“এদেশের মানুষ একাত্তরের মহান স্বাধীনতা সংগ্রামের মধ্যদিয়ে সাম্যের ভিত্তিতে যে বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন দেখেছিলো স্বাধীনতার ৫৪ বছরেও তা হয়নি বরং গুম,খুন,মামলা,হামলা ও ভয়ের সংস্কৃতি গড়ে তোলে বিগত ফ্যাসিস্ট সরকার ৪১সাল পর্যন্ত ক্ষমতায় থাকার দম্ভে দেশের মানুষের উপর অমানবিক অত্যাচার চালিয়েছে। কিন্তু এদেশের ছাত্র-জনতা ২৪ এর গণ-আন্দোলনের মুখে ফ্যাসিস্ট সরকারকে ক্ষমতা ছেড়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য করেছে। তাই আসুন আমরা সকলে মিলে মানবিক মর্যাদা ও সাম্যের ভিত্তিতে একটি রাষ্ট্র নির্মাণে নিজেদেরকে নিয়োজিত করি।
শনিবার (১৬ আগস্ট) বিকেল ৫টায় দিনাজপুরের ফুলবাড়ী উপজেলার গোলাম মোস্তফা (জিএম) পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের অডিটরিয়ামে গণসংলাপ ও পদযাত্রা অনুষ্ঠানের প্রধান বক্তা হিসেবে এসব কথা বলেন,গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকি।
সাকি বলেন, আমাদের তরুণ শিক্ষার্থীর উদ্দ্যেশে কিছু বলতে চাই। আজ আমাদের সাথে যুক্ত হয়েছেন তরুণ শিক্ষার্থীরা। এটা আমাদের আনন্দের বিষয়। আমাদের তরুণরা বিরাট রাজনীতি সচেতন হয়ে উঠছেন। আমরা ২৪ এর অভ্যুত্থানে দেখিছি তাদের ভূমিকা। বৃটিশ ঔপনিবেশিক আন্দোলনে,ভাষা আন্দোলনের সময়,ষাটের দশকে শিক্ষা আন্দোলনে, ৬৯ এর আন্দোলনে,৭১ এর মুক্তিযুদ্ধে,৮০ দশকসহ ৯০ এর স্বৈরাচার পতনের আন্দোলনে বিশেষ করে ২৪ এর গণ-অভ্যুত্থান ফ্যাসিবাদ বিরোধী আন্দোলনে তরুনরা নিজেদের রক্ত দিয়ে জীবন দিয়ে যে ইতিহাস সৃষ্টি করেছে তার তুলনা করা কঠিন।
তিনি আরও বলেন, আমরা ৫৪ বছর ধরে দেখেছি সব নাগরিককে সাম্য মানবিক মর্যদা প্রতিষ্ঠার লড়াই করতে, কিন্তু তা হয়নি। মানবিক মর্যাদা আজও প্রতিষ্ঠিত হয়নি। অথচ সংবিধান অনুযায়ী মানুষের মানবিক মর্যাদা দিবে রাষ্ট্র। আমাদের ছাত্ররা চেয়েছিল কোটা নিয়ে বৈষম্য আমরা মানিনা। সবার সামনে পুলিশ দিয়ে গুলি করে আবু সাইদকে হত্যা করা হয়েছে। শুধু এটা না বিগত ১৫ বছরে ধরে দিনের পর দিন সত্য কথা বলার জন্য নিজের পছন্দের রাজনৈতিক অধিকারের জন্য,পছন্দের দল করার জন্য কিভাবে একটি সরকার পরিকল্পিতভাবে রাষ্টীয় বাহিনী দিয়ে গুম, খুন, ত্রাস, ভয় সৃষ্টি করে, হত্যা করে গদি টিকিয়ে রাখতে চেয়েছিল তা আপনারা দেখেছেন।
সাকি আরও বলেন, আমরা সেদিন সবাই রাজ পথে ছিলাম কিন্তু সেদিন তরুণ ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান আমাদের সবাইকে সাহসী করে তুলেছিল। গুলি কিংবা হত্যা কোনটাই ছাত্র-জনতাকে দমাতে পারেনি। তাই ওই জগদ্দল পাথর যিনি প্রায় ৪১ সাল পর্যন্ত ক্ষমতা নিশ্চিত করে বসেছিলেন এবং বলেছিলেন শেখ হাসিনা পালায়না। তাকে আপনারা ছাত্র-জনতা লড়াই করে পালিয়ে যেতে বাধ্য করেছেন। এই যে বিরাট অর্জন,সেই অর্জন বা লড়াই কী আবার বেহাত হবে? আমাদের লড়াই কী বেহাত হবে? আমাদের লড়াই যদি আমরা না বেহাত হতে দিতে চাই তাহলে আমাদের এই তরুণদের ভূমিকার আবারো প্রয়োজন আছে, থাকবেই।
গণসংহতি আন্দোলনের নেতা বলেন, ‘অন্তর্র্বতী সরকারকে শুরু থেকে বলে আসছিলাম যে, জনগণের শক্তির ওপর ভর করে আপনারা ক্ষমতায় এসেছেন, তাই জনগণকে আপনাদের ঐক্যবদ্ধ রাখতে হবে। কিন্তু এই রাষ্ট্রের মধ্যে নানা ধর্মের দোসররা এখনও টিকে আছে। তারা অন্তর্র্বতী সরকারকেও ঢিলেঢালা অবস্থা তৈরি করে দিয়েছে।’
সাকি আরও বলেন, ‘দেশে মব সন্ত্রাস চলে,এখন সাধারণ মানুষের নিরাপত্তার জায়গা থাকছে না। মব সৃষ্টি করে ঘটানো ঘটনাবলিকে একে একে পুঁজি করতে করতে এখন খুনিরাও তাদের মাথা উঁচু করতে শুরু করেছে। তবে খুনিদের মাথা উঁচু করতে দেওয়া যাবে না।’‘বাংলাদেশের প্রত্যেকটা খুনের বিচার হতে হবে। জুলাই আন্দোলনে শহীদদের পরিবার বারবার হত্যার বিচার চাইছে। কিন্তু কোনো বিচার হচ্ছে না। এর দায় কে নেবে। ‘দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে যদি জনগণ ঘরে ফিরে যায়, তবে আবু সাঈদের রক্তের সঙ্গে বেইমানি করা হবে। আমাদের সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।
গণসংহতি আন্দোলনের ফুলবাড়ীর আহ্বায়ক মাহমুদ হাসান বাবুর সভাপতিত্বে এবং সদস্য সচিব আব্দুল মোত্তালিব পাপ্পু’র সঞ্চলনায় বিচার, সংস্কার ও নির্বাচন একসাথে চলতে হবে, বৈষম্যহীন ও অন্তর্ভূক্তিমূলক বাংলাদেশ,অধিকার ও মর্যাদার বাংলাদেশ, জনগণের বাংলাদেশ এই স্লোগানকে ধারণ করে আয়োজিত গণসংলাপ ও পদযাত্রা কর্মসূচিতে অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন গণসংহতি আন্দোলনের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সম্পাদকমন্ডলীর সদস্য বাচ্চু ভূঁইয়া, দিনাজপুর জেলা কমিটির সংগঠক সৈয়দ সাইফুল ইসলাম জুয়েল, দিনাজপুর জেলা কমিটির আহবায়ক এ্যাডভোকেট সুলতান মাহমুদ শিশির, বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশনের ফুলবাড়ী উপজেলা শাখার সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির আহবায়ক সাকিরুল ইসলাম শাকি, যুগ্ম আহবায়ক মোহাম্মদ হৃদয় হাসান স্বাধীন প্রমুখ। গণসংলাপ ও পদযাত্রায় কৃষক, শ্রমিক, ক্ষেতমজুর, আদিবাসী নারী-পুরুষসহ সকল শ্রেণি ও পেশার মানুষ অংশগ্রহণ করেন। গণসংলাপ ও পদযাত্রা শেষে সন্ধ্যায় স্থানীয় নিমতলা মোড়ে পথ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সোমবার , ২০শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ৭ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ - গ্রীষ্মকাল || ২রা জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
বিগত ফ্যাসিস্ট সরকার গুম,খুন,হামলা,মামলা দিয়ে গদি টিকিয়ে রাখতে পারেনি ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মুখে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছে। জোনায়েদ সাকি
প্রকাশিত হয়েছে- প্রকাশ করেছেন- মোঃ আবু শহীদ, ফুলবাড়ী,দিনাজপুর করেসপন্ডেন্ট।
Please follow and like us: