আন্তরিকতার অভাবেই পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি আজও পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়িত হয়নি—এমন অভিযোগ তুলেছেন পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি (জেএসএস) নেতারা। তাদের দাবি, চুক্তির অনেক ধারা বাস্তবায়িত না হওয়ায় পাহাড়ে স্থায়ী শান্তি ফিরছে না; বরং অবিশ্বাস ও অস্থিরতা এখনো বিদ্যমান।
রবিবার (৩০ নভেম্বর ২০২৫) সকালে খাগড়াছড়ির তেঁতুলতলায় সংগঠনটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের কনফারেন্স রুমে চুক্তির ২৮ বছর উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ তোলেন জেএসএস নেতারা। লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন জেএসএস কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক সুধাকর ত্রিপুরা।
জেএসএস নেতাদের দাবি অনুযায়ী—মোট ৭২টি ধারার মধ্যে, ৩৪টি ধারা সম্পূর্ণ বাস্তবায়িত,১৫টি আংশিক বাস্তবায়িত,৯টি বাস্তবায়নের প্রক্রিয়াধীন,আর বাকি ধারাগুলো এখনো অবাস্তবায়িত রয়ে গেছে।এ কারণে তারা গভীর ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
বক্তারা বলেন—১৯৯৭ সালের ২ ডিসেম্বর স্বাক্ষরিত পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি দীর্ঘ ২৮ বছরে দুই-তৃতীয়াংশই অবাস্তবায়িত।
২০০৯ সাল থেকে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকার দীর্ঘ সময় রাষ্ট্রক্ষমতায় থাকলেও চুক্তির মৌলিক বিষয়গুলো বাস্তবায়ন হয়নি।এছাড়া ‘২৪-এর ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর গঠিত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারও চুক্তি বাস্তবায়নে কোনো উদ্যোগ নেয়নি বলে অভিযোগ তোলেন তারা।
সংবাদ সম্মেলনে যে মৌলিক বিষয়গুলোর বাস্তবায়নে জোর দেওয়া হয়—পার্বত্য চট্টগ্রামের উপজাতীয় অধ্যুষিত এলাকার বৈশিষ্ট্য সংরক্ষণ।আঞ্চলিক পরিষদ ও তিন পার্বত্য জেলা পরিষদের কার্যাবলী পুরোপুরি হস্তান্তর ও নির্বাচন আয়োজন।ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশন আইনের বিধিমালা চূড়ান্তকরণ।
অভ্যন্তরীণ জুম্ম উদ্বাস্তু ও ভারত প্রত্যাগত শরনার্থীদের জায়গা-জমি ফিরিয়ে দেওয়া এবং পুনর্বাসন।সংশ্লিষ্ট সব আইন চুক্তির সাথে সামঞ্জস্য রেখে সংশোধন।অ-স্থানীয়দের দেওয়া ভূমি ইজারা বাতিল।পার্বত্য অঞ্চলের সকল চাকরিতে স্থায়ী অধিবাসী জুম্মদের অগ্রাধিকার নিশ্চিত করা।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন—
সহ-সভাপতি সুভাষ কান্তি চাকমা, সহ-সাধারণ সম্পাদক সুদর্শন চাকমা, রাঙামাটি জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক জুপিটার চাকমা, খাগড়াছড়ি জেলা কমিটির সভাপতি শোভা কুমার চাকমা, সাধারণ সম্পাদক প্রীতি খীসা, সদর থানা কমিটির সভাপতি সুনীল চাকমা, পিসিপির সভাপতি সুজন চাকমা ঝিমিট, যুব সমিতির সভাপতি জ্ঞান প্রিয় চাকমা, হিল উইমেন্স ফেডারেশনের আহ্বায়ক মায়া চাকমা, মহিলা সমিতির সাধারণ সম্পাদক রত্মা তঞ্চগ্যা প্রমুখ।
Please follow and like us: