উজ্জ্বল রায়- দশমহাবিদ্যা’র প্রথম রূপটি কালী এবং তিনিই দশ মহাবিদ্যার মধ্যে সর্বাধিক প্রচারিতা। বৃহদ্ধর্মপুরাণে সতীর কালীতে রূপান্তরের যে বর্ণনা আছে তা এইঃ দেখতে দেখতে শিবানী সতী তাঁর সোনার বরণ ত্যাগ করে অন্ধকার কাজলের মতো রঙ ধারণ করলেন। তাঁর সমস্ত দেহ রোমাঞ্চিত। তিনি পীনোন্নতা পয়োধরা। তীব্র যৌবনমদে তিনি মহেশ্বরকেও অগ্রাহ্য করেছিলেন। মুক্তকেশা, বিবসনা, বীরত্বব্যঞ্জক চতুর্বাহু যুক্তা, দেহভারে পর্বতকেই যেন কম্পিত করে সেই সতী দেবী পদ্মলোচনা শ্যামায় রূপান্তরিতা হয়েছিলেন। এবং ভূত্বা সতী দেবী শ্যামা কমললোচনা। শিবসমা দ-ায়মানা যে কালীমূর্তির সঙ্গে আমরা বহু পরিচিত, দশমহাবিদ্যার ‘কালীতে’ আমরা তাঁকে পাই না। মার্ক-েয় পুরাণ অন্তর্গত সপ্তশতী চ-ীতে যে কালীর বর্ণনা আছে, তাতেও শিবের সঙ্গে কালীমূতির কোন সম্পর্ক দেখি না। দেবী চ-িকা যখন চ- ও মু-কে বধ করতে উদ্যত, তখন তাঁর ক্রুদ্ধ ভ্রূকুটি-কুটিল ললাটদেশ থেকে কালী নির্গতা হয়েছিলেন। তিনি ভীষণবদনা। হাতে তাঁর খড়্গ ও পদ্ম। তিনি ‘বিচিত্র খট্টাঙ্গ ধরা, নরমালা বিভূষণা, দ্বীপি-চর্ম-পরিধানা শুষ্ক মাংসাতি ভৈরবা।’ বিচিত্র নরকঙ্কাল ধারিণী। গলায় নরমু-ের মালা। ব্যাঘ্র চর্ম পরিহিতা, মাংসশূন্যা, অস্থি-চর্মময় তাঁর শরীর। আমরা প্রাণ-প্রাচুর্যে ভরপুর মা কালীর যে যৌবনময়ী রূপের সঙ্গে পরিচিত, চ-িকার কপাল থেকে উদ্ভূতা কালীর এই শুষ্ক রূপের সঙ্গে তাঁর বিশেষ সাদৃশ্য নেই। এই দেবী চ–মু-কে বধ করে তাদের ছিন্ন শির দেবী চ-িকাকে উপহার দিলেন।
রবিবার , ১৯শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ৬ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ - গ্রীষ্মকাল || ১লা জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
বিচিত্র অন্ধকার কাজলের মতো রঙ রূপটি কালীর
প্রকাশিত হয়েছে- প্রকাশ করেছেন- খোরশেদ আলম চৌধুরী, স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট।
Please follow and like us: