সোমবার , ৮ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ২৫শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ - গ্রীষ্মকাল || ২১শে জিলহজ, ১৪৪৭ হিজরি

ডুমুরিয়ায় যুবলীগ কর্মীর বিরুদ্ধে ভুয়া নিয়োগপত্রে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যোগদান করে বেতন ভাতা উত্তোলনের পাঁয়তারার অভিযোগ 

প্রকাশিত হয়েছে-
প্রকাশ করেছেন- গাজী আব্দুল কুদ্দুস, বিশেষ করেসপন্ডেন্ট,খুলনা।
খুলনার ডুমুরিয়ায় যুবলীগের এক কর্মী ভুয়া নিয়োগ বোর্ড গঠন, ভুয়া নিয়োগপত্র তৈরি করে জাল জালিয়াতির মাধ্যমে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যোগদান করে বেতন ভাতা উত্তোলনের পাঁয়তারা চালাচ্ছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। আর তাকে গোপনে ওই প্রতিষ্ঠানেরই অধ্যক্ষ সহযোগিতা করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।
প্রাপ্ত অভিযোগে প্রকাশ ২০২১ সালে উপজেলার নুরানিয়া ফাযিল মাদ্রাসায় অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর সহ আরও কয়েকটি পদে নিয়োগের জন্যে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। এরপর বিভিন্ন পদে নিয়োগ পাওয়ার জন্যে বেশ কয়েকজন আবেদন করেন, কিন্তু সেই সময়ের ক্ষমতাসীন আওয়ামীলীগের বিভিন্ন গ্রুপের নেতাদের রেষারেষির কারণে শেষমেষ আর নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়নি।
পরবর্তীতে উক্ত পদের আবেদনকারী নরনিয়া গ্রামের মৃত নুরুল ইসলাম গাজীর ছেলে যুবলীগ কর্মী বিলাল হোসেন ভুয়া নিয়োগ বোর্ড ও ভুয়া নিয়োগপত্র তৈরি করে মাদ্রাসায় যোগদানের চেষ্টা করেন। কিন্তু মাদ্রাসার তৎকালীন অধ্যক্ষ (ভারপ্রাপ্ত) মাওলানা মোঃ রহমাতুল্লাহ তাকে যোগদান করতে দেননি। এরপর বিভিন্ন স্থানে দেন দরবার অধ্যক্ষকে ভয়ভীতি প্রদর্শণ করেও তার সিদ্ধান্ত থেকে নাড়াতে পারেনি। এক পর্যায়ে মাওলানা মোঃ রহমাতুল্লাহ ওই প্রতিষ্ঠানের চাকরিতে ইস্তফা দিয়ে অন্য প্রতিষ্ঠানে যোগদান করেন। এবং নুরানিয়া ফাযিল মাদ্রসায় মোঃ আব্দুল আজিজ নামে জনৈক শিক্ষক অধ্যক্ষ (ভারপ্রাপ্ত) হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
আব্দুল আজিজ দায়িত্ব নেয়ার পরে বিলাল গোপনে আজিজের সাথে যোগসাজসের মাধ্যমে নতুন করে মাদ্রাসায় যোগদানের চেষ্টা চালাচ্ছেন। এছাড়া ওই পদে বেতন ভাতা উত্তোলনের জন্যে ডুমুরিয়া উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারের নিকট কাগজপত্র জমা দিয়েছেন বলেও জানা গেছে। এ ঘটনা জানাজানি হলে এলাকার বিএনপি নেতা-কর্মীদের মধ্যে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। স্থানীয় বিএনপি নেতা-কর্মীরা বলেন, এই বিলাল ২০১৮ সালের রাতের ভোটের দিন ওই নুরানিয়া ফাজিল মাদ্রাসা কেন্দ্রে সাধারণ ভোটারদের ভোট দিতে দেয়নি। তার নেতৃত্বে ওই কেন্দ্রে রাতে ব্যালট কেটে বাক্স ভরা হয়েছিল এবং সকালে ভোট দিতে আসা অনেক ভোটারকে মারপিঠ করে বের করে দেয়া হয়েছিল। আর এখন বিএনপি ক্ষমতায় থাকা অবস্থায় সেই যুবলীগের ক্যাডার ভুয়া নিয়োগপত্র বানিয়ে চাকরি নেবে এটা মেনে নেয়া যায়না। এব্যপারে স্থানীয় বিএনপি নেতা নরনিয়া গ্রামের সিরাজুল ইসলাম বিলাল হোসেনের বেতন ভাতা উত্তোলন প্রক্রিয়া বন্ধ রেখে তার এই ভুয়া নিয়োগ বাতিলের দাবি জানিয়ে ডুমুরিয়া উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারের নিকট লিখিত অভিযোগ করেছেন।
বিলালের ওই নিয়োগপত্র যে ভুয়া তার আরও প্রমাণ মিলেছে। তার ওই পদেই আবেদন করেছিলেন মালতিয়া গ্রামের সিরাজুল ইসলামের স্ত্রী শারমিন খাতুন। তার কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আবেদন করেছিলাম ওই পর্যন্তই। তারপর আর কোন অগ্রগতি হয়নি, না কোন ইন্টারভিউ কার্ড পেয়েছি না কোন পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছি। একই নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে হিসাব রক্ষক পদের আবেদনকারী ছিলেন রোস্তমপুর গ্রামের বি এম ফিরোজ হোসেন বলেন, আমি সহ আরও যারা বিভিন্ন পদে আবেদনকারী ছিলাম তারা কেউ নিয়োগ পরীক্ষার জন্যে কোন চিঠি পাইনি এবং ওই তারিখে কোন পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে বলে আমার জানা নেই।
নিয়োগবোর্ড এবং নিয়োগ পত্রের ব্যাপারে জানতে চাইলে মাদ্রাসার তৎকালীন অধ্যক্ষ (ভারপ্রাপ্ত) মাওলানা মোঃ রহমাতুল্লাহ বলেন, ওই তারিখে কোন নিয়োগ পরীক্ষাই অনুষ্ঠিত হয়নি তাহলে নিয়োগ বোর্ডের প্রশ্ন আসে কিভাবে? এ প্রতিনিধিকে তিনি আরও বলেন, নিয়োগ বোর্ডের সদস্য হিসেবে যাদেরকে দেখানে হয়েছে তা সব ভুয়া। বিলাল ওই সময় ক্ষমতার দাপটে সবার স্বাক্ষর জাল করে জাল জালিয়াতির মাধ্যমে নিয়োগ পাওয়ার চেষ্টা করেছিল, আমি রাজি ছিলামনা বিধায় আমার নামে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানী করা হয়েছিল।
মাদ্রাসার বর্তমান অধ্যক্ষ (ভারপ্রাপ্ত) আব্দুল আজিজ বলেন, আমি ২০২৪ সালের অক্টোবর মাসের দিকে দায়িত্ব নিয়েছি তারপর থেকে বিলাল নামে কেউ মাদ্রাসায় যোগদান করেননি।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার দেবাশীষ কুমার বিশ্বাস বলেন, বিলালের পক্ষ থেকে কোন কাগজপত্র এখনও অনলাইনে আমি দেখিনি আর অনলাইনে না আসা পর্যন্ত জমা হয়েছে কিনা সেটা জানা যায়না। তবে এসংক্রান্ত একটি অভিযোগ পেয়েছি, তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করব।
Please follow and like us: