দিনাজপুরের ফুলবাড়ীতে তিনদিন ধরে চলা ভ্রাম্যমাণ বইমেলা বৃহস্পতিবার (৩০এপ্রিল) শেষ হয়েছে। সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় এবং বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্র-এর উদ্যোগে আয়োজিত এই মেলা ছোট-বড় সবার কাছে হয়ে উঠেছিল এক অন্যরকম আকর্ষণের কেন্দ্র। এর আগে মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) বিকেল ৪টায় মেলার উদ্বোধন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আহমেদ হাছান। ভ্রাম্যমাণ বইমেলা ইউনিটের সংগঠক মো. রুহেল আমিনের সঞ্চালনায় উদ্বোধনী পর্বে স্থানীয় শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও সংস্কৃতি প্রেমীরা অংশ নেন।
উপজেলা পরিষদ মিলনায়তন প্রাঙ্গণে সাজানো এই মেলায় প্রবেশ করতেই চোখে পড়ে বইয়ের সারি, আর চারপাশে পাঠক-পাঠিকাসহ কৌতূহলী দর্শনার্থীদের ভিড়। গল্প, উপন্যাস, কবিতা, বিজ্ঞান, ইতিহাস-বিভিন্ন ধরণের প্রায় ১৫০টি প্রকাশনার ১০ হাজারেরও বেশি বই নিয়ে সাজানো হয়েছিল এই ভ্রাম্যমাণ বই মেলার আয়োজন। প্রতিদিন দুপুর ১২টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত মেলা ছিল সবার জন্য উন্মুক্ত।
শুধু বই কেনাবেচা নয়, মেলাকে ঘিরে ছিল নানা আয়োজনও। গত বুধবার মেলার দ্বিতীয় দিনে শিশু-কিশোরদের জন্য অনুষ্ঠিত হয় চিত্রাঙ্কন ও আবৃত্তি প্রতিযোগিতা। রঙ-তুলিতে আর কণ্ঠের আবৃত্তিতে মুখর হয়ে ওঠে পুরো মেলা প্রাঙ্গণ। বৃহস্পতিবার (৩০এপ্রিল) পুরস্কার বিতরণের মধ্য দিয়ে শেষ হয় এই তিনদিনের বই উৎসব।
আয়োজকরা জানান, গ্রামীণ জনপদে বই পৌঁছে দেওয়া এবং পাঠাভ্যাস গড়ে তোলাই এই ভ্রাম্যমাণ বইমেলার মূল উদ্দেশ্য। ডিজিটাল যুগে যখন বই পড়ার অভ্যাস কিছুটা কমে যাওয়ায় এমন উদ্যোগ নতুন প্রজন্মকে বইমুখী করতে সহায়ক হবে বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বৈরি আবহাওয়ার মধ্যেও শেষ দিনে এসে মেলায় ভিড় আরও বেড়েছে। কেউ শেষ মুহূর্তে পছন্দের বই কিনছেন, কেউবা শুধু বইয়ের গন্ধ আর পরিবেশটুকু উপভোগ করছেন। তিনদিনের এই ছোট্র আয়োজন যেন ফুলবাড়ীর মানুষকে আবার মনে করিয়ে দিল-বই এখনও জীবনের এক অনন্য সঙ্গী।