নাজিম হাসান,রাজশাহী প্রতিনিধি:
রাজশাহী অঞ্চলের কৃষকরা বোরো ধান আবাদে ব্যস্ত সময় পার করছেন। চলতি বছর আবহাওয়া বোরো চাষের অনুকুলে থাকা ও বীজতলা ভাল হওয়ায় এ অঞ্চলের কৃষকরা আগাম বোরো চাষ করেছেন। তারা ৩০ হতে ৪০ দিন বয়সী চারা বাজার থেকে কেনে ও নিজেই তৈরী করে জমিতে রোপন করছেন। চাষিরা বলছেন শেষ পর্যন্ত আবহাওয়া অনুকুলে এবং বিদ্যুৎ সরবরাহ ঠিক মতো থাকলে সুষ্ঠুভাবে বোরো ধান ফসল ঘরে তুলতে পারবেন তারা। রাজশাহী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো শামসুল হক বলেন,এবার অনুকূল আবহাওয়ার কারণে বোরো ধানের বাম্পার ফলন হবার সম্ভনা রয়েছে। চলতি বছর জেলায় ৭৫ হাজার ১৬৬ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ হয়েছে। যা গত বছরের চেয়ে আবাদ বেড়েছে ৭ শতাংশ। এর থেকে এক লাখ ৯৬ হাজার মেট্রিক টন বোরো ধান উৎপাদন লক্ষমাত্রা ধরা হয়েছে। তবে আবহাওয়া অনুকুলে থাকলে ভালো ফলনের আশা করছেন জেলা কৃষি বিভাগও। গতকাল শনিবার (২৯ ফেব্রুয়ারি) সকালে জেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখাগেছে,মাইলের পর মাইল কৃষকের স্বপ্ন সবুজ বোরো ধানের চারায় মাট ভরে গেছে। এবং বাতাসের সঙ্গে দোল খেয়ে বড় হচ্ছে কৃষকের স্বপ্ন। তারা বোরো ধান চাষে লাভের মুখ দেখবেন বলে আশা প্রকাশ করছেন। দুর্গাপুরের আনোলিয়া গ্রামের কৃষক লিটন হোসেন,আমজাদ ও আছের আলী বলেন, এবার আমরা মাঘ মাসের শেষের দিকে জমিতে বরো ধান চাষ করেছি। এবং গভীর নলকুপের পানি দিয়ে আমাদের জমিতে চাষাবাদ করতে হয়। এবং মৌসুমের প্রথম দিকে সবাই একসাথে জমিতে চারা রোপন করতে নলকুপের উপর কিছুটা চাপ পড়ছে। যদি আল্লাহ রহমতে আবহাওয়া অনুকূল থাকে তাহলে বোরো ধানের বাম্পার ফলন হবার সম্ভনা রয়েছে। পুঠিয়া উপজেলার শিলমাড়িয়া গ্রামের কৃষক রহমান,জব্বার,সেলিম ও আক্কেল আলী বলেন, বোরো ধানের জমি চাষ ও রোপন,পানি সেচ এবং কাটা-মাড়াইসহ বাবদ প্রায় ১২ হাজার থেকে ১৪ হাজার টাকা বিঘা প্রতি খরচ হয়ে থাকে। এবং বিঘা প্রতি ফলন হয় ১৮-২০ মন ধান। বর্তমান বাজারে ধানের দাম সর্বোচ্চ এক হাজার ৫০ টাকা করে। তবে যাদের নিজস্ব জমি আছে তাদের কিছু থাকে। কিন্তু যাদের জনি নাই এবং যারা বর্গাচাষী তাদের কিছুই থাকেনা। এতে করে প্রতিবছর আমাদের লোকসান গুনতে হয়। সরকার যদি সরাসরি কৃষকের কাছ থেকে ধান কেনে তাহলে ন্যায্য দাম পাওয়া যাবে। এবং লাখের মুখ দেখা যাবে। এবিষয়ে রাজশাহী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো শামসুল হক বলছেন,জেলার বিভিন্ন উপজেলায় প্রতি বছর বোরো ধানের বাম্পার ফলন হয়ে থাকে। বর্তমান কৃষি বান্ধব সরকার কৃষি ও কৃষকের উন্নয়নে বিভিন্ন সময়ে নানা ধরনের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। এ মৌসুমে আবহাওয়া অনুকুলে রয়েছে। ফলে শীত এবং কুয়াশার প্রকোপ অনেক কম থাকায় বোরো ধানের চারা ক্ষতিগ্রস্থ্য হয়েছে কম। এবং চারাও সুস্থ সবল হয়েছে। যদি কোন প্রাকৃতিক দুর্যোগ না ঘটে তাহলে এবছরও বোরো ধানের বাম্পার ফলনের আশা করা যাচ্ছে।
রবিবার , ৩১শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ১৭ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ - গ্রীষ্মকাল || ১৩ই জিলহজ, ১৪৪৭ হিজরি
বোরো আবাদে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন রাজশাহীর কৃষকরা
প্রকাশিত হয়েছে- প্রকাশ করেছেন- প্রেস বিজ্ঞপ্তি।Please follow and like us: