্রামে লাঠি খেলার আয়োজন করতো। এক্ষেত্রে সাধারণত কোন লাঠিয়াল দলকে ভাড়া করে আনা হতো। হাজার হাজার নারী পুরুষকে এক সময় লাঠি খেলা বেশ আনন্দের খোরাক যুগিয়েছে। মানুয়ের হদয়ে ঠাঁই করে নিয়েছিলেন এ খেলাটি। দূর দূরান্ত থেকে ছুটে আসত এ খেলা দেখার জন্য। বিভিন্ন জায়গায় মাঝে মধ্যে এ লাঠি খেলা দেখা গেলেও বর্তমানে তা খুব সীমিত। বাসুদেবপুর গ্রামবাসির আয়োজনে আয়োজক সর্দ্দার রফিক মেম্বও, রাজু আহম্মেদ, খোকন, বাবর আলী, জুমায়েত, শাহাজান বাবু সর্দ্দার বলেন, “আমাদের সবার একটি করে লাঠি খেলার দল আছে। আমার বাবা চাচাও লাঠি খেলা করতো। আমিও ২০ বছর ধরে লাঠি খেলা করছি। এখন আমার দলের সদস্য সংখ্যা প্রায় ১০-১২ জন। আগে সদস্য সংখ্যা বেশি ছিল। আমার এই বাপের ঐতিহ্য ধরে রাখতে অনেক কষ্ট হচ্ছে।” তিনি আরো বলেন, “এখন আর আগের মতো ছেলে পাওয়া যায় না খেলার জন্য। আগের মত ডাকে না কোন অনুষ্ঠানে- না ডাকলে আমাদের আয় হচ্ছে না। সে জন্য আমাদের খেলার প্রতি মনোনিবেশ কমে যাচ্ছে। তিনি বলেন, সরকারি-বেসরকারি এবং ব্যক্তি সকলে সহযোগিতা করলে ঐতিহ্যবাহী লাঠি খেলা ধরে রাখা যাবে।

Please follow and like us: