মানবকল্যানের লক্ষ্যে শ্রীমন মহাপ্রভুর আদর্শ ছড়িয়ে দেয়ার আশা প্রকাশ করেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহদাত হোসেন।
বুধবার(৪ মার্চ) চট্টগ্রাম নগরীর জেএমসেন হলে শ্রীমন্ মহাপ্রভুর আবির্ভাব উদযাপন পরিষদের উদ্যোগে আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এই মন্তব্য করেন।
অনুষ্টানে মহান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম ৯(বাকলিয়া-কোতোয়ালী) আসনের সংসদ সদস্য আবু সুফিয়ান ও ভারতীয় সহকারী হাই কমিশন, চট্টগ্রামের সহকারী হাই কমিশনার ডা. রাজীব রঞ্জন।
আবির্ভাব উদ্ যাপন পরিষদের সভাপতি সুজিত কুমার বিশ্বাসের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন স্থপতি কানু কুমার দাশ।
সভায় অতিথি হিসেবে আরো উপস্থিত ছিলেন, বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী এড্ ভোকেট সুব্রত চৌধুরী।
ধর্মীয় আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, অধ্যাপক ড. রনজিত কুমার সুত্রধর, অধ্যাপক ড. উজ্জ্বল কুমার দেব, অধ্যাপক স্বদেশ চক্রবর্ত্তী, উত্তম কুমার চক্রবর্ত্তী।
সভায় মেয়র বলেন, শ্রী চৈতন্য মহাপ্রভু কেবল ধর্মীয় চরিত্র নন, তিনি সাহিত্য ও দর্শনেরও এক চিরন্তন অনুপ্রেরণা। বহু কবি ও সাহিত্যিক তার মানবিকতা ও প্রেমভাবকে গভীর শ্রদ্ধায় মূল্যায়ন করেছেন। তিনি কেবল ধর্মীয় আন্দোলনের পুরোধা নন, তিনি হলেন এক যুগস্রষ্টা।
চট্টগ্রামের আপামর সনাতনী সমাজকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করে মেয়র আরো বলেন, সদ্য সমাপ্ত নির্বাচনে আপনারা মানে চট্টগ্রামের সনাতন ধর্মাবলম্বীরা সতস্ফুর্তভাবে ভোট কেন্দ্রে গিয়ে নিজেদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন এইজন্য আপনাদের ধন্যবাদ জানায় এবং এর পাশাপাশি আগামীতে মেয়র নির্বাচনেও আপনাদের ভোটাধিকার প্রয়োগের মাধ্যমে নিজেদের মতামত তুলে ধরার জন্য অনুরোধ জানাচ্ছি।
আবু সুফিয়ান বলেন, মহাপ্রভু সৌহার্দ্য এবং ভাতৃত্বের প্রচার শুরু করেছিলেন তার থেকে অনুপ্রেরণা নিয়ে আমরা এই চট্টগ্রামের সকল ধর্মের মানুষের মাঝে ওই সৌহার্দ্যের আদর্শ ছড়িয়ে দিতে আমরা কাজ করবো।
ডা. রাজীব রঞ্জন বলেন, ভারত-বাংলাদেশের মধ্যে আত্মার সম্পর্ক রয়েছে এবং ভবিষ্যতে তা আরো ঘনিষ্টতা লাভ করবে।
সভায় বক্তারা বলেন, একবিংশ শতাব্দীর আধুনিক যুগে মানুষ প্রযুক্তিগত উন্নতিতে এগিয়ে গেলেও মানসিক শান্তি, সহনশীলতা ও মানবিক মূল্যবোধে প্রায়ই সংকটে পড়ে। এই প্রেক্ষাপটে আজও চৈতন্য মহাপ্রভুর দর্শন বিশেষভাবে প্রাসঙ্গিক। আজকের সমাজে ধর্মীয় অসহিষ্ণুতা, হিংসা ও বিভেদের যে চিত্র দেখা যায়, তার বিপরীতে চৈতন্য মহাপ্রভুর জীবন-দর্শন থেকে উপলব্ধ হয় প্রেম, সহমর্মিতা ও সমতার আদর্শ। তাঁর নামসংকীর্তনের ভাবধারা আমাদের শেখায়- একসঙ্গে গাওয়া, একসংগে মহাপ্রসাদ আস্বাদন করা এবং পারস্পরিক ভেদাভেদ ভুলে মানবতার বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে একসঙ্গে আনন্দ করে মানব জীবনের পরম লক্ষ্য- মোক্ষ লাভ করা। সামাজিক ও ব্যক্তি জীবনে আধুনিক মানুষের একাকিত্ব, হতাশা ও মানসিক অস্থিরতার মধ্যে চৈতন্যের প্রেমভক্তি শান্তি ও আশ্রয়ের পথ দেখাতে পারে। আত্মকেন্দ্রিকতার পরিবর্তে অন্যের কল্যাণে নিজেকে উৎসর্গ করার শিক্ষা আজও সমানভাবে মূল্যবান যা মহাপ্রভু তাঁর জীবনে মানব সেবায় নিজেকে নিয়োজিত করে শিক্ষা দিয়েছেন।
আজও চৈতন্য মহাপ্রভুর আদর্শ আমাদের মনে করিয়ে দেয়- ধর্মের আসল সার্থকতা মানুষের প্রতি ভালোবাসা। শ্রীমন্ মহাপ্রভু বৈষ্ণব ধর্ম ও মানবিক চেতনায় এক যুগান্তকারী প্রেমময়পুরুষ। তাঁর আবির্ভাব শুধু একটি ঐতিহাসিক ঘটনা নয়, বরং প্রেম, ভক্তি ও সৌভ্রাতৃত্বের এক মহাজাগরণের সূচনা। তাই শ্রীমন্ মহাপ্রভুর আবির্ভাব উৎসব উদযাপন কেবল ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠান নয়- এটি সামাজিক, নৈতিক ও আধ্যাত্মিক দৃষ্টিকোণ থেকেও অপরিহার্য মহামিলনের এক উৎসব। সেই লক্ষ্যে আমাদের প্রচেষ্টা শ্রীমন মহাপ্রভুর আবির্ভাব উৎসব মহাসমারোহে উদ্যাপন করে বাংলা তথা বিশ্ববাসীর কাছে মহাপ্রভুর প্রবর্তিত নাম সংকীর্তন প্রচার করে প্রেম ধর্মের পরিপূর্ণ বিকাশ সাধন করা যার মাধ্যমে মানবজীবনের অপরিমেয় শান্তি, অশেষ কল্যাণ ও সর্বাবস্থায় মঙ্গল প্রতিষ্ঠা পাবে।
সভায় আরো উপস্থিত ছিলেন, প্রকৌশলী মৃদুল বনিক, প্রকৌশলী রাজীব দাশ, প্রকৌশলী লিটন দাশ শর্মা, নারায়ণ চন্দ্র চন্দ, সুভাস মুহুরী, কাঞ্চন কুমার দাশ, ডা. সুভাষ চন্দ্র রায়, রাজীব আইচ, অধ্যাপক অঞ্জন দাশ, পরিমল চৌধুরী, উজ্জ্বল সুশীল, পল্টু বিশ্বাস, শুভ শর্মা সহ অন্যান্যরা।
বৃহস্পতিবার , ৩০শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ১৭ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ - গ্রীষ্মকাল || ১২ই জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
মানব কল্যানের লক্ষ্যে শ্রীমন্ মহাপ্রভুর আদর্শে আদর্শিত হতে হবে- মেয়র শাহদাত হোসেন
প্রকাশিত হয়েছে- প্রকাশ করেছেন- স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট, নয়া আলো।
Please follow and like us: