রবিবার , ৩১শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ১৭ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ - গ্রীষ্মকাল || ১৩ই জিলহজ, ১৪৪৭ হিজরি

ডুমুরিয়ায় প্রতিপক্ষের হামলায় হাত ভেঙে গেছে এক ব্যক্তির

প্রকাশিত হয়েছে-
প্রকাশ করেছেন- গাজী আব্দুল কুদ্দুস, বিশেষ করেসপন্ডেন্ট,খুলনা।
খুলনার ডুমুরিয়ায় জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে প্রতিপক্ষের হামলায় আহত হয়ে হাসপাতালে কাতরাচ্ছে এক ব্যক্তি, পরিবারের অন্য সদস্যরাও ২ সপ্তাহ যাবৎ ভয়ে বাড়ি ছাড়া। ঘটনাটি উপজেলার রোস্তমপুর গ্রামের, প্রাপ্ত অভিযোগে প্রকাশ, মৃত আনছার আলী সরদারের ছেলে আহাদুল ইসলাম ও আইনুদ্দিন সরদারের ছেলে গোলাম মোস্তফা এবং আছাদুল সরদারের ছেলে সইবুর সরদার ও আলতাফ সরদারের সাথে দীঘদিন থেকে জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে। এ বিষয় নিয়ে স্থানীয় গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গের মধ্যস্থতায় একাধিক শালিশ বৈঠক হলেও কোন সুরাহা হয়নি।
তারই জের ধরে গত ২৮ মার্চ সন্ধ্যা ৭টার দিকে গোলাম মোস্তফা, সইবুর সরদার ও আলতাফ সরদার আহাদুলের বসত বাড়িতে ঢুকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করা সহ হুমকি ধামকি দিতে থাকে। এ সময় আহাদুল প্রতিবাদ করার সাথে সাথে বিভিন্ন ধরণের লাঠিসোটা দিয়ে তাকে এলোপাতাড়িভাবে মারপিঠ করতে থাকে। এ ঘটনায় আহাদুলের বাম হাতের হাঁড় ভেঙ্গে যায়, এসময় তার চিৎকারে মা জবেদা বেগম (৭৫) ঠেকাতে আসলে তাকেও মারপিঠ করে আহত করে বলে অভিযোগে প্রকাশ।
পরবর্তীতে আহাদুলের স্ত্রী ও কয়েকজন প্রতিবেশী এগিয়ে আসলে হামলাকারীরা চলে যায়। এরপর গুরুতর আহতবস্থায় আহাদুলকে ডুমুরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হলে চিকিৎসকরা জানান, তার বাম হাতের কনুইয়ের নীচে থেকে ভেঙ্গে গেছে। এরপর তিনি ডুমুরিয়া থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করে উন্নত চিকিৎসার জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হন। গত ৯ এপ্রিল বৃহস্পতিবার সেখানে তার হাতে অস্ত্রোপচার করা হয়ে বলে পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে।
এব্যাপরে সরেজমিনে উপস্থিত দেখা যায়, আহাদুলের বাড়িতে কেউ নেই। তার বাড়ির ক্লপসিবল গেটে তালা ঝুলানো এবং পাশ্ববর্তী গোয়াল ঘরের সামনে বাঁশের চটা ও কাটা দিয়ে ঘিরে দেওয়া হয়েছে। এময় প্রতিবেশী মকবুল সরদার ও নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক বৃদ্ধা মহিলা ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেন।
ঘটনার বিষয়ে জানার জন্য ১নং বিবাদী গোলাম মোস্তফার বাড়িতে গিয়ে তাকে পাওয়া যায়নি, তার স্ত্রী বলেন মোস্তফা কেশবপুরে পোষ্ট অফিসে চাকরি করেন। তিনি এখনও বাড়ি ফেরেন নি। পরবর্তীতে গোলাম মোস্তফার ব্যবহৃত ০১৭১০৬১৩৪০৪ নাম্বার মুঠোফোনে কল করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি।
থানায় অভিযোগের ভিত্তিতে ডুমুরিয়া থানার উপ-পরিদর্শক কবির হোসেন ঘটনাস্থল পরিদর্শণ ও প্রাথমিক তদন্ত করেছেন। এ ব্যাপারে তার কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি সরেজমিনে ঘটনাস্থলে গিয়েছি। কিন্তু আহাদুলের বাড়িতে কাউকে পাওয়া যায়নি। আহাদুল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বলে জেনেছি ফোনে তার সাথে কথা হয়েছে, সে সুস্থ্য হয়ে বাড়ি ফিরলে তার কাছ থেকে বিস্তারিত জেনে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করব।
Please follow and like us: