, || - ||

ডুমুরিয়ায় অসুস্থতার সুযোগে এক ব্যক্তির ১৭ বছরের ভোগ দখলীয় মৎস্য ঘের জবরদখলের চেষ্টায় ঘেরের মধ্যে বাসা তৈরির পায়তারা

প্রকাশিত হয়েছে-
প্রকাশ করেছেন- গাজী আব্দুল কুদ্দুস, বিশেষ করেসপন্ডেন্ট,খুলনা।
খুলনার ডুমুরিয়ায় এক ব্যক্তির অসুস্থতার সুযোগে দীর্ঘ ১৭ বছরের ভোগ দখলীয় মৎস্য ঘের জবরদখলের চেষ্টায় বুধবার সকাল ১০টার দিকে ঘেরের মধ্যে বাসা তৈরির পায়তারা করেছে এলাকার প্রভাবশালী একটি মহল। মৎস্য ঘের জবরদখল হচ্ছে এ সংবাদে ডুমুরিয়া থানা পুলিশ শান্তি শৃঙ্খলা রক্ষার্থে ঘেরের ভিতরে বাসা তৈরির কাজ বন্ধ করে দিয়েছে।
সরজমিনে গিয়ে এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, ডুমুরিয়া উপজেলার মাগুরাঘোনা ইউনিয়নের বাদুড়িয়া গ্রামের মৃত নিছার মোড়লের ছেলে মোঃ মোর্শেদ মোড়ল দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে বাদুড়িয়া-বেতাগ্রাম মৌজায় পূর্বের বিল নামক একটি বিলে প্রায় ৪৫ বিঘা জমি হারিতে নিয়ে শান্তিপূর্ণভাবে মাছ চাষ করে আসছেন। কিন্তু তিনি অসুস্থতার কারণে হার্টে রিং পরিয়ে ঢাকার ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। এ সুযোগে অত্র এলাকার প্রভাবশালী ব্যক্তি জামাল উদ্দিন ফকিরের ছেলে হাবিবুর রহমান ফকির, সাবেক ইউপি সদস্য মিজানুর রহমান সরদার, আব্দুল বারিক মোড়ল, মাহাতাব সরদার ও আলমগীর সরদারসহ বেশ কয়েকজন ব্যক্তি মৎস্য ঘেরটি জবরদখল করার জন্য ঘেরের ভিতর বাসা তৈরির চেষ্টা করে। এ সংবাদ ডুমুরিয়া থানা পুলিশকে জানানো হলে এএসআই আলমগীর হোসেন সঙ্গীয় ফোর্সসহ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে কাজ বন্ধ করে দেন।
এব্যাপারে ঘের মালি মোর্শেদ মোড়ল বলেন, আমি ভূমিদস্যুদের লালসার শিকার হয়েছি। আমার ঘাম ঝরানো শ্রমে গড়ে তোলা একমাত্র পৈত্রিক সম্বল মৎস্য ঘেরটি কেড়ে নেওয়ার জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছে একদল চিহ্নিত ভূঁইফোড় ও অসাধু চক্র। তিলতিল করে গড়ে তোলা স্বপ্নের মাছের ঘেরটি দখলের জন্য একের পর এক হীন পাঁয়তারা চালিয়ে যাচ্ছে স্থানীয় এই প্রভাবশালী ভূমিদস্যু জোট। দীর্ঘদিন ধরে হাড়ভাঙা খাটুনি আর জীবন যাপনের সমস্ত সঞ্চয় ঢেলে দিয়ে আমি ঘেরটি করেছি। আজ তা গ্রাস করতে উদ্ধত হয়েছে কতিপয় অর্থলোভী ও সুযোগ সন্ধানী চক্রান্তকারীরা। জবরদখল ও অপকর্মের এই নীল নকশার নেপথ্যে কলকাঠি নাড়াছে উপরে উল্লেখিত ৫ জনের প্রভাবশালী সিন্ডিকেট। তবে তিনি চিকিৎসা শেষে বাড়ি ফিরে এদের বিরুদ্ধে মামলা করবেন বলে জানিয়েছেন।
হাবিবুর রহমান বলেন, আমরা ওখানে কিছু জমি হারি নিয়েছি। তাই বাসা তৈরি করছিলাম।
এএসআই আলমগীর হোসেন বলেন, মোর্শেদ মোড়ল নামে এক ব্যক্তির অসুস্থতার সুযোগে এলাকার কতিপয় ব্যক্তি তার মৎস্য ঘের জবরদখল পূর্বক ঘেরের ভিতর বাসা তৈরির পায়তারা করছিল। আমরা শান্তি শৃঙ্খলা রক্ষার্থে আপাতত কাজ বন্ধ করে দিয়ে এসেছি।
Please follow and like us: