উজ্জ্বল রায়, নড়াইল জেলা প্রতিনিধি■:
নড়াইলে দুর্গোৎসব, নির্বিঘ্ন করতে ব্যাপক প্রস্তুতি পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন, পিপিএম’র! নড়াইলে মন্ডপে মন্ডপে ঢাকে বাড়ি, ধুপ-ধুনোচি আর কর্পূরের গন্ধ, অঞ্জলি, সন্ধিপূজা। শারদীয়া দূর্গোৎসব সুশৃংখল ও আনন্দঘন পরিবেশের মধ্য দিয়ে উদযাপনের লক্ষ্যে নড়াইল জেলা ও উপজেলায় ৫৬৩টি ম-পে অনুষ্ঠিত হবে দুর্গোৎসব। আমাদের নড়াইল প্রতিনিধি উজ্জ্বল রায় জানান, তাই সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সর্ববৃহৎ ধর্মীয় উৎসব এই দূর্গাপূজা উৎসবমূখর আয়োজনের জন্য মন্ডপগুলোতে ব্যাপকভাবে প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। নরম কাদা-মাটি দিয়ে শৈল্পিক ছোঁয়ায় তিল তিল করে গড়ে তোলা দশভূজা দেবী দুর্গার প্রতিমা তৈরির মধ্য দিয়েই দূর্গোৎসবের সব ধরণের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হওয়ায় মন্ডপে সাজসজ্জা ও প্রতিমা তৈরির কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন আয়োজক কমিটির সদস্যবৃন্দ। দিন-রাত প্রতিটি মন্ডপে প্রতিমা তৈরীতে ভাস্করেরা বিরতিহীনভাবে করে চলেছেন কাজ। অনেক মন্ডপে ইতিমধ্যে প্রতিমায় মাটির কাজ শেষে শুরু হয়েছে রূপায়নের জন্য রঙ তুলির আঁচড়। তবে এলাকায় ভাস্করদের মধ্যে প্রতিমা তৈরীতে প্রতিযোগীতা থাকায় সুন্দর করার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন তারা। গতবছরের তুলনায় অনেকেই এবার নতুন আঙ্গিকে কতকটা ভারতীয় স্টাইলে প্রতিমা তৈরি করছেন। আবার নানান রঙ আর তুলির আঁচড়ে ফুটিয়ে তোলা হচ্ছে দেবীর প্রতিচ্ছবিকে। কেউ কেউ বাঙালী সাজে মা দূর্গাকে সাজিয়ে তোলার চেষ্টা চালাচ্ছেন ভক্তবৃন্দের জন্য। এভাবেই ভক্তকূলের প্রাপ্তিযোগের আশায় মনের আনন্দে কাজের ছন্দে চলছে পার্বণের জোর প্রস্তুতি। ভাস্কর সঞ্জয় কুমার দাস, আমাদের নড়াইল প্রতিনিধি উজ্জ্বল রায়কে জানান, দূর্গাপূজাকে আকর্ষণীয় করে তোলে মূলত: মা দূর্গার প্রতিমা। মূল আকর্ষণ মা দূর্গার প্রতিমা সুন্দর হলে পূজাটাও সুন্দর কাটে ভক্তবৃন্দের নিকট। এই দূর্গা মায়ের প্রতিমায় ভক্তদের আকর্ষণ বাড়াতে প্রচুর কাঁচাপণ্যের প্রয়োজন হয়। তবে বাজারে কাঁচাপণ্যের দাম বাড়ায় এবার প্রতিমা তৈরিতে খরচ বেড়ে যাবে গতবছরের তুলনায় বেশী। পূজাকে জাঁকজমকভাবে অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে প্রতিমা তৈরি শেষ হলে শুরু হয়ে যাবে আলোকসজ্জার কাজ। বিগত বছরগুলোর ন্যায় পূজামন্ডপ ছাড়াও সড়কে আলোকসজ্জা করা হবে। নড়াইলে ৫৬৩টি ম-পে অনুষ্ঠিত হবে দুর্গোৎসব ১৪ অক্টোবর পঞ্চমীতে দেবীদূর্গার বোধনের মধ্য দিয়ে ছয় দিনব্যাপী শারদীয়া দূর্গোৎসব শুরু হবে। ১৫ অক্টোবর আমন্ত্রণ ও অধিবাস, ১৬ অক্টোবর দেবীর সপ্তমী বিহীত পূজা, ১৭ অক্টোবর দেবীর মহাঅষ্টমী, কূমারী পূজা ও সন্ধি পূজা, ১৮ ই অক্টোবর দেবীর নবমী বিহীত পূজা এবং ১৯ অক্টোবর মহাদশমীতে সন্ধ্যা আরতির পর প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হবে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের এই সর্ববৃহৎ দূর্গোৎসব। দেবী দূর্গা এবার ঘোটকে আগমণ ও দোলায় গমন করবেন।অপেক্ষার পালা শেষ হতে আর বেশি সময় নেই। শারদীয় দুর্গাপূজার ম-পগুলোতে শুরু হয়েছে প্রতিমা গড়ার কাজ। সেই সঙ্গে চলছে ম-পের অবকাঠামো তৈরি। পূজা উপলক্ষে সবচেয়ে বেশি ব্যস্ত সময় পার করছেন মৃৎশিল্পীরা। তাদের চোখে ঘুম নেই। খড়, মাটি, বাঁশ, কাঠ ও সুতলি দিয়ে প্রতিমা গড়ায় ব্যস্ত। কাঁচা প্রতিমা গড়া হলে তা শুকানোর জন্য কিছুদিন সময় নিতে হয়। এরপর প্রতিমা রঙ করে কাপড় পরানো এবং সাজসজ্জার কাজ শুরু হবে। মৃৎশিল্পীরা মনের মাধুরী দিয়ে প্রতিমা তৈরি করে চলেছেন। কথা হয় নড়াইলের লক্ষ্মীপাশা শ্রী শ্রী সিদ্ধেশ্বরী কালিমাতা মন্দিরের দুর্গাম-পে কর্মরত মৃৎশিল্পী কুন্দশী গ্রামের অরবিন্দু পালের সঙ্গে। তিনি, আমাদের নড়াইল প্রতিনিধি উজ্জ্বল রায়কে জানান,এ বছর দশটি ম-পে দুর্গা প্রতিমা নির্মাণ করছেন। তিনি বলেন, রঙসহ অন্যান্য সামগ্রীর দাম বেড়ে যাওয়ায় প্রতিমা তৈরিতে খরচ বেড়ে গেছে। আগামী ৪ অক্টোবর মহালয়ার মাধ্যমে দুর্গাপূজার আনুষ্ঠানিকতা শুরু হবে। ১৪ অক্টোবর ষষ্ঠি পূজার মধ্য দিয়ে পাঁচ দিনব্যাপী দুর্গোৎসব শুরু হয়ে ১৮ অক্টোবর বিসর্জনের মাধ্যমে শেষ হবে। নড়াইলের লোহাগড়া পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি ও জেলা পরিষদ সদস্য প্রবীরকুমার কু-ু মদন, আমাদের নড়াইল প্রতিনিধি উজ্জ্বল রায়কে জানান, নড়াইলের লোহাগড়া পৌরসভাসহ ১২টি ইউনিয়নে এ বছর ১৬১টি ম-পে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে। এর মধ্যে নড়াইলের লোহাগড়া পৌর এলাকার ৩৮টি ম-পে দুর্গাপূজা হতে যাচ্ছে। গতবারের চেয়ে এ বছর ছয়টি ম-প বেশি। সরেজমিনে নড়াইলের লক্ষ্মীপাশা, কচুবাড়িয়া, রামপুর, জয়পুর, কুন্দশী, চোরখালি, ছাতড়া ও নড়াইলের লোহাগড়া এলাকার দশটি ম-প ঘুরে দেখা গেছে, ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনায় পূজার আয়োজন চলছে। ম-প কমিটির সদস্যদেরও ব্যস্ততা বেড়ে গেছে। মাইক ও ডেকোরেটরের দোকানগুলোতে পূজার বায়না নিয়ে তোড়জোড় শুরু হয়েছে। এ প্রসঙ্গে নড়াইলের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন, পিপিএম, আরো উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম, পিপিএম, সহকারি পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মোঃ মেহেদী হাসান, সহকারি পুলিশ সুপার (হেডকোয়ার্টার্স) মোঃ জালাল উদ্দিন, সহকারি পুলিশ সুপার (প্র.বি.) মোঃ ইশতিয়াক আহম্মেদ, নড়াইল সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনোয়ার হোসেন, ডিবি পুলিশের ওসি আশিকুর রহমান। নড়াইলের দুর্গাপূজাকে নির্বিঘ্ন করতে পুলিশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে কোন মন্দিরই ঝুঁকিপূর্ণ নয়। তারপরেও সব মন্দিরগুলোকে আমরা নিরাপত্তার বলয় দ্বারা বেষ্টনী করে রাখব। আমাদের এখানে যথেষ্ট পরিমাণ পুলিশ ফোর্স ও আনসার সদস্য দায়িত্ব পালনের সাথে সাথে প্রত্যেক মন্দিরের পূজা কমিটির স্বেচ্ছাসেবক বাহিনী থাকবে। এই স্বেচ্ছাসেবক বাহিনীর সদস্যকে ছবি সম্বলিত আইডি কার্ড দিব, তারা বুকে ঝুলিয়ে রাখলে আমাদের আইডি ফিকেশন করতে সহজ হবে। ষষ্ঠী থেকে বিসর্জন পর্যন্ত মন্দিরের ভিতর বা আশেপাশে কোন ব্যাগ বা অবৈধ জিনিসপত্র নিয়ে ঢুকতে না পারে তার জন্য দেহ তল্লাশীর ব্যবস্থা থাকবে। তিনি আরো বলেন, আসন্ন শারদীয়া দূর্গোৎসব আমরা সবাই আনন্দের সঙ্গে সবাই মিলে এক সঙ্গে উদযাপন করব। ২০১৮ সালের দূর্গা পূজা সকলের জন্য মঙ্গল বয়ে আনবে আমি এই কামনা করি। নড়াইলের পুলিশ প্রশাসন দুর্গাপূজা উপলক্ষে পূজা উদযাপন পরিষদের নেতাসহ ম-প কমিটির সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেছেন। এ প্রসঙ্গে নড়াইলের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন, পিপিএম, আমাদের নড়াইল প্রতিনিধি উজ্জ্বল রায়কে জানান, নড়াইলে ৫৬৩টি ম-পে অনুষ্ঠিত হবে দুর্গোৎসবকে নির্বিঘ্ন করতে পুলিশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে ব্যাপক তপর। দয়া করে নিউজটি সেয়ার করবেন।