, || - ||

তদন্তে আর কতবার সত্যতা পেলে সমালোচিত শিল্পী মেম্বারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে কর্তৃপক্ষ.?

প্রকাশিত হয়েছে-
প্রকাশ করেছেন- অর্পণ মাহমুদ, জেলা করেসপন্ডেন্ট ,কুষ্টিয়া।
 বয়স্ক, বিধবা, পুঙ্গ, মাতৃকালিন ভাতা, ভিজিএফ, চালের কার্ড, নলকুপ প্রদান, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে চাকুরী দেয়ার নামে মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিয়ে শত শত মানুষের কাছে থেকে কৌশলে মোটা অংকের নগদ অর্থ হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগে কুষ্টিয়ার বটতৈল ইউনিয়নের সেই শিল্পী মেম্বারের বিরুদ্ধে জেলা প্রশাসক ও চেয়ারম্যান এর কাছে মেম্বার বিচার দাবী করে আবেদন আবারও আবেদন করেছে অর্ধশত প্রতারিত নারী-পুরুষ । আবেদন পাওয়ার পর বটতৈল ইউনিয়ন পরিষদ থেকে শিল্পী মেম্বারের বিরুদ্ধে নতুন করে তদন্ত শুরু করেছেন বলে জানান ইউনিয়ন সচিব প্রশান্ত কুমার প্রদীপ। এদিকে বার বার তদন্তে সত্যতা পাওয়া গেলেও কেন কি কারনে কর্তৃপক্ষ এই মেম্বারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে না এ নিয়ে ইউনিয়ন বাসীর মধ্যে নানা সমালোচনা চলছে। তবে শিল্পী মেম্বারের কাছে টাকা দিয়ে আবারও আরো অর্ধশতাধিক নারী- পুরুষের ইউনিয়ন পরিষদে দেয়া অভিযোগের ভিত্তিতে আজ ইউনিয়ন পরিষদ থেকে গঠিত তদন্ত টিমের সদস্যরা তদন্ত করবেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানাগেছে। এদিকে সচেতন মহলের কেউ কেউ বলছেন তদন্তে আর কতবার সত্যতা পাওয়া গেলে দুর্নীতিবাজ শিল্পী মেম্বারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ?
উল্লেখ্য:-
আলোচিত শিল্পী মেম্বরের বিরুদ্ধে অভিযোগকারী ভুক্তভোগী ৩২ জন মহিলার অভিযোগের তদন্তে শতভাগ সত্যতা পাওয়ার পর আবারও পুণ:তদন্তের আবেদন করেছেন সেই সেই শিল্পী মেম্বর। পাশাপাশি বিভিন্ন মহলে দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছেন। এছাড়াও তিনি দল করেন তার কিছুই হবে না বরং পরে অভিযোগকারীদের দেখে নেয়া হবে এমন হুমকি ধাকমি দিচ্ছেন বলেও অভিযোগ করেছে ভুক্তভোগীরা। কুষ্টিয়া সদর উপজেলার বটতৈল ইউনিয়নের সমালোচিত ৪, ৫ ও ৬ নং সংরক্ষিত মহিলা আসনের ইউপি সদস্য শিল্পি খাতুন। তার বিরুদ্ধে সরকারী বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা দেয়ার নামে অসহায় নারী-পুরুষের কাছে সু-কৌশলে টাকা নিয়ে কোন প্রকার সুযোগ-সুবিধা না দিয়ে টাকা ফিরত চাইলে উল্টো ভুক্তভোগীদের মারধর করাসহ অভিযোগের অন্তনেই। এলাকার অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর মায়াকান্না দেখিয়ে তিনি লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন এমনটি অভিযোগ করেন এলাকাবাসী।

ইতিমধ্যে এই মেম্বারের বিরুদ্ধে কুষ্টিয়া সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার জুবায়ের হোসেন চৌধুরী বরাবর গত ১৭ই নভেম্বর লিখিত অভিযোগ করেন ৩২ জন ভুক্তভোগী নারী। এর পেক্ষিতে গত ৩ ডিসেম্বর এই অভিযোগের তদন্ত করে কুষ্টিয়া সদর উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা মর্জিনা খাতুন ও সমাজসেবা অফিসার আবু রায়হানের তদন্ত দল। বটতৈল ইউনিয়ন পরিষদে তদন্ত দলের উপস্থিতি টের পেয়ে কৌশলে সটকে পড়েন ওই শিল্পী মেম্বর। এ সময় খবর পেয়ে সেখানে অভিযোগ জানাতে উপস্থিত হন প্রায় ৫০ জন ভুক্তভোগী অভিযোগকারী। সে সময় বটতৈল ইউনিয়ন চেয়ারম্যান এ এ মোমিন মন্ডল উপস্থিত ছিলেন।

সে সময় চেয়ারম্যানের উপস্থিতিতেই তদন্ত টিমের কাছে ভুক্তভোগী প্রায় অঅর্ধশত ক্ষতিগ্রস্তরা জানান, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি কুষ্টিয়া সদর উপজেলার বটতৈল ইউনিয়ন পরিষদের ৪,৫ ও ৬ নং সংরক্ষিত আসনের ইউপি সদস্য (মেম্বার) শিল্পী ওই এলাকার ৪ ওয়ার্ডের রোকেয়া খাতুনসহ অর্ধশত নারীর কাছে থেকে বয়স্কভাতা, বিধবাভাতা, মাতৃকালীন ভাতা ও চাকুরী দেয়ার নামে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। এভাবে গত ৩ বছরে ৪, ৫ ও ৬ নং ওয়ার্ডের শত শত নারী পুরুষের কাছে থেকে বিভিন্ন সুবিধা দেয়ার নামে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে ওই প্রভাবশালী শিল্পী মেম্বর। পরে টাকা ফেরত চাইতে গিয়ে ওই শিল্পী মেম্বর ও তার স্বামীর নির্যাতনের শিকার হয়েছেন বেশ কয়েকজন ক্ষতিগ্রস্ত নারী ও সন্তানেরা।

এর আগেও ওই শিল্পীর বিরুদ্ধে ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেন ইউনিয়ন কার্যালয়ে। কিন্তু অজ্ঞাত কারনে চেয়ারম্যান তার বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা না নেওয়ায় অবশেষে ভুক্তভোগীদের মধ্যে শুধু ৪ নং ওয়ার্ডের ৩২ জন নারী অভিযোগ করেন সদর ইউএনও অফিসে। শুধু তাই নয় টাকা নিয়ে কোন প্রাকার কার্ড না করে দেয়ায় ভুক্তভোগী রোকেয়া খাতুন নামের এক মুক্তিযোদ্ধার স্ত্রী টাকা ফেরত চাওয়ায় ওই বৃদ্ধাকে মারধর করেন অভিযুক্ত শিল্পী মেম্বরও তার স্বামী হাসান এমন অভিযোগ করে রোকেয়া খাতুন। এ ঘটনার পর ১৭ নভেম্বর কুষ্টিয়া সদর উপজেলায় উপস্থিত হয়ে শিল্পী মেম্বরের বিচার চেয়ে ৩২ জন মহিলা সাক্ষরিত একটি অভিযোগপত্র জমা দেন কুষ্টিয়া সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে।

এ ঘটনার পর ইউএনও অফিসে অভিযোগের কথা শুনে তাৎক্ষণিক বটতৈল ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এম এ মোমিন মন্ডল ওই দিন ১৭ নভেম্বর অভিযুক্ত ইউপি মহিলা সদস্য শিল্পীকে সাময়িক বরখাস্ত করেন বলে সাংবাদিকদের জানান। এর পরে গত ২৪ নভেম্বর মাসিক সভায় সেই বরখাস্ত আদেশ প্রত্যাহার করেন। এদিকে ওই ইউপি মহিলা সদস্য শিল্পীকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয় এবং ৩ সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটির ঘোষণা দেন চেয়ারম্যান। কিন্তু ৩ দিনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়ার কথা জানানো হলেও কোন এক অজ্ঞাত কারনে তদন্ত প্রতিবেদন জমা না নিয়ে তিনি তদন্ত কমিটি সম্পর্কে কোন মন্তব্য না করেই কয়েকজন সাংবাদিক ডেকে ওই ইউপি সদস্য শিল্পীর বরখাস্ত আদেশ প্রত্যাহারের ঘোষণা দেন। এ সময় নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন ইউপি সদস্য বলেন, আমরা তদন্ত করেও সত্যতা পেয়েছি এবং চেয়ারম্যানকে জানিয়েছি কিন্তু কোন লাভ হবে না সেটাও জানি!

এদিকে বিধবাভাতা-বয়স্কভাতা, চাকুরী দেয়াসহ বিভিন্নভাবে প্রতারণা করে ২ হাজার টাকা থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত হাতিয়ে নিয়েছেন বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগীরা। পরে তারা ইউএনও কাছে শিল্পী মেম্বারের বিচার চেয়ে একটি অবেনপত্র জমাদেন জমা দেয়ার পর ইউএনও জুবায়ের হোসেন চৌধুরী ভুক্তভোগীদের কথা শোনেন এবং তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দিয়ে ভুক্তভোগীদের পাঠিয়ে দেন।

তদন্তের পরে তদন্ত দলের মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা মর্জিনা খাতুন এর মুঠো ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, এখন পর্যন্ত তদন্তে অভিযোগের শতভাগ সত্যতা পাওয়া গেছে এবং আমরা তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছি।

আরেক কর্মকর্তা আবু রায়হান এর মুঠো ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, তদন্তে সত্যতা পাওয়া গেছে এবং শিল্পি মেম্বারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্ৰহনের সুপারিশ করে প্রতিবেদন জমা দেন।

একটি সূত্রে জানা যায়, শিল্পী মেম্বারকে রক্ষা করতে ক্ষমতাসীন দলের জেলা পর্যায়ের একজন নেতা শিল্পী মেম্বারের পক্ষে ইতিমধ্যে দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছেন।

এদিকে অভিযুক্ত শিল্পী মেম্বারের তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগের পুনঃ তদন্তের জন্য আবেদন জানান উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর। তিনি সেখানে উল্লেখ করেন আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলেও আমাকে অবহিত করা হয়নি।

এ বিষয়ে কুষ্টিয়া উপ-পরিচালক স্থানীয় সরকার মিনাল কান্তি দে’র মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, তদন্ত প্রতিবেদন এসেছে এবং এ বিষয়ে অভিযুক্ত শিল্পী মেম্বার পুনঃতদন্ত চেয়েছেন। আমরা দুটি ফাইল একত্রিত করে জমা দেব স্যার যে সিদ্ধান্ত দেবে সেটাই হবে।

Please follow and like us: