সোমবার , ২০শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ৭ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ - গ্রীষ্মকাল || ২রা জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি

রাজশাহীতে বিচারকপুত্র হত্যা: পুলিশ কমিশনারকে আদালতের তলব

প্রকাশিত হয়েছে-
প্রকাশ করেছেন- মাসুদ রানা রাব্বানী, রাজশাহী, করেসপন্ডেন্ট।

রাজশাহীতে বিচারকপুত্র তাওসিফ রহমান হত্যা মামলার আসামি পুলিশ হেফাজতে থাকা অবস্থায় গণমাধ্যমে ভিকটিমকে দোষারোপ করে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ করে দেওয়ায় রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশ (আরএমপি) কমিশনার মোহাম্মদ আবু সুফিয়ানকে তলব করেছেন আদালত।
শনিবার (১৫ নভেম্বর) রাজশাহীর রাজপাড়া থানার আমলী আদালতের ম্যাজিস্ট্রেট মো. মামুনুর রশিদ এই আদেশ দেন। আগামী ১৯ নভেম্বরের মধ্যে পুলিশ কমিশনারকে সশরীরে আদালতে হাজির হয়ে এ বিষয়ে ব্যাখ্যা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আদালতের আদেশে বলা হয়েছে, পুলিশ হেফাজতে থাকা অবস্থায় আসামি লিমন মিয়া বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় ভিকটিমকে দায়ী করে বক্তব্য দিয়েছেন। আদালত মনে করেন, এটি সুপ্রিম কোর্টের আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নি বনাম রাষ্ট্র (৩৯ বিএলডি ৪৭০)’ মামলার নির্দেশনার সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। পুলিশ হেফাজতে থাকা আসামিকে গণমাধ্যমের সামনে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ করে দেওয়ায় আরএমপি কমিশনারের বিরুদ্ধে কেন আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে না, তার কারণ দর্শানোর জন্য তাকে তলব করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ১৩ নভেম্বর রাজশাহী মহানগর দায়রা জজ মোহাম্মদ আব্দুর রহমানের ১৭ বছর বয়সী ছেলে তাওসিফ রহমানকে নগরীর ডাবতলা এলাকার বাসায় ঢুকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করেন লিমন মিয়া। এ সময় তাওসিফের মা, বিচারকের স্ত্রী তাসমিন নাহার লুসিকেও গুরুতর আহত করা হয়। ঘটনার পরপরই পুলিশ লিমনকে গ্রেফতার করে এবং তিনি বর্তমানে পুলিশের হেফাজতে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
এই ঘটনায় শুক্রবার (১৪ নভেম্বর) নিহত তাওসিফের বাবা মহানগর দায়রা জজ আব্দুর রহমান বাদী হয়ে রাজপাড়া থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় লিমন মিয়াকে একমাত্র আসামি করা হয়েছে।
প্রাথমিক তথ্যানুযায়ী, লিমন সেনাবাহিনীর একজন সাবেক সৈনিক এবং বিচারকের পরিবারের পূর্বপরিচিত ছিলেন। আর্থিক লেনদেন সংক্রান্ত বিরোধের জেরে এই হত্যাকা- ঘটে থাকতে পারে বলে ধারণা করা করছে পুলিশ ।
আদালত কর্তৃক একজন পুলিশ কমিশনারকে তলবের এই ঘটনা বিচার বিভাগীয় এবং প্রশাসনিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। আইনের শাসন এবং সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশনা মেনে চলার গুরুত্ব এই আদেশের মাধ্যমে পুনরায় প্রতিষ্ঠিত হলো বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

 

Please follow and like us: