, || - ||

নাঙ্গলকোটে স্বাস্থ্যখাতে চলছে নৈরাজ্য !! হুমকিতে জনস্বাস্থ্য মুদি-পানের দোকানে বিক্রি হচ্ছে জীবন রক্ষাকারী ঔষধ

প্রকাশিত হয়েছে-
প্রকাশ করেছেন- স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট, নয়া আলো।

ড্রাগ লাইসেন্স ও ব্যবস্থাপত্র ছাড়া ওষুধ বিক্রির ক্ষেত্রে কঠোর নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে নাঙ্গলকোট সহ উপজেলার প্রত্যেক বাজার এবং গ্রামাঞ্চলে আনাচে-কানাচে গড়ে উঠা চা, পান, বিড়ি, মুদির দোকানে কোন নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে অধিকাংশ ফার্মেসি চলছে প্রশিক্ষণহীন ও অদক্ষ ফার্মাসিস্ট দিয়ে যত্রতত্র গড়ে উঠা এসব দোকানে হরহামেশাই নকল ও মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ বিক্রি চলছে।

স্বল্প পূঁজির ব্যবসা ওষুধের দোকান। প্রচলিত ভাষায় যাকে ফার্মেসি বলে। সাধারণ দোকানের তুলনায় ফার্মেসি বেশ সম্মানজনক ব্যবসা। এখানে লাভও ভালো। কোম্পানিভেদে বিক্রির উপর ১২% থেকে ২৫% লাভ থাকে।

সরকার ফার্মেসী অধ্যাদেশ জারির মাধ্যমে ফার্মেসিকে একটি পেশাগত বিষয় এবং ফার্মাসিস্টদেরকে পেশাজীবি হিসেবে স্বীকৃতি প্রদান করেছেন। বর্তমানে দেশে ১৩ টি সরকারি হেল্থ ইনষ্টিটিউট ২৮ টি বেসরকারি হেল্থ ইনষ্টিটিউটে ডিপ্লোমা-ইন-ফার্মেসী শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনার জন্য বাংলাদেশ ফার্মেসী কাউন্সিল এসকল হেল্থ ইনষ্টিটিউট হতে ডিপ্লোমা-ইন-ফার্মেসী র্কোস সম্পন্ন করার পর ঔষুধের দোকানে / ফার্মেসিতে কাজ করার জন্য যোগ্য বলে বিবেচিত হয়।

সারা দেশে ওষুধ প্রশাসনের কড়া নির্দেশনা থাকলেও ওষুধ নিয়ন্ত্রণ আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে ড্রাগ লাইসেন্সবিহীন চিকিৎসকের ব্যবস্থাপত্র (প্রেসক্রিপসন) ছাড়াই দোকানে দেদারসে বিক্রি হচ্ছে বিভিন্ন প্রকার মানহীন নকল ও মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ। অনেক দোকানে মাদকাসক্তদের নিকট বিক্রি করছে নেশা জাতীয় বিভিন্ন ওষুধ। সেই সাথে নিম্নমানের নিষিদ্ধ ঔষধের ছড়াছড়িও রয়েছে ব্যাপক। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উদাসীনতা এবং তদারকি নাকরার কারণে মালিক ও কর্মচারীরাই ডাক্তারী করছে। আর প্রতারিত হচ্ছে অসহায় সাধারণ মানুষজন, হুমকিতে পড়ছে জনস্বাস্থ্য, ফলে তৈরি হচ্ছে বড় ধরণের স্বাস্থ্যঝুঁকি। এ ক্ষেত্রে আইনপ্রয়োগকারী সংস্থা ও ওষুধ প্রশাসন কর্তৃপক্ষকে নীরব দর্শকের ভূমিকায় থাকতে দেখা যায়। কয়েকদিন ধরে খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, চা ও মুদিদোকানে প্যারাসিটামল, গ্যাস্ট্রিক, শরীর ও বুকে ব্যথার মতো ওষুধ বিক্রি করছেন এসব দোকানি। এর জন্য কোনো ধরনের চিকিৎসাপত্রের প্রয়োজন পড়ছে না। শুধু রোগের উপলক্ষণ বললেই ওষুধ দিচ্ছেন এসব দোকানি। গ্রামের অসচেতন অনেক মানুষই এখন এসব দোকান থেকে ওষুধ কিনে নিজেরা সেবন করছেন। এমনকি শিশু ও বয়স্কদেরও দেয়া হচ্ছে। সামান্য মাথাব্যথা, জ্বর, কাশি,সর্দীর ওষুধ কিনতে মুদি দোকানে গেলে, তিনদিন অথবা পাঁচদিনের কোর্স দিবে। দৈনিক তিন বার খেতে হবে। প্রতিবার ৭/৮ টা করে ওষুধ। সামান্য অসুস্থতায় এত ওষুধ দেওয়ার কারন জিজ্ঞেস করলে কয়েকজন মুদি ও চায়ের দোকানদার জানান, তারা জটিল কোনো রোগের ওষুধ বিক্রি করছেন না। গ্যাস, মাথাব্যথা, জ্বর, কাশি এ ধরনের রোগের ওষুধ বিক্রি করছেন। যেটিতে ক্ষতি হওয়ার তেমন কোনো সম্ভাবনাই নেই। লোকজনের জরুরি প্রয়োজন হলে আমাদের দোকানে আসে। তাই কিছু কিছু ওষুধ রাখি নির্দিষ্ট কিছু কাস্টমারের কারনে। মুদি ও চায়ের দোকানে ওষুধ বিক্রি করতে ট্রেড লাইসেন্স ছাড়া অন্য কোনো ধরনের অনুমতির প্রয়োজন আছে বলে তারা মনে করেনা। অনেকে দোকান চালু করেছে ৮-১০ বছর। কখনও আইনপ্রয়োগকারী সংস্থা ও ওষুধ প্রশাসন কর্তৃপক্ষকে দেখেনি।

অনুসন্ধানে জানা যায়, লাইসেন্সকৃত ( বৈধ ) ফার্মেসির চেয়েও লাইসেন্স বিহীন ( অবৈধ ) ফার্মেসির সংখ্যা বেশি। লাইসেন্সের মেয়াদোত্তীর্ণ হয়ে গেছে দীর্ঘ বছর লাইসেন্স রিনিউ না করেই সরকারের নিয়ন্ত্রণের বাইরে থেকে ফার্মেসি ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে বীরদর্পে।

নাঙ্গলকোট উপজেলা সদরে গড়ে উঠা বড় বড় ফার্মেসিতে ওষুধ ক্রেতাদের লাইন এতটাই দীর্ঘ হয়ে থাকে যে ক্রেতাদের সঙ্গে ভালো করে কথা বলারও সময় পান না দেকানিরা। অনেক ফার্মেসিতে তাৎক্ষণিকভাবে একজন রোগীর প্রেসার কিংবা ডায়াবেটিক রোগীর সুগার পরীক্ষারও কোনো সরঞ্জাম নেই। আমাদের দেশের অধিকাংশ মানুষ এমনিতেই ডাক্তার, ওষুধের বিষয়ে তেমন একটা জ্ঞান রাখে না।

স্বাস্থ্যখাতে চলছে নৈরাজ্য। সিভিলসার্জন এবং ওষুধ প্রশাসনের দায়িত্ব ও কর্তব্য পালনে চরমভাবে ব্যর্থ। এমন মন্তব্য বোক্তামহলের।

স্বাস্থ্যসেবায় ডাক্তার ও নার্সের ভূমিকা যেমন গুরুত্বপূর্ণ ঠিক তেমনিভাবে ওষুধ সংরক্ষণ, গুণগতমান, সঠিক ওষুধ নির্বাচন ও ওষুধের যৌক্তিক ব্যবহার নিশ্চিতকরণের জন্য স্বাস্থ্য সেবায় ফার্মাসিস্টের ভূমিকাও অপরিহার্য। আমরা চাই ঔষধ আইনের মত একটি বিষয় আইনে অর্ন্তভূক্তি সহ পরিবেশ সম্মত সুস্থ জীবনের নিশ্চয়তা।

Please follow and like us: