সিরাজগঞ্জে মানবসেবা ও জনকল্যাণমূলক বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে দিনব্যাপী ব্যস্ত সময় পার করেছেন বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও সিরাজগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির পরিচালক হাজী মো. আব্দুস সাত্তার।
রোববার (১৪ জুন) তিনি পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের সহায়তা, বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা, স্বেচ্ছায় রক্তদান কার্যক্রমের উদ্বোধন এবং হাসপাতালে রোগীদের খোঁজখবর নেওয়াসহ একাধিক মানবিক উদ্যোগে অংশ নেন।
সকালে হাজী আব্দুস সাত্তার ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে সিরাজগঞ্জ পৌরসভার বিভিন্ন ওয়ার্ডে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে নিয়োজিত নারী কর্মীদের মাঝে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হয়। এ সময় তিনি তাদের হাতে উপহারসামগ্রী তুলে দিয়ে বলেন, পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা শহরকে বাসযোগ্য রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। তাদের অবদান সমাজের কাছে সবসময় সম্মানের।
খাদ্যসামগ্রী পাওয়া এক নারী পরিচ্ছন্নতাকর্মী বলেন, আমরা অনেক সময় নীরবে কাজ করি। আমাদের কথা খুব কম মানুষই ভাবে। হাজী সাত্তার সাহেব আমাদের পাশে দাঁড়িয়েছেন, এজন্য আমরা কৃতজ্ঞ।
পরে পৌর এলাকার দিয়ারধানগড়া পোস্ট অফিস মোড়ে সাধারণ মানুষের জন্য নিজস্ব অর্থায়নে স্থাপিত ১ হাজার লিটার ধারণক্ষমতার পানির ট্যাংক ও পানির ট্যাপের উদ্বোধন করেন তিনি। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, গরমের সময়ে পথচারীদের বিশুদ্ধ পানির প্রয়োজন মেটাতে এ উদ্যোগ অত্যন্ত প্রশংসনীয়।
স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুস ছোবাহান বলেন, এলাকায় এমন জনকল্যাণমূলক উদ্যোগ খুব কম দেখা যায়। পথচারীরা এখন সহজেই বিশুদ্ধ পানি পান করতে পারবেন।
এরপর বিশ্ব রক্তদান দিবস উপলক্ষে ইসলামিয়া সরকারি কলেজে স্বেচ্ছায় রক্তদান সংগঠন ‘হৃদয়ে রক্ত’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন হাজী আব্দুস সাত্তার। অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, রক্তদান একটি মহৎ মানবিক কাজ। একজন মানুষের দেওয়া এক ব্যাগ রক্ত আরেকজন মানুষের জীবন বাঁচাতে পারে। তরুণদের মানবসেবামূলক কর্মকাণ্ডে আরও বেশি সম্পৃক্ত হতে হবে।
সংগঠনের সদস্যরা জানান, সমাজে রক্তদানে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং জরুরি মুহূর্তে রোগীদের পাশে দাঁড়ানোর লক্ষ্য নিয়েই ‘হৃদয়ে রক্ত’-এর যাত্রা শুরু হয়েছে।
দিনের শেষভাগে হাজী আব্দুস সাত্তার সিরাজগঞ্জ সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রোগীদের খোঁজখবর নেন। তিনি রোগীদের শয্যার পাশে গিয়ে তাদের চিকিৎসার অগ্রগতি সম্পর্কে জানেন এবং প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এক রোগীর স্বজন বলেন, রোগীর পাশে এসে খোঁজ নেওয়া এবং সাহস দেওয়াটাও অনেক বড় মানবিকতা। তাঁর এই উপস্থিতি আমাদের অনুপ্রাণিত করেছে।
হাজী মো. আব্দুস সাত্তার বলেন, মানুষের সেবা করাই আমার সবচেয়ে বড় তৃপ্তি। সমাজের অসহায়, সুবিধাবঞ্চিত ও বিপদগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানো আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। যতদিন সামর্থ্য থাকবে, ততদিন মানবকল্যাণে কাজ করে যেতে চাই।
স্থানীয়রা মনে করেন, ধারাবাহিক জনসেবামূলক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে হাজী আব্দুস সাত্তার মানবতার সেবায় নিবেদিত একজন সমাজসেবক হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। তাঁর এসব উদ্যোগ সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।