খুলনার ডুমুরিয়ার পানি-নিষ্কাশনের প্রধান পথ শোলমারী ১০ভেন্টের স্লুইচ গেট। ১০দিন আগে এলাকাবাসী জোর করে ওই গেটের কপাট খুলে দেওয়ায় নদীর পানি ভেতরে ঢুকায় জলাবদ্ধতা আরও বাড়ছে। অপর দিকে উচ্চ ক্ষমতার ২টি পাম্প দিয়ে আগে দিনে ১৬ ঘন্টার পরিবর্তে বর্তমানে ৮ ঘন্টা পানি নামছে।
বিল ডাকাতিয়া-সহ সমগ্র উপজেলার জলাবদ্ধতাই ডুমুরিয়ার কান্না। ২০২৪ সালে জলাবদ্ধতা মারাত্মক আকার ধারণ করে। উপজেলা প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের চেষ্টায় জানুয়ারি ২৫ এর পর অধিকাংশ বিলে বোরো ধান চাষ হওয়ায় কৃষক-কুল বেঁচে যায়। কিন্তু চলতি বছর আষাঢ মাসের শুরু থেকেই লাগাতর বর্ষায় সমগ্র ডুমুরিয়া উপজেলার খালবিল রাস্তাঘাট ও গ্রামের বাড়ি-ঘরে জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে।
ইতো মধ্যে শোলমারী গেটের সামনে পলি জমে জল-নিষ্কাশন বন্ধ হয়ে পড়ায় গত জুন মাসে প্রশাসনের উদ্যোগে জার্মানি থেকে উচ্চ-ক্ষমতার ২টি পাম্প মেশিন এনে চালু করায় কিছুটা আশা জাগে। তাছাড়া গত ১ মাস আগে খুলনা পানি উন্নয়ন বোর্ড ১ কোটি ৪৫ লাখ টাকা ব্যয়ে ৪টি স্কেভেটর দিয়ে প্রায় ১ কিলোমিটার পলি অপসারণে ‘জরুরি খনন’ প্রকল্প চলমান। এতো কিছুর পরও এলাকার জলাবদ্ধতা কমছে না।
গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল ৯টায় শোলমারী ১০ ভেন্টের গেটে পাম্প মেশিন চালু অবস্থায় খোলা ৪টি কপাট দিয়েও সামান্য-কিছু পানি বের হচ্ছিলো। কিন্তু কিছু সময় পরে গেটের ভেতরেই পানি ঢুকতে দেখা গেছে।
এ প্রসঙ্গে ওই গেট-কিপার শাকিল মোল্লা বলেন, গত ২ তারিখে এলাকার লোকজন এসে জোর করে খোলার সময় কপাটগুলো দুমড়ে-মুচড়ে যাওয়ায় জোয়ারের সময় ফাঁক দিয়ে ভেতরে পানি ঢুকছে। কপাট খোলার আগে দিনে ১৬ ঘন্টা পাম্প চলতো। কিন্তু বর্তমান বাস্তবতায় ৮ ঘন্টার বেশি চালানো যাচ্ছে না বলে পানিও কমছে না। এখানে উল্লেখ্য কপাট খোলা অবস্থায় পাম্প চালালে পলি-ভরাটি নদীতে বেশি পানি সরতে না পেরে উল্টো গেটের ভেতরেই ঢুকতে থাকে।
গুটুদিয়া এলাকার সুব্রত ফৌজদার বলেন, একদিকে বর্ষায় পানি বাড়ছে, অপর দিকে নষ্ট কপাট দিয়ে হু-হু করে ভেতরে জল ঢুকে দিনে-দিনে পানি বাড়ছে। মহিদুর রহমান তরফদার বলেন, কোটি কোটি টাকার খাল কাটে ১ টাকারও লাভ হবে না। কারণ নদী উচো, আর আমাগে বিল নিচে। বরং সেই টাকা দিয়ে পাম্প লাগালি আমরা বাঁচতি পারবো। ভূক্তভোগী কৃষক আবু বক্কার মোল্লা বলেন, আমরা পানিতি ডুবে মত্তিছি, কিন্তু ডুমুরিয়ায় ওয়াবদার(পাউবো) এতো বড় অফিস থাকলিউ সেখানে যায়ে আমরা কোনো অফিসার পাইনে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের সহকারী প্রকৌশলী (শাখা কর্মকর্তা) তরিকুল ইসলাম বলেন, গেটের কপাটে সমস্যা হওয়ায় কিছু পানি ঢুকছে বলে আমরা মেরামতের ব্যবস্থা নিয়েছি। তাছাড়া গেট দিয়ে পানি নিষ্কাশনের জন্য জরুরি ভিত্তিতে পলি অপসারণের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। আগামীতে ৪৯ কোটি টাকার প্রকল্প পাশ হলে, সাড়ে ১৫ কিলোমিটার নদী ড্রেজিং, ২.৮ কিলোমিটার নদী খনন, ২৪টি খাল খনন ও আরও ৫টি উচ্চ ক্ষমতার পাম্প মেশিন স্থাপন করা গেলে ডুমুরিয়া জলাবদ্ধতা থেকে মুক্তি পাবে।
ডুমুরিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুহাম্মদ আল-আমিন বলেন, পানি নিষ্কাশনের সকল কাজের দায়িত্ব পানি উন্নয়ন বোর্ডের। তাই আমার অনুরোধ, যে ভাবেই হোক পানি কমানোর ব্যবস্থা করেন।
Please follow and like us: