বাউল সম্প্রদায়ের উপর সাম্প্রতিক হামলা, নির্যাতন এবং কবর থেকে মরদেহ উত্তোলন করে উল্লাসের মতো বিভৎস ঘটনাকে কেন্দ্র করে সিরাজগঞ্জে প্রতিবাদের ঢেউ উঠেছে। এসব ঘটনার মাধ্যমে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ভেঙে দেওয়ার অপচেষ্টা চলছে এ অভিযোগ তুলে গানে গানে প্রতিবাদ জানিয়েছে সিরাজগঞ্জ লালন সংসদ।
শনিবার (২৯ নভেম্বর) বিকেল সাড়ে তিনটায় শহরের স্থানীয় পাবলিক লাইব্রেরি চত্বরে অনুষ্ঠিত হয় ব্যতিক্রমী গানে গানে প্রতিবাদ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
মানববন্ধনে বাউল দর্শনের চিরায়ত মানবতাবাদ, ভালোবাসা ও সম্প্রীতির বার্তা তুলে ধরা হয়। শিল্পীরা ধারাবাহিকভাবে প্রতিবাদী গান পরিবেশন করে জানান, বাউল ঐতিহ্যকে আঘাত করা মানে বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক ভিত্তিকে আঘাত করা। এ সময় এলাকাবাসী, সাংস্কৃতিক কর্মী, শিক্ষার্থী ও বিভিন্ন সংগঠনের মানুষ একাত্মতা প্রকাশ করে মানববন্ধনে অংশ নেন।
সমাবেশে বক্তব্য দেন সিরাজগঞ্জ গণহত্যা অনুসন্ধান কমিটির আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা সাইফুল ইসলাম। তিনি বলেন, এই বাংলার মাটি বহু যুদ্ধ-সংগ্রামে রক্ত ঝরিয়ে স্বাধীন হয়েছে। সেই দেশে বাউলদের উপর হামলা, গানের মানুষের মরদেহ কবর থেকে তুলে উল্লাস এ যেন মানবতা ও সংস্কৃতির উপর সরাসরি আঘাত। এই তামসার বিরুদ্ধে আমাদের সবাইকে অবস্থান নিতে হবে।
আইনজীবী মাহবুবে খোদা টুটুল বলেন, সংস্কৃতি কখনোই ধর্মবিরোধী নয়। বাউলরা প্রেম, মানবতা ও সহমর্মিতার কথা বলেন। যারা তাদের উপর হামলা করছে তারা আইনের চোখে অপরাধী। রাষ্ট্রকে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে।
প্রসূন থিয়েটারের সাধারণ সম্পাদক নাট্য ব্যক্তিত্ব লায়লা ফেরদৌস ফিমেল বলেন, সাম্প্রদায়িক অপশক্তি বিভিন্ন সময় বিভিন্ন আকারে মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে। বাউলদের উপর এই আক্রমণ সেই অপশক্তিরই অংশ। সংস্কৃতিসচেতন সমাজকে আরও সংগঠিত হতে হবে।
চেতনায় বাউল সিরাজগঞ্জের বুলবুল আহমেদ বলেন, মানুষের প্রতি ভালোবাসাই বাউল দর্শনের মূল কথা। কিন্তু এখন সেই ভালোবাসার পথ রুদ্ধ করার চেষ্টা চলছে। আমরা গান দিয়ে, মানবতার শক্তি দিয়ে প্রতিবাদ জানাই।
সিরাজগঞ্জ লালন সংসদের যুগ্ম সম্পাদক মনজুর শাহীন বলেন, আজকের মানববন্ধন শুধু প্রতিবাদ নয়, এটি পুনর্জাগরণের ডাক। যারা বাউলের গানে, দর্শনে বিশ্বাস করে তাদের ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।
শিল্পীরা একের পর এক প্রতিবাদী গান পরিবেশন করে মানববন্ধনস্থলে বাউল দর্শনের আবহ তৈরি করেন। ‘মানুষ ভজলে সোনার মানুষ হবে’ ‘ধর্মের মাঝে মানুষ খুঁজো’ এমন চিরন্তন বাণীধর্মী গানগুলোতে বাউল দর্শনের সার্বজনীনতা তুলে ধরা হয়।
সভা থেকে বাউল সম্প্রদায়ের উপর সকল প্রকার হামলা-নির্যাতনের বিচার দাবি করা হয়। একই সঙ্গে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষায় প্রশাসনের আরও দৃঢ় ভূমিকা নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়।
মানববন্ধনে সিরাজগঞ্জ লালন সংসদের শিল্পীবৃন্দসহ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠনের শতাধিক মানুষ অংশ নেন। গানে গানে প্রতিবাদের এই ব্যতিক্রমী আয়োজন সিরাজগঞ্জে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি করে।









