শুক্রবার , ১লা মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ১৮ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ - গ্রীষ্মকাল || ১৩ই জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি

বাগেরহাটে ছেলের বিরুদ্ধে মায়ের সংবাদ সম্মেলন

প্রকাশিত হয়েছে-
প্রকাশ করেছেন- কামরুজ্জামান শিমুল, বাগেরহাট জেলা করেসপন্ডেন্ট।
বাগেরহাটে ছেলের বিরুদ্ধে গর্ভধারিনী মায়ের সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। বাগেরহাট প্রেসক্লাবের সম্মেলন কক্ষে বিচারক ছেলের বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষিকা মোসাম্মৎ রাহেলা বেগম। ছেলের বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত হয়ে বক্তব্য দিতে কষ্টে বুক ফেটে যাচ্ছে বলে সংবাদ সম্মেলনে উল্লেখ করেন এই অসহায় মা। লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন সহ্যের একটা সীমা আছে, আজ সেই সীমা অতিক্রম করেছে। আমার একটি কন্যা ও একটি পুত্র সন্তান রয়েছে। কন্যা সন্তানটি গুলসানারা বেগম। আমার সাথে বাড়িতেই থাকে এবং পুত্র সন্তানটি সাতক্ষীরা জেলার অতিরিক্ত জেলা জজ আবু বক্কার সিদ্দিক লালন। ৮ মাস পূর্বে স্বামীর মৃত্যুর হয়। বর্তমানে বিচারক ছেলের নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে কোথাও কোন প্রতিকার না পেয়ে সর্বশেষ সাংবাদিকদের দ্বারস্ত হয়েছি।
সর্বশেষ বাগেরহাট জেলা সদরের খানপুর মৌজায় আমার ও আমার স্বামীর নামে থাকা ২ বিঘা সম্পত্তি একমাত্র কন্যা গুলশানারাকে ভোগ দখল করতে দিয়েছি। কিন্তু ওই জমির দলিল চুরি করে আমার ছেলে অবৈধ উপায়ে নিজৈর নামে কবলা করে নিয়েছে। বিষয়টি জানতে পেরে আমি আমার ছেলের নামে আদালতে একটি মামলা করেছি। ওই সম্পত্তির মধ্যে কিছু জমি ভিপি জমি রয়েছে। সে ওই জমিও তার নামে কবলা করে নিয়েছে।
গত ৬-৭ বছর পূর্বে ওই জমির উপর আমার মেয়ে পাঁচ তলা ফাউন্ডেশন দিয়ে বাড়ি নির্মান শুরু করে। সে সময় খানপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের নেত্রী কারিমা বেগম, আওয়ামী লীগ নেতা রবিউল ইসলাম রতন, আলী শেখ, পারভিন বেগম , ইকবাল হাওলাদার, আল মামুনসহ ৫০ – ৬০ জন সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা নির্মাণাধীন ভবনের মালামাল লুট করে নিয়ে যায়। এরা আওয়ামী লীগের নেতা হওয়ায় সে সময়ে তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ দিয়ে কোন প্রতিকার পাইনি। ছেলের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে আরো বলেন, ৭-৮ বছর পূর্বে ভুল বুঝিয়ে তার পেনশনের সমস্ত টাকা তার ছেলে আত্মসাৎ করে। প্রতিবাদ করলে মারপিট ও অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে।
আমাদের পক্ষে কেউ কথা বললে তাকেও হুমকি ধামকি ও মারপিট করতে উদ্যত হয়। পেটের ছেলের এমন কর্মকাণ্ড লোক লজ্জার ভয়ে এতদিন প্রকাশ করি নাই। বিচারক হওয়ায় স্থানীয় প্রশাসন তার কথায় চলে। সে আমাকে ও আমার কন্যাকে একেবারে সহ্য করতে পারে না। সে আওয়ামী লীগ নেতা কারিমা ও তার স্বামী জুলফিকারকে আমাদের হত্যার জন্য প্রকাশ্যে নির্দেশ দিয়েছে। আমাদের কুঁড়ে ঘরটির সামনে তার নির্দেশে কারিমা ও জুলফিকার রাস্তা কেটে খাল খনন করেছে। ফলে বাড়ি থেকে বের হওয়ার রাস্তা বন্ধ হয়ে গিয়েছে।
তিনি সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে বর্তমান সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ও আইন উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেন। কারিমা তার স্বামী জুলফিকার এবং বিচারক ছেলের হাত থেকে বাঁচার অধিকার চেয়ে সকলের সহযোগিতা কামনা করেন সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত বৃদ্ধা এই অসহায় মা।
Please follow and like us: