সোমবার , ২০শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ৭ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ - গ্রীষ্মকাল || ২রা জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি

বাংলাদেশে সংখ্যালঘু বলে কোনো শব্দ নেই: ধর্ম বিষয়ক উপদেষ্টা

প্রকাশিত হয়েছে-
প্রকাশ করেছেন- মাসুদ রানা রাব্বানী, রাজশাহী, করেসপন্ডেন্ট।

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ধর্ম বিষয়ক উপদেষ্টা ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন বলেছেন, বাংলাদেশে সব ধর্মের লোক তাদের নিজ নিজ ধর্ম পালন করবে, এটা তাদের সাংবিধানিক অধিকার। কেউ তাতে বাধা দিলে আমরা তা প্রতিহত করবো। একটি চক্র বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে জনগণের কাছে অগ্রহণযোগ্য করতে চায়। তারা বৈশি^ক মিডিয়াকে বলছে বাংলাদেশে সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠী ধর্ম পালনে বাধাপ্রাপ্ত হচ্ছে। আমরা স্পষ্ট করে বলে দিতে চাই, বাংলাদেশে সংখ্যালঘু বলে কোনো শব্দ নেই। আমরা সবাই বাংলাদেশী।
রাজশাহীতে তিনদিনের সরকারি সফরের অংশ হিসেবে সোমবার সকালে দারুসসালাম কামিল মাদ্রাসা পরিদর্শন এবং শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সাথে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন।
খালিদ হোসেন আরও বলেন, অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং মুহূর্তে আমরা দায়িত্ব নিয়েছি। সংস্কার কার্যক্রম চালানোর জন্য আমরা আপ্রাণ চেষ্টা করে যাচ্ছি। স্বাভাবিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা আনয়নের জন্য আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি। দেশের মানুষের ভোটাধিকার ফিরিয়ে আনতে চাই। রাষ্ট্র-সংস্কার হয়ে গেলে জনগণের ভোটে নির্বাচিত রাজনৈতিক দলের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করে এই অন্তর্বর্তীকালীন সরকার বিদায় নিবে। আমরা আপনাদের সহযোগিতা চাই। ইনসাফ ভিত্তিক বৈষম্যহীন রাষ্ট্র-কাঠামো দাঁড় করাতে চাই।
মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের প্রশংসা করে ধর্ম উপদেষ্টা বলেন, এই মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ অত্যন্ত নিষ্ঠার সাথে তাদের কাজ করে যাচ্ছে। মাদ্রাসা ও সাধারণ শিক্ষার্থীরা বৈষম্যের বিরুদ্ধে আন্দোলন করেছেন। আমি একজন মাদ্রাসার ছাত্র হিসেবে গর্ববোধ করি। নানা ধরনের বৈষম্যের শিকার হওয়া সত্ত্বেও মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা দেশের বড় বড় সেক্টরে সফলতার সাথে দায়িত্ব পালন করছে। শিক্ষা কারিকুলামে সাধারণ শিক্ষার পাশাপাশি ধর্মীয় শিক্ষাকেও গুরুত্ব দিতে হবে।
সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষার উপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, সকল ধর্মের মানুষ যেন ভালোভাবে নিজ ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান পালন করতে পারে সে বিষয়ে আমাদের লক্ষ্য রাখতে হবে। আসন্ন দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে যেকোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি সুবিচার নিশ্চিত করা হবে। আমরা দেখেছি ঢাকা শহরের মন্দিরে মাদ্রাসার ছাত্ররা পালাক্রমে পাহারা দিয়েছে। অতীতে যেমন দুর্যোগ-দূর্বিপাকে মাদ্রাসার ছাত্ররা অংশগ্রহণ করেছে, ভবিষ্যতেও তারা তাদের অবদান রাখতে সক্ষম হবে মর্মে তিনি আশাপ্রকাশ করেন।
অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার মোহাম্মদ কবির উদ্দীন এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন রাজশাহী বিশ^বিদ্যালয়ের আরবি বিভাগের প্রফেসর ড. মোঃ নিজাম উদ্দীন। স্বাগত বক্তব্য রাখেন দারুসসালাম কামিল মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মওলানা জাকির হোসেন। বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী, শিক্ষক-শিক্ষার্থী, সুধী জনসহ প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
পরে তিনি সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন।

Please follow and like us: