সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে বসবাসকারি বেদে পল্লীর শিশুরা শিক্ষার আলো থেকে বঞ্চিত। স্কুল কি ? শিক্ষা কি ? তা জানা নেই বেদে পল্লীর শিশুদের।
পূর্ব পুরুষের পেশাগত কারণে সামাজিক অবজ্ঞা ও অশিক্ষিত অভিভাবকদের সচেতনতার অভাবে বছরের পর বছর ধরেই শিক্ষার আলো থেকে বঞ্চিত বেদে শিশুরা।
শাহজাদপুর উপজেলার পোতাজিয়া ইউনিয়নের গঙ্গাপ্রাসাদ পাবনা-বগুড়া মহাসড়ক সংলগ্ন বেদে পল্লীতে প্রায় শতাধিক বেদে পরিবারের বসবাস। এর একটু অদুরেই রয়েছে বাইদা মাদলা গ্রাম।
জানা যায়, এক সময় এই গ্রামের সিংহভাগ বেদে ছিল। সময়ের বিবর্তনে পেশা পাল্টিয়ে অনেকে সামাজিকভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন। কিন্তু অস্থায়ী এই বেদে পল্লীতে বসবাসকারী দুই শতাধিক শিশু কিশোরের যখন বই-খাতা আর পড়ালেখা নিয়ে ব্যস্ত থাকার কথা তখন জীবন জীবিকার তাগিদে পরিবার-পরিজন নিয়ে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে ঘুরে বেড়ানোর কারণে বেদে পরিবারের শিশুরা শিক্ষার আলো থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
অজ্ঞতা আর অন্ধকারের মধ্যে বেড়ে ওঠা এসব শিশুদের কাঁধে যখন স্কুল ব্যাগ ঝুলবার কথা তখন ঝুলে সাপ। স্কুলে না গিয়ে দিনভর দুরন্তপনা, দৌড়ঝাঁপ, খেলাধুলা, পরিত্যক্ত কাগজ ও প্লাস্টিকের পণ্য কুড়ানো ও হরিজনসহ নানা কাজে সময় পার করে বেদে পল্লীর বসবাসকারী শিশু কিশোররা।
আধুনিকতার যুগে কবিরাজি চিকিৎসা ও সাপ খেলা দেখিয়ে বেদেরা ব্যবসা ভাল করতে পারছেনা। বিধায় সাপের বাক্স হাতে নিয়ে বেদে মহিলারা শহর ও শহরতলীর গ্রামগুলির রাস্তা-ঘাট গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় পথচারীদের নিকট থেকে অর্থ আদায় করছে।
পিতা-মাতার শিক্ষা নিয়ে বড় হচ্ছে বেদে পল্লীর শিশুরাও। পল্লীর আশে পাশে কাউকে দেখলেই শিশুরা দৌড়ে এসে অর্থ দাবী করছে। সচেতনতা ও শিক্ষার অভাবে এসব শিশুরা স্বাস্থ্য সেবা থেকেও বঞ্চিত হচ্ছে।
বাইদুল নামের ১৩ বছর বয়সি একজন কিশোর জানায়, তারা দুই ভাই দুই বোন। প্রতিদিনই তার দেড় বছর বয়সী বোনটিকে রেখে সকালেই তার মা সিঙা দিতে ও বাবা সাপের খেলা দেখাতে বিভিন্ন স্থানে চলে যান। ফলে ছোট ভাই-বোনদের দেখাশোনা করতে বাড়ীতেই থাকতে হয় তাকে। নিজের নাম পর্যন্ত স্বাক্ষর করা শিখেনি বায়দুল।
প্রিয়াঙ্কা রানী (৩৫) নামের বেদে পল্লীর এক বাসিন্দা বলেন, এখানে পড়ালেখার পরিবেশ না থাকায় কেউ এটি নিয়ে ভাবছেনা। সবাই ছেলে সন্তান নিয়ে আয় রোজগারে ব্যস্ত। তারা মুন্সীগঞ্জের লৌহজং উপজেলার বাসিন্দা। শাহজাদপুরের গঙ্গাপ্রাসাদ এলাকার এই পল্লীতে আছেন ২ বছর ধরে। বর্তমানে আগের মত ব্যবসা ভাল নেই। নিজেরাই চলতে পারিনা। তাই ছেলে-মেয়েদের জীবন ভাল কাটাতে হলে লেখাপড়াই করানো দরকার। তাই এখানে একটি স্কুল প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে শিক্ষার পরিবেশ সৃষ্টি করতে হবে।