কুমিল্লার নাঙ্গলকোটের ঘোড়াময়দান গ্রামের ইসমাইল হোসেন দীর্ঘ বছর ছিলেন প্রবাসে। প্রবাসে থেকে নিজ আয়ে তিনি পরিবারের সকল খরচ বহন করেন এবং কয়েক বছর পর বড় ভাই ইব্রাহিম খলিলকে বিদেশে নিয়ে যান। ২০০৮ সালে ইসমাইল অসুস্থ হয়ে শূন্য হাতে দেশে ফিরে আসার পর থেকে পরিবারকে সহযোগিতা করতে না পারায় তিনি অল্প সময়ে পরিবারের হিরো থেকে রাতারাতি বনে যান খলনায়কে। একপর্যায়ে সকল ভাই ও মা আয়েশা বেগম চলে যান ইসমাইলের বিপক্ষে। পরে ইসমাইলের পিতা আমিন উল্ল্যাহ অসুস্থ হয়ে শয্যাশায়ী হয়ে গেলে কৌশলে মা এবং বড় ভাই ইব্রাহিম খলিল, ছোট ভাই দেলোয়ার হোসেন, আনোয়ার হোসেন ও মনির হোসেন বাবার সকল সম্পত্তি নিজেদের নামে লিখে নেন। সেই সাথে লিখে নেন ইসমাইলের মাথা গুজার ঠাঁই বসত ঘরের জায়গাটুকু। পিতার মৃত্যুর কিছুদিন পর ভাই ও মা সকল জমি তাদের দাবি করে ইসমাইলকে বাড়ি থেকে উচ্ছেদের চেষ্টা চালায়। পরে এ বিষয়ে স্থানীয় ভাবে কয়েক দফা সালিশ বৈঠক বসার পরও সমাধান না হওয়ায় মা এবং ভাইদের বিরুদ্ধে নাঙ্গলকোট থানায় লিখিত অভিযোগ করেন ইসমাইল। এই ঘটনায় নাঙ্গলকোট থানায় সালিশ বৈঠক বসে তাদের পৈত্রিক সকল সম্পত্তি ইসলামী শরীয়ত অনুযায়ী বন্টনের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয় এবং জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে বিবাদীগণ থেকে অঙ্গীকারনাম গ্রহণ করা হয়।
সর্বশেষ গত রবিবার রাত ৮টার দিকে ইসমাইলকে তার বসতভিটা ফিরিয়ে দেয়ার বিষয়টি নিয়ে লিখিত নন জুডিশিয়াল স্ট্যাম্প উদ্ধারের নামে পুলিশি হয়রানি ও ইসমাইলের স্ত্রী রাইহান আক্তারের উপর হামলা চালিয়ে তাকে কুপিয়ে পিটিয়ে আহত করা হয়। হামলায় অভিযুক্তরা হলেন ইসমাইলের বড় ভাই ইব্রাহীম খলিল, ছোট ভাই মনির হোসেন, ইব্রাহিমের স্ত্রী রাজিয়া সুলতানা, ছেলে রাহাত হোসেন ও ইসমাইলের মা আয়েশা বেগম। এ ঘটনায় আহত রাইহান আক্তার বাদী হয়ে অভিযুক্ত ৫জনকে আসামি করে নাঙ্গলকোট থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করে।
এব্যাপারে বক্তব্য নিতে অভিযুক্তদের বাড়িতে গেলে তারা কেউ ঘর থেকে বের না হওয়ায় বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।
ঘোড়াময়দান গ্রামের সমাজপতি ইদ্রিস মিয়া, নূরুল আলম, আব্দুল খালেক বলেন, ইসমাইলের প্রবাস জীবনের সব টাকাপয়সা তার ভোগ করে এখান তার বসতভিটা টুকুও দখল করতে চাচ্ছে। আমরা কয়েক দফা সালিশ বৈঠক বসে সিদ্ধান্ত দিলেও তা বাস্তবায়ন করেনি ইসমাইলের মা ও ভাইয়েরা।
স্থানীয় ইউপি সদস্য সিরাজুল ইসলাম দ্বীনু বলেন, ইসমাইলের মা ও ভাইয়েরা কারো কথা শুনেনা। আমরা বহুবার চেষ্টা করে বিষয়টি সমাধানে সফল হতে পারেনি।
জোড্ডা পশ্চিম ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান জসিম উদ্দিন মজুমদার বলেন, সর্বশেষ বিষয়টি নিয়ে থানায় বসে ইসলামী শরীয়ত অনুযায়ী পৈতৃক সম্পত্তি বন্টন করে ইসমাইলের অংশ তাকে বুঝিয়ে দেয়ার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয় এবং এ ব্যাপারে একটি হলফনামা হয়। কিন্তু ইসমাইলের মা ও ভাইয়েরা এখন পুনরায় বিষয়টি অস্বীকার করে ইসমাইলের ঘরে হামলা করে তার স্ত্রীকে আহত করেছে।
নাঙ্গলকোট থানা অফিসার ইনচার্জ আরিফুর রহমান বলেন, এ ব্যাপারে উভয় পক্ষ থানায় লিখিত অভিযোগ করেছে, তদন্ত চলমান আছে।
Please follow and like us: