শুক্রবার , ১৫ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ১লা জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ - গ্রীষ্মকাল || ২৭শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি

রাজশাহীতে যথাযোগ্য মর্যাদায় মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উদযাপন

প্রকাশিত হয়েছে-
প্রকাশ করেছেন- মাসুদ রানা রাব্বানী, রাজশাহী, করেসপন্ডেন্ট।

মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে সারাদেশের মতো রাজশাহীতেও বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে দিবসটি যথাযোগ্য মর্যাদায় উদযাপিত হয়েছে। সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি ভবনে জাতীয় পতাকা উত্তোলন, জেলা পুলিশ লাইন্স মাঠে ৩১ বার তোপধ্বনি এবং কালেক্টরেট চত্বরে শহিদ স্মৃতিফলকে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে দিনের কর্মসূচি শুরু হয়।
সূর্যোদয়ের সময় রাজশাহী কালেক্টরেট চত্বরে শহিদ স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু। পরে বিভাগীয় প্রশাসন, সিটি কর্পোরেশন প্রশাসন, জেলা প্রশাসন, পুলিশ বিভাগসহ বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি দপ্তর, সামাজিক, সাংস্কৃতিক, রাজনৈতিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন পৃথকভাবে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করে।
সকাল সাড়ে ৮টায় মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতি স্টেডিয়ামে জাতীয় সংগীত পরিবেশনের সঙ্গে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন বিভাগীয় কমিশনার ড. আ. ন. ম. বজলুর রশীদ। এরপর তিনি কুচকাওয়াজ পরিদর্শন ও সালাম গ্রহণ করেন। অনুষ্ঠানে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে তিনি স্বাধীনতার ঘোষক বীর মুক্তিযোদ্ধা শহিদ জিয়াউর রহমানসহ সকল শহিদ বীর মুক্তিযোদ্ধাকে গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন। পাশাপাশি আহত ও জীবিত মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতিও শ্রদ্ধা জানান এবং ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনে শহিদদের স্মরণ করেন।
বিভাগীয় কমিশনার বলেন, মহান স্বাধীনতা দিবস বাঙালি জাতির ইতিহাসে এক অবিস্মরণীয় দিন। ১৯৭১ সালের এই দিনে দীর্ঘদিনের শোষণ-বঞ্চনা ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে বাঙালি জাতি স্বাধীনতার জন্য চূড়ান্ত লড়াই শুরু করে। লাখো শহিদের আত্মত্যাগ, অসংখ্য মা-বোনের ত্যাগ এবং সাধারণ মানুষের সংগ্রামের মধ্য দিয়ে অর্জিত হয় স্বাধীন বাংলাদেশ।
তিনি আরও বলেন, রাজশাহী বিভাগ শিক্ষা, কৃষি ও সংস্কৃতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছে। এই অগ্রযাত্রা আরও বেগবান করতে সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন। একই সঙ্গে দুর্নীতি, অন্যায় ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে সোচ্চার থাকার আহ্বান জানান তিনি।
অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্বে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা মনোজ্ঞ ডিসপ্লে পরিবেশন করে। পরে মার্চপাস্ট ও ডিসপ্লেতে অংশগ্রহণকারী বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।
জেলা প্রশাসক আফিয়া আখতারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মোঃ মাহফুজুর রহমান রিটন, রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি মোহাম্মদ শাহজাহান, আরএমপি কমিশনার ড. মো. জিল্লুর রহমান এবং পুলিশ সুপার মোহাম্মদ নাঈমুল হাছান। এছাড়া বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারী, শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও গণমাধ্যমকর্মীরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

Please follow and like us: