বৃহস্পতিবার , ৭ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ২৪শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ - গ্রীষ্মকাল || ১৯শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি

যে মেলায় ক্রেতা শুধু নারীরাই!

প্রকাশিত হয়েছে-
প্রকাশ করেছেন- মোঃ আবু শহীদ, ফুলবাড়ী,দিনাজপুর করেসপন্ডেন্ট।
মেলা মানেই এক অন্যরকম অনুভুতি, মেলা মানেই আনন্দ উদ্দিপনা । আর সেই মেলা যদি হয় শুধুমাত্র নারীদের জন্য, তাহলে তো কৌতুহলটা একটু অন্যরকম। এমনি এক শত বছরের ঐতিহ্যবাহী বউ মেলা বসেছিলো দিনাজপুরের ফুলবাড়ীতে। মঙ্গলবার (৭ অক্টোবর) ফুলবাড়ী পৌর এলাকার সুজাপুর সর্বজনীন দুর্গামন্দির চত্বরে দিন ব্যাপী এই মেলার আয়োজন করা হয়।
জানা গেছে, প্রতি বছর লক্ষীপূজা উপলক্ষে পূজার পরের দিন, দিনব্যাপী এই মেলার আয়োজন করা হয়।  নারী বিক্রেতার পাশাপাশি পুরুষ বিক্রেতা থাকলেও এ মেলায় শুধু নারীরাই কেনা কাটা করতে পারেন। মেলায় পুরুষ ক্রেতাদের প্রবেশাধিকার নিষিদ্ধ, সেকারনেই মেলার নাম করণ হয়েছে “বউ মেলা”। মেলার আগের দিন পুরো এলাকায় মাইকিং করে প্রচার করা হয়।
সকাল থেকে চলে মেলার প্রস্তুতি। দুপুর গড়িয়ে বিকেল হওয়ার সাথেই শিশু থেকে শুরু করে নানা বয়সের নারীরা মেলায় ভীড় জমাতে থাকে। মেলা জুড়ে শামিয়ানা টানিয়ে নানা রকম পণ্যের পরসা সাজিয়ে বসে দোকানিরা। এ মেলায় মেয়েদের প্রসাধনী, ছোটদের খেলনাসামগ্রী, হস্তশিল্প, মৃৎ শিল্প আর গৃহস্থালির নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রীসহ রকমারি মুখরোচক খাবারের দোকান বসে। মেলায় শুধুমাত্র হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা নয়, ভীড় করে অন্যন্য ধর্মাবলম্বী নারীরাও।
মেলায় কেনাকাটা করতে আসা অনেকে জানান, এ মেলায় শুধু নারীরাই ক্রেতা। রয়েছেন অনেক নারী বিক্রেতাও। তাই প্রতি বছর তারা মেলায় সাচ্ছন্দে কেনা কাটা করতে আসেন। এ যেন অন্যরকম আনন্দ।
মেলার আয়োজক সুজাপুর সর্বজনীন দুর্গা মন্দির পরিচালনা কমিটির সভাপতি অশেষ রঞ্জন দাস বলেন, লক্ষীপুজা উপলক্ষে প্রতি বছর এই বউমেলার আয়োজন করা হয়। শত বছর আগে স্থানীয় জমিদার বিমল বাবু এই মেলা শুরু করেন, এরপর থেকে তাদের পূর্ব পুরুষরা এ মেলার আয়োজন করে আসছে। এই মেলা শুধুমাত্র নারীদের জন্য এবং এখানে পুরুষের প্রবেশ নিষেধ। তবে মেলা শেষ হওয়ার পর সন্ধ্যা ৭টার পর থেকে পুরুষরা প্রবেশ করতে পারে। মেলার নিরাপত্তার জন্য স্বেচ্ছাসেবক দিয়ে সার্বক্ষণিক নজরদারী রাখা হয়।
Please follow and like us: