বাগেরহাটের যাত্রাপুর বাজারে বিএনপি অফিস দখলে রেখে ভাড়া আদায়কে কেন্দ্র করে দুই গ্রুপের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে। আইন শৃঙ্খলা রক্ষার স্বার্থে দ্রুত অফিস ছেড়ে দিতে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে আহ্বান জানিয়েছেন যাত্রাপুর ইউনিয়ন বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি মোল্লা আব্দুল হান্নান। মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) সকালে যাত্রাপুর ইউনিয়ন বিএনপি কার্যালয়ে বিএনপি অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীদের উপস্থিতিতে তিনি এই আহ্বান জানান।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, যাত্রাপুর বাজারের শাহ জামালের দোকান ঘরটি ২০০২-০৮ সাল পর্যন্ত ছাত্রদল ও যুবদলের অফিস হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে। ২০০৮ সালে সরকার পরিবর্তনের পর স্থানীয় জাতীয় পার্টির নেতা মাহবুবুর রহমান লিটন এবং মাসুদুর রহমান বাবু নগদ ১ লক্ষ টাকা জামানত নিয়ে ২৫শ টাকা মাসিক চুক্তিতে দোকানটি স্থানীয় শাহ জামালের নিকট ভাড়া দিয়ে অবৈধভাবে লাভবান হচ্ছে। কয়েকবার করে দোকানটি ছাত্রদল ও যুবদলের অফিস রেজিস্ট্রি করতে গেলেও লিটন ও বাবুর কারণে সম্ভব হয়নি।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর স্থানীয় বিএনপি অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের সকল পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ মিলে অফিস ছেড়ে দিতে লিটন ও বাবুকে অনুরোধ করা হলেও অফিস ছেড়ে না দিয়ে তারা নেতাকর্মীদের হুমকি ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করছে। বিষয়টি নিয়ে যাত্রাপুর বাজারে আইন শৃঙ্খলা অবনতির সম্ভাবনা রয়েছে। লিটন ও বাবু সুবিধাবাদী লোক। তারা সব সময় সব সরকারের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের সাথে যোগাযোগ রেখে এলাকায় প্রভাব বিস্তার করে থাকে। এবারে নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থীর পক্ষে কাজ করে এলাকার বিএনপি নেতা কর্মীদের ভয় ভীতি পরিদর্শন করেছে। অফিসের কাছে গেলে বিএনপি নেতা কর্মীদের দেখে নিবে মর্মে হুমকি ধামকি অব্যাহত রেখেছে।
বাজারের অনেক জমি তারা অবৈধভাবে জোরপূর্বক দখলে রেখে ভাড়া আদায় করছে। বিভিন্ন অনৈতিক কাজের অভিযোগ রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে। তারা স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা অবনতি ঘটিয়ে বর্তমান সরকারকে বেকায়দায় ফেলার চেষ্টায় লিপ্ত রয়েছে। সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে এ বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করতে বাগেরহাট জেলা বিএনপি নেতৃবৃন্দ এবং প্রশাসনের প্রতি অনুরোধ জানান তারা।
ওই সময় আরো উপস্থিত ছিলেন, যাত্রাপুর ইউনিয়ন বিএনপি’র সহ-সভাপতি জমাদ্দার আবুল হোসেন, যাত্রাপুর বাজার কমিটির সাধারণ সম্পাদক ও যুবদল নেতা মনিরুজ্জামান সোহাগ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক খান মোহাম্মদ বাদশা, নাসির আহমেদ মোহন, যাত্রাপুর ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি শেখ মিজান, শেখ আল মামুন, শেখ নাসির উদ্দিন, শেখ আরিফ, শেখ ফজলুর রহমান, শাহিদ শেখ, জিহাদুল ইসলাম এজাজ, মশিউর রহমান, তানভীর হোসেন সহ বিএনপি অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীবৃন্দ।