রামগঞ্জ উপজেলায় করোনা রোগী রয়েছে প্রায় ৩ শতাধিক৷ সরকারী স্বাস্থ্য বিভাগের চলতি মাসের হিসাব অনুযায়ী এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে৷ তবে বেসরকারী হিসাব অনুযায়ী এ সংখ্যা দ্বিগুণ হতে পারে বলে বিভিন্ন সচেতন মহল ধারনা করছেন৷ এ দিকে করোনার এ উর্ধ্বগতি নিয়ন্ত্রনে লকডাউন বাস্তবায়নে প্রশাসন কঠোর অবস্থানে রয়েছে৷ উপজেলা প্রশাসনের সূত্র মতে জানা যায়,চলতি মাসে সরকারী বিধিনিষেধ না মেনে দোকানপাট খোলা রাখা,অহেতুক ঘুরাফেরা ও মাস্ক ব্যবহার না করার দায়ে জেলা প্রশাসকের নির্দেশক্রমে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার তাপ্তি চাকমার নেতৃত্বে অভিযানে ৫২ হাজার টাকা জরিমানা ও ৫৯টি মামলা হয়েছে৷ প্রশাসনের পাশাপাশি জনপ্রতিনিধিরাও মাঠে কাজ করছেন৷ আজ ৩নং ভাদুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জাহিদ হোসেন ভূইয়া কেথুড়ী বাজার, বাবুল মার্কেট, হানুবাইশসহ বিভিন্ন এলাকায় ইউপি সদস্য ও গ্রাম পুলিশদের নিয়ে সচেতন মূলক মাইকিং,স্বাস্থ্য সুরক্ষা সামগ্রী বিতরনসহ অহেতুক মানুষ ও গাড়ী চলাচল বন্ধে কঠোর অবস্থা গ্রহন করেন৷ এ ছাড়াও করপাড়া ইউপি চেয়ারম্যান মজিবুল হক মুজিব, ভাটরা ইউপি চেয়ারম্যান আবুল হোসেন মিঠু, দরবেশপুর ইউপি চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান মিজান, কাঞ্চনপুর ইউপি চেয়ারম্যান নাসির উদ্দিন, নোয়াগাও ইউপি প্যানেল চেয়ারম্যান মোঃশেখ ফরিদসহ অন্যন্যা জনপ্রতিনিধিরা লকডাউন বাস্তাবায়নে প্রশাসনের পাশাপাশি কাজ করে যাচ্ছেন৷
রামগঞ্জ রেসিডেন্সি স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ মোঃ আনোয়ার হোসেন পাটোয়ারী বলেন, এখনও গ্রামাঞ্চলে অনেক মানুষ করোনা লক্ষ নিয়ে আছে৷ কিন্তু অসচেতনতার কারনে করোনা পরিক্ষা করাচ্ছে না৷ যদি মানুষ পরিক্ষা করাতো তাহলে এ সংখ্যা আরো দ্বিগুন হবে৷ অনেকে আবার সরাসরি ঢাকা চলে যাচ্ছে তাই সঠিক সংখ্যা নির্নয় করা যাবে না৷ সবাইকে সচেতন হতে হবে৷
ইউপি চেয়ারম্যান জাহিদ হোসেন ভূইয়া বলেন, রামগঞ্জে করোনা রোগী যেভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে, এতে মানুষ যদি সচেতন না হয় ও সরকারী বিধি নিষেধ পালন না করে, তাহলে ভয়াবহ আকার ধারন করবে৷ আমরা জেলা প্রশাসক(ডিসি) আনোয়ার হোছাইন আকন্দ ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তাপ্তি চাকমা মহোদয়ের নির্দেশক্রমে মানুষকে সচেতন হওয়ার জন্য চেষ্টা করে যাচ্ছি৷ তারপরও যদি কেউ না মানে তাকে আইনের হাতে তুলে দেওয়া হবে৷
রামগঞ্জ উপজেলা সরকারী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্মকর্তা ডাক্তার গুনময় পোদ্দার বলেন, করোনা পরিস্থিতি দিনদিন খারাপের দিকে যাচ্ছে৷ প্রতিদিন ৭০জন যদি করোনা পরিক্ষা করে পজেটিভ রিপোট আসছে প্রায় ৩৫ জনের৷ পজিটিভ রোগীদের অবস্থাও দিনদিন ভয়াবহ আকার ধারন করছে৷ আমরা অনেক রোগীকে বিভিন্ন হাসপাতালে রেফার করতে হচ্ছে৷ তবুও মানুষ সচেতন হচ্ছে না৷ এ অবস্থায় মানুষকে অবশ্যই সচেতন হতে হবে এবং স্বাস্থ্য বিধি মেনে চলতে হবে৷
রামগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তাপ্তি চাকমা বলেন, করোনার এ ভয়াবহতা থেকে মানুষকে রক্ষা করতে সরকার খুব আন্তরিক, সরকার চেষ্টা করে যাচ্ছে৷ মানুষ যদি মানতে না চায়,আমরা বিধি অনুযায়ী আরো কঠোর হতে বাধ্য হব৷ করোনা থেকে বাচতে হলে অবশ্যই স্বাস্থ্য বিধি মেনে চলতে হবে৷
বৃহস্পতিবার , ৩০শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ১৭ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ - গ্রীষ্মকাল || ১২ই জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
রামগঞ্জে করোনা রোগী ৩ শতাধিক লকডাউন বাস্তবায়নে কঠোর প্রশাসন।।
প্রকাশিত হয়েছে- প্রকাশ করেছেন- আউয়াল হোসেন পাটওয়ারী, রামগঞ্জ,লক্ষীপুর করেসপন্ডেন্ট।
Please follow and like us: