বুধবার , ৬ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ২৩শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ - গ্রীষ্মকাল || ১৮ই জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি

পুলিশের সহায়তায় উল্টো পথে গাড়ি যাচ্ছে হাটিকুমরুল ন্যাশনাল ফুড ভিলেজে-বন্ধ করবে কে?

প্রকাশিত হয়েছে-
প্রকাশ করেছেন- স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট, নয়া আলো।

শাহিন রেজা:
সিরাজগঞ্জের হাটিকুমরুল মহাসড়কে দুর্ঘটনার নতুন আরেক ‘মরণফাঁদ’ তৈরি হয়েছে। উন্নত মহাসড়ক, বাড়তি হাইওয়ে পুলিশ, সিসিটিভি নজরদারি সব কিছু থাকার পরও কমছে না দুর্ঘটনা। বরং নতুন নতুন অদৃশ্য অব্যবস্থাপনা ও প্রভাবশালী চক্রের কারণে বেড়েই চলেছে ঝুঁকি।

সাম্প্রতিক সময়ে হাটিকুমরুল এলাকার মহাসড়কের পাশে অভ্যন্তরীণ সংযোগ সড়কগুলো হয়ে উঠেছে ভারি যানবাহনের উল্টো পথে চলাচলের প্রধান রুট। বিশেষ করে হাটিকুমরুল থেকে পাঁচলিয়া আন্ডারপাস পর্যন্ত সংযোগ সড়ক দিয়ে দূরপাল্লার যাত্রীবাহী বাসগুলো উল্টো পথে ন্যাশনাল ফুড ভিলেজ হোটেলে আসা-যাওয়া করছে প্রতিনিয়ত। সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো এই উল্টো পথে চলাচল হচ্ছে হাটিকুমরুল হাইওয়ে থানার সামনেই, পুলিশের চোখের সামনে।

সরেজমিনে দেখা যায়, ঢাকাগামী অনেক বাস পাঁচলিয়া আন্ডারপাস হয়ে সংযোগ সড়ক ব্যবহার করে আসে ন্যাশনাল ফুড ভিলেজে। সেখানে বিরতি নিয়ে আবারও উল্টো পথে মহাসড়কে ফিরে যায়। এসব বাসের অধিকাংশই দূরপাল্লার এসি, নন-এসি ও স্লিপার সার্ভিস। প্রশ্ন উঠেছে মহাসড়কের এই বিপজ্জনক উল্টো পথের চলাচলে কেনো কোনো বাধা নেই, কেনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না প্রশাসন?

ন্যাশনাল ফুড ভিলেজ হোটেলের মালিক আল-আমিন সরকার দাবি করেছেন, উল্টো পথে গাড়ি যাওয়ার বিষয়ে প্রশাসনের কোনো আপত্তি নেই। কেউ কখনো নিষেধ করেনি। তারা জানে গাড়িগুলো এখানে আসে, আবার ফিরে যায়। তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট হয়-প্রশাসন ও হোটেল মালিকপক্ষের মধ্যে এক প্রকার ‘সমঝোতা’ রয়েছে, যার কারণে নিয়ম ভাঙা যেন এখন বৈধতা পাচ্ছে।

বাসচালকরা বলছেন, হোটেল থেকে ইউ-টার্ন নেওয়ার আগে সামান্য অংশ উল্টো পথে যেতে হয়, আর সে বিষয়টি পুলিশ জানে। এমনকি, তাদের কেউ কখনো বাধা দেয়নি। স্থানীয়দের অভিযোগ, হোটেল মালিক প্রশাসনকে ‘ম্যানেজ’ করেই ভারি যানবাহনগুলোকে এভাবে চলাচলের সুযোগ দিচ্ছেন। ফলে প্রতিনিয়ত বাড়ছে দুর্ঘটনার ঝুঁকি।

এই বিষয়ে হাটিকুমরুল হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইসমাইল হোসেন বলেন, ন্যাশনাল ফুড ভিলেজের মালিক আমাদের কাছে ১৫ দিনের সময় নিয়েছেন। তারা নিজেরাই এই সমস্যা সমাধান করবেন। কিন্তু প্রশ্ন থেকে যায় আইন ভাঙার জন্য কেউ ‘সময়’ নিতে পারে কীভাবে?

এদিকে বগুড়া রিজিয়ন হাইওয়ে পুলিশের এসপি (অতিরিক্ত ডিআইজি) মো. শহীদুল্লাহ জানিয়েছেন, আমি নিজে গিয়ে ছবি তুলে এনেছি। খুব দ্রুতই উল্টো পথে যানবাহন চলাচল ও রাস্তার পাশে গড়ে ওঠা অবৈধ দোকানপাট উচ্ছেদে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

হাটিকুমরুল মহাসড়ক বাংলাদেশের অন্যতম ব্যস্ততম ট্রানজিট পয়েন্ট। প্রতিদিন হাজারো যানবাহন চলাচল করে এই পথে। অথচ এর মাঝেই আইন অমান্য করে উল্টো পথে চলাচল এখন নিয়মিত চিত্র হয়ে দাঁড়িয়েছে। দুর্ঘটনার আশঙ্কা প্রতিনিয়ত বাড়ছে, অথচ প্রশাসন শুধু প্রতিশ্রুতিতেই সীমাবদ্ধ।

মহাসড়কে দুর্ঘটনা রোধে শুধু অবকাঠামোগত উন্নয়নই যথেষ্ট নয় প্রয়োজন কঠোর মনিটরিং, জবাবদিহি ও প্রভাবশালীদের আইনের আওতায় আনা। না হলে ‘ন্যাশনাল ফুড ভিলেজ’ এর মতো আরও অনেক ‘মরণফাঁদ’ তৈরি হতে বেশি সময় লাগবে না।

Please follow and like us: