খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার মাগুরখালী ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মনোজ সরকারের বিরুদ্ধে গ্রামীণ অবকাঠামো সংস্কার (কাবিটা- কাবিখা) কর্মসূচির আওতায় ঝরঝরিয়া গ্রামের রাস্তা নির্মাণ ও ঝরঝরিয়া উত্তরপাড়া মন্দিরের নির্মাণ কাজের অর্থ আত্মস্বাতের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় ডুমুরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ ৫টি দপ্তরে একটি লিখিত অভিযোগ করেছে এলাকাবাসী।
প্রাপ্ত অভিযোগে উপজেলা ১৪নং মাগুরখালী ইউনিয়নের ঝরঝরিয়া গ্রামের বাসিন্দারা উল্লেখ করেন, তাদের গ্রামের যোগাযোগ ব্যবস্থা খুব খারাপ। এখানে গত ১৫ বছর আগে ইটের সোলিং এর একটি রাস্তা হয়। কিন্তু প্রতি বছর রাস্তায় পানি উঠে যাওয়ায় রাস্তাটি একদম নষ্ট হয়ে গেছে। সে জন্য ২০২৫-২৬ অর্থবছরে গ্রামীণ অবকাঠামো সংস্কার (কাবিটা কাবিখা) কর্মসূচির আওতায় ঝরঝরিয়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পার্শ্ব হতে অমল সানার বাড়ি অভিমুখে মাটির রাস্তা পুনঃ নির্মাণ ও সোলিং করন প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। উক্ত প্রকল্পের বরাদ্দ ছিল ৮ লক্ষ ৪৪ হাজার ৮শত টাকা এবং প্রকল্পের সভাপতি ছিলেন সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মনোজ সরকার। রাস্তাটিতে যেহেতু ইট বসানো ছিল। তাই রাস্তায় মাটি দেওয়ার পূর্বে, রাস্তার ইট গুলো তুলে রাশ করে রাখা হয়। রাস্তাটি স্কেভেটর মেশিন দ্বারা নির্মাণ কাজ করলেও সঠিকভাবে ড্রেসিং না করার কারণে নদীর পাশ দিয়ে বিভিন্ন জায়গায় ধসে পড়েছে। অপরদিকে ইটের সোলিং এর কাজতো করেই নি। পূর্বের রাস্তার সেই ইট রাস্তার পাশে রাশ করে রাখা আছে। এ বছর বৃষ্টির মৌসুমে মানুষের কাদা মাটিতে চলতে খুব কষ্ট হবে। সাধারণ মানুষ এখন ধারণা করছে আগের রাস্তা খারাপ হলেও, বৃষ্টির দিনে কাঁদা মাখা লাগতো না। আগের রাস্তাই ভালো ছিল। গ্রামবাসী মনে করেছিল মেম্বর ধীরেধীরে হয়তো রাস্তার ইটের সোলিং এর কাজ শেষ করবে। কিন্তু কিছুদিন আগে আমরা জানতে পারলাম রাস্তার সব বরাদ্দ উত্তোলন করা হয়ে গেছে। রাস্তার বিষয়টি নিয়ে আমরা গ্রামবাসী খুবই সংক্ষুব্ধ। এ ব্যাপারে গ্রামবাসী মেম্বরের কাছে ইটের সোলিং এর ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, গ্রামের মানুষকে এবার মজা দেখাবো এবার সবাইকে কাঁদা দিয়ে হাটাবো।
এদিকে ঝরঝরিয়া উত্তরপাড়া মন্দিরে কয়েক বছর পূর্বে মন্দিরের বেজমেন্ট করা ছিল। ২০২৩-২৪ অর্থ বছরে টিআর থেকে বরাদ্দ নিয়ে মেম্বর মন্দিরে একটি রুম করে লিংটন পর্যন্ত নির্মাণ করেন। তারপর ২০২৪-২৫ অর্থবছরে টিআর থেকে প্রথমে এই মন্দির নির্মাণ কাজ বাবদ ১ লক্ষ ২৯ হাজার টাকা ও দ্বিতীয় ধাপে ছাদ নির্মাণ করার জন্য ১ লক্ষ ১৫ হাজার টাকা বরাদ্দ প্রদান করা হয়। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে দুই ধাপে প্রাপ্ত মোট বরাদ্দ ২ লাখ ৪৪ হাজার টাকা মন্দির কমিটির ব্যাংক হিসাব থেকে সব টাকা ব্যাংক হিসাবধারী আনন্দ মণ্ডলকে বুঝিয়ে উত্তোলন করে নেন। উল্লেখ্য আনন্দ মণ্ডল গ্রামের একজন সহজ সরল স্বাক্ষর জ্ঞান সম্পন্ন ব্যক্তি। সে অত নিয়ম কানুন কিছু বোঝেনা। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে প্রথম বরাদ্দের বিষয়ে মেম্বর গ্রামবাসীকে জানান দেন যে, প্রথম বরাদ্দের মাত্র ৮০ হাজার টাকা পাওয়া গেছে। যেখান থেকে ৩০০০০ টাকা অফিস খরচ বাবদ দিতে হয়েছে। অবশিষ্ট ৪০ হাজার টাকা আমি ঝরঝরিয়া দক্ষিণপাড়া মন্দিরে দিয়েছি। আমি মেম্বর আমাকে তো সবদিক দেখতে হয়। বিষয়টি যাচাই করতে গেলে জানা যায়, ঝরঝরিয়া দক্ষিণপাড়া গ্রামের শিক্ষক পবিত্র সরকার এর কাছে গ্রিল বাবদ ৮ হাজার টাকা দিয়েছে। গত অর্থবছরের বরাদ্দ এতদিন মেম্বরের হাতে ছিল। গত একমাস আগে গ্রামের মানুষ বিষয়টি নিয়ে কথা বললে, মেম্বর ছাঁদ নির্মাণ বাবদ ৯০ হাজার টাকা কমিটির লোকজনের হাতে দেয়। উক্ত টাকা দিয়ে সিমেন্ট বালি, ইট ও পিকেট ক্রয় করা হয়েছে। কিন্তু ছাদের জন্য রড ও মিস্ত্রি খরচের কোন টাকা নেই। মোট কথা ২০২৪-২৫ অর্থবছরের ২ লক্ষ ৪৪ হাজার টাকা থেকে মাত্র ৯০ হাজার টাকা মন্দিরের উদ্দেশ্যে দিয়েছে। বিষয়টি হলো ব্যাংক একাউন্টে আনন্দ মন্ডলের নামে, কিন্তু সে মেম্বরের প্ররোচনায় পড়ে ২ লাখ ৪৪ হাজার টাকা তুলে মেম্বরের কাছে দিয়েছে। এখন তাকে কিছু জিজ্ঞাসা করলে সে বলে আমি প্রথম বরাদ্দের বিষয়ে ব্যাপারে কিছু জানি না।
এব্যাপারে অভিযোগকারী সুভাষ চন্দ্র মন্ডল, দেবাশীষ মন্ডল, মৃণাল কান্তি মন্ডল বলেন, মেম্বর এভাবে রাস্তা ও মন্দিরের টাকা আত্মসাৎ করবে। এটা আমরা এলাকাবাসী মেনে নিতে পারছি না। ইউপি সদস্য মনোজ সরকার বলেন, স্টিমেট অনুযায়ী কাজ করা হয়েছে। ডুমুরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সবিতা সরকার বলেন, অ়ভিযোগ হয়েছে, তদন্ত পূর্বক ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।
Please follow and like us: