বৃহস্পতিবার , ৩০শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ১৭ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ - গ্রীষ্মকাল || ১২ই জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি

রাজশাহীতে সজিনা’র বাম্পার ফলনের আশা কৃষি বিভাগের

প্রকাশিত হয়েছে-
প্রকাশ করেছেন- মাসুদ রানা রাব্বানী, রাজশাহী, করেসপন্ডেন্ট।

রাজশাহীর বিভিন্ন এলাকায় সজিনা গাছে এখন সাদা গুচ্ছ ফুলের সমারোহ। ডালের গোড়া থেকে মাথা পর্যন্ত থোকা থোকা ফুলে ভরে উঠেছে গাছ। পাতা ঝরে পড়ে খালি ডালে ফুটে থাকা সাদা ফুলের মনোরম দৃশ্য নজর কাড়ছে পথচারী ও স্থানীয়দের।
কৃষি বিভাগ বলছে, অনুকূল আবহাওয়া বজায় থাকলে চলতি মৌসুমে সজিনার বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা রয়েছে।
উপজেলা কৃষি অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, তানোর উপজেলার সাতটি ইউনিয়ন ও দুটি পৌরসভার রাস্তার ধারে, পতিত জমি ও বসতবাড়ির আশপাশে হাজার হাজার সজিনা গাছ রয়েছে। প্রায় প্রতিটি বাড়িতেই কমবেশি এক-দুটি করে সজিনা গাছ দেখা যায়। এসব গাছের বেশিরভাগই বাড়ির পাশে, জমির আইলে কিংবা রাস্তার ধারে লাগানো। তেমন কোনো বিশেষ যতœ ছাড়াই গাছগুলো বেড়ে উঠছে এবং প্রতিবছর ভালো ফলন দিচ্ছে।
কৃষি অফিস জানায়, দেশে মূলত দুই ধরনের সজিনা চাষ হয়-হালো সজিনা ও নজিনা। হালো সজিনায় জানুয়ারিতে ফুল আসে, আর নজিনা জাতের ফুল ফোটে মার্চ থেকে। একটি থোকায় সর্বোচ্চ ১৫০টি পর্যন্ত ফুল ধরে, যার দৈর্ঘ্য ৪০ থেকে ৮০ সেন্টিমিটার পর্যন্ত হতে পারে। ফুল ফোটার প্রায় দুই মাস পর ফল সংগ্রহ করা যায়। একটি বড় গাছে গড়ে ৪০০ থেকে ৫০০টি ফল ধরে এবং প্রতিটি ফলে ৩০ থেকে ৪০টি বীজ থাকে।
সাধারণত ডাল কেটে রোপণের মাধ্যমে সজিনা চারা তৈরি করা হয়। তবে রোপণ করা ডালের প্রায় ৩০ শতাংশ নষ্ট হয়ে যায় বলে কৃষি বিভাগ জানিয়েছে। সম্প্রতি ভারত থেকে আসা হাইব্রিড জাতের সজিনা বীজের মাধ্যমেও চাষ শুরু হয়েছে। এ জাতের গাছে বছরে দুইবার-ফেব্রুয়ারি-মার্চ ও জুন-জুলাই মাসে-ফুল আসে।
উপজেলার লবণামুক্ত মাটি ও খরাপ্রবণ বরেন্দ্র অঞ্চলের আবহাওয়া সজিনা চাষের জন্য উপযোগী বলে জানিয়েছেন কৃষি কর্মকর্তারা। প্রতিবছর কৃষি অফিস থেকে বারোমাসি সজিনার ডাল বিতরণ ও রোপণ কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। চলতি মৌসুম শেষে আবারও ডাল রোপণের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ সাইফুল্লাহ আহম্মেদ বলেন, ঠান্ডা-গরম, লবণাক্ততা ও খরা সহিঞ্চু হওয়ায় সজিনা বাংলাদেশের প্রায় সর্বত্র জন্মাতে পারে। এ বছর গাছে ব্যাপক ফুল এসেছে। বড় ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে ভালো ফলনের সম্ভাবনা রয়েছে। পুষ্টি ও ভেষজ গুণে সমৃদ্ধ হওয়ায় সজিনার চাহিদা ও বাজারমূল্য দুটোই বেশি।
তিনি আরও জানান, সজিনা সুপার ফুড হিসেবে বৈশ্বিকভাবে পরিচিত। এর পাতা, শুঁটি, ফুল, বীজ, এমনকি বাকল ও শিকড়ও বিভিন্নভাবে ব্যবহারযোগ্য। উচ্চমূল্য পাওয়ায় কৃষকরা এখন পতিত জমিতে পরিকল্পিতভাবে সজিনা চাষে আগ্রহী হচ্ছেন। কৃষি বিভাগও পুষ্টিকর এ সবজির আবাদ বাড়াতে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করছে।
কৃষি সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, পরিকল্পিত চাষ ও বাজার ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা গেলে খরাপ্রবণ বরেন্দ্র অঞ্চলে সজিনা হতে পারে সম্ভাবনাময় অর্থকরী ফসল।

Please follow and like us: