, || - ||

ফার্নিচার দেওয়ার নামে লাখ লাখ টাকা নিয়ে উধাও সিরাজগঞ্জে রোকনের বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ

প্রকাশিত হয়েছে-
প্রকাশ করেছেন- আশরাফুল ইসলাম জয়, স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট ।

ফার্নিচার তৈরি করে দেওয়ার কথা বলে অগ্রিম টাকা নেওয়ার পর মাসের পর মাস ঘুরানো, ফার্নিচার না দেওয়া এবং টাকা ফেরত চাইলে ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ উঠেছে সিরাজগঞ্জ শহরের এক ফার্নিচার ব্যবসায়ী মো. রোকনের বিরুদ্ধে। শুধু একজন নয়, তার বিরুদ্ধে একই কায়দায় একাধিক ব্যক্তির কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা নেওয়ার অভিযোগও উঠেছে।

এ ঘটনায় মো. রোকনের বিরুদ্ধে সিরাজগঞ্জ সদর থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন সাংবা‌দিক মো. আশরাফুল ইসলাম। অভিযোগে রোকনের বাবা মো. লোকমানকেও অভিযুক্ত করা হয়েছে।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, সিরাজগঞ্জ শহরের মিরপুর বিড়লা কুঠির মসজিদসংলগ্ন এলাকায় রোকন ফার্নিচার নামে একটি দোকান রয়েছে। তি‌নি মালশাপাড়া মেছুয়া বাজার এলাকায় বসবাস ক‌রেন। মিরপু‌রের ওই দোকানের মাধ্যমে পরিচয়ের সূত্র ধরে গত ৪ জুন পরিবারের জন্য একটি বুক সেলফ, একটি খাট ও একটি টেবিল তৈরির বিষয়ে রোকনের সঙ্গে ৩২ হাজার টাকায় মৌখিক চুক্তি করেন সাংবাদিক আশরাফুল ইসলাম।

চুক্তি অনুযায়ী, ৫ জুন কাঠ কেনার কথা বলে রোকন তার কাছ থেকে ১০ হাজার টাকা নেন। পরে ৭ আগস্ট আবার কাঠ কেনার কথা বলে আরও ১০ হাজার টাকা নেন। টাকা নেওয়ার সময় সাত দিনের মধ্যে ফার্নিচার তৈরি করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও নির্ধারিত সময় পার হওয়ার পরও ফার্নিচার তৈরি করে দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি।

আশরাফুল ইসলামের অভিযোগ, পরবর্তীতে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও রোকন বিভিন্ন অজুহাতে সময়ক্ষেপণ করতে থাকেন। একপর্যায়ে ফার্নিচার তৈরি না ক‌রে ২০ হাজার টাকাও ফেরত দিতে অস্বীকৃতি জানান।

টাকা ফেরত চাওয়ার পর তাকে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি ও হুমকি দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন আশরাফুল ইসলাম। এ বিষয়ে কথোপকথনের কল রেকর্ডসহ বিভিন্ন তথ্য-প্রমাণ রয়েছে এবং তদন্তের প্রয়োজনে সেগুলো পুলিশকে দেওয়া হবে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

শুধু সাংবাদিক আশরাফুল ইসলাম নন, রোকনের বিরুদ্ধে একই ধরনের অভিযোগ করেছেন সিরাজগঞ্জ পৌর শহরের মিরপুর মহল্লার শিক্ষক আব্দুল জলিল। তাঁর কাছ থেকেও ফার্নিচার তৈরি করে দেওয়ার কথা বলে ৩০ হাজার টাকা নেওয়ার পর ফার্নিচার না দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। তিনিও বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বলে জানা গেছে।

অভিযোগকারী আশরাফুল ইসলাম বলেন, ফার্নিচার দেওয়ার কথা বলে দুই দফায় আমার কাছ থেকে ২০ হাজার টাকা নেওয়া হয়েছে। বারবার সময় দেওয়ার পরও ফার্নিচার দেওয়া হয়নি, টাকাও ফেরত দেওয়া হয়নি। টাকা ফেরত চাইলে উল্টো ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে। আমি এর সুষ্ঠু তদন্ত ও আমার টাকা ফেরতের পাশাপাশি অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা চাই।

অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, রোকন একইভাবে আরও কয়েকজনের কাছ থেকে ফার্নিচার তৈরি করে দেওয়ার কথা বলে টাকা নিয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগকারীর দাবি, স্থানীয়ভাবে খোঁজ নিয়ে তিনি জানতে পেরেছেন প্রায় ১৫ থেকে ২০ জন ব্যক্তি রোকনের কাছে টাকা দিয়েছেন এবং তাদের কাছ থেকে নেওয়া টাকার পরিমাণ আনুমানিক ১০ থেকে ১৫ লাখ টাকা হতে পারে।

এ বিষয়ে সিরাজগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ রা‌কিবুল ইসলাম বলেন, সাংবাদিক আশরাফুল ইসলামের লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। অভিযোগটি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অভিযোগকারীর ভাষ্য, ফার্নিচার ব্যবসার আড়ালে এ ধরনের প্রতারণার মাধ্যমে একাধিক মানুষ আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে থাকলে বিষয়টি তদন্ত করে প্রকৃত ভুক্তভোগীদের শনাক্ত করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে টাকা নিয়ে ফার্নিচার না দেওয়া এবং পাওনা টাকা ফেরত চাইলে ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগেরও তদন্ত দাবি করেছেন তিনি।

এদিকে অভিযোগ ওঠার পর রোকনের বক্তব্য জানতে তার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি তিনি ফোন বন্ধ রে‌খে‌ছেন।

Please follow and like us: