সুনামগঞ্জে নিখোঁজের ৫৭ ঘন্টার পর নদীতে পাওয়া গেলো জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সদস্য ও সুনামগঞ্জ জেলা জমিয়তের সহ-সভাপতি মাওলানা মুশতাক আহমদ গাজীনগরীর (৫২) মরদেহ। শুক্রবার সকালে জেলার দিরাই উপজেলার শরীফপুর এলাকার ইটভাটার পাশে পুরতান সুরমা নদীতে ভাসমান অবস্থায় জমিয়ত নেতার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এই ঘটনাকে পরিকল্পিত হত্যাকান্ড বলে দাবি নিহতের পরিবার ও এলাকাবাসী। ঘটনার রহস্য উদঘাটন করে জড়িতদের গ্রেফতার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। এদিকে মরদেহ উদ্ধারের খবর পেয়ে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছে এলাকাবাসী।
জানা যায়, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সদস্য ও সুনামগঞ্জ জেলা জমিয়তের সহ-সভাপতি মাওলানা মুশতাক আহমদ গাজীনগরী গত ২ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার ব্যক্তিগত কাজে সুনামগঞ্জ শহরে যান। রাতে বাড়ি না ফেরায় উদ্বেগ জানিয়ে নিখোঁজের সন্ধ্যান চেয়ে পরদিন শান্তিগঞ্জ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন জমিয়ত নেতার স্ত্রী রুবি বেগম।
শুক্রবার সকাল ৮ টার দিকে দিরাই উপজেলার শরীফপুর এলাকায় পুরতান সুরমা নদীতে একটি মরদেহ ভাসতে থাকতে দেখেন স্থানীয়রা। সংশ্লিষ্ট থানায় খবর দিলে নদী থেকে মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশের উদ্ধারকারী দল। গায়ে পায়জামা ও পাঞ্জাবী পড়া মরদেহটি জমিয়ত নেতা মুশতাক আহমদের দেহ হিসেবে সনাক্ত করে পুলিশ। মরদেহটি অস্বাভাবিক ও শরীরে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা।
এদিকে জমিয়ত নেতার মরদেহ উদ্ধারে খবর ছড়িয়ে পড়লে ঘটনাস্থলৈ ছুটে আসেন পুরিবার ও এলাকার লোকজন।
ঘটনাটিকে পরিকল্পিত হত্যাকান্ড দাবি করে এর রহস্য উদঘাটের দাবি করেন সংশ্লিষ্টার।
নিহতের ভাতিজা মোহাম্মদ সাইদ বলেন, আমার চাচা মঙ্গলবার থেকে নিখোঁজ। সকালে আমাদের কাছে খবর আসে নদীতে একটি লাশ পাওয়াগেছে। ঘটনাস্থলে এসে আমরা চাচার লাশ সনাক্ত করেছি। আমার চাচাকে অপরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। আমরা এর বিচার চাই।
এমন একজন আলেমের এমন মৃত্যু কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছেন না এলাকাবাসী। দ্রুত সময়ে জড়িতদের গ্রেফতারের দাবি স্থানীয়দের।
গাজীনগর গ্রামের বাসিন্দা জিয়াউর রহমান বলেন, এটি একটি হত্যাকান্ড। এর পেছনে কারা রয়েছে পুলিশ তাদের খোঁজে বের করতে হবে।
জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম সুনামগঞ্জ জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মাওলানা তৈয়বুর রহমান বলেন, নিখোঁজ হওয়ার পর থেকে আমরা উদ্বেগ জানিয়ে আসছিলাম। আজ সেই আশঙ্কা সত্যি হয়েছে। আমাদের জমিয়দের সিনিয়র একজন নেতার এমন মৃত্যু কখনোই কাম্য নয়। দ্রুততম সময়ের মধ্যে এর রহস্য উদঘাটন করতে হবে। নতুবা আমরা সাংগঠনিকভাবে তীব্র আন্দোলন গড়ে তুলবো।
জমিয়ত নেতার মৃত্যুর কারন উদঘাটনে পুলিশ কাজ করছে। এর পেছনে কারো সম্পৃক্ততা থাকলে তাদের আইনের আওতায় নিয়ে আসা হবে বলে জানিয়েছেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার( অপরাধ)
রাকিবুল হাসান রাসেল। তিনি বলেন মরদেহ সরতহাল করে ময়নাতদন্ত পাঠাসো হয়েছে। এর পেছনের কারন উদঘাটন করতে পুলিশ তৎপর রয়েছে।
অপরদিকে জমিয়ত নেতা মুশতাক আহমদকে হত্যা করা হয়েছে দাবি করে দুপুরে শান্তিগঞ্জ উপজেলার পাথারিয়া বাজারে দিরাই সুনামগঞ্জ সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছে এলাকাবাসী। জড়িতদের দ্রততম সময়ে গ্রেফতার না করা হলে আন্দোলনের হুঁশিয়ারি এলাকাবাসী।