সোমবার , ৮ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ২৫শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ - গ্রীষ্মকাল || ২১শে জিলহজ, ১৪৪৭ হিজরি

শীতের পাখির কিচিরমিচির শব্দে মুখরিত করতোয়া নদী

প্রকাশিত হয়েছে-
প্রকাশ করেছেন- শফিকুল ইসলাম. তাড়াশ,সিরাজগঞ্জ ,করেসপন্ডেন্ট।
শীতের হিমেল হাওয়ায় আগমনের সাথে অতিথি পাখির কলকাকলিতে মুখরিত হয়ে উঠেছে সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলার নওগাঁ গ্রামের করতোয়া নদী। হাজার হাজার পাখি সারাক্ষণ মুখরিত করে রেখেছে নদীটিতে। পাখি দেখতে প্রতিদিনই ভিড় জমাচ্ছে পাখি প্রেমীরা। এখন পানি অনেকটাই কমে গেছে, তবুও এর সৌন্দর্য কমেনি একফোঁটাও। করতোয়ার এই শাখায় অতিথি পাখির আনাগোনা বেড়েছে বেশ কয়েক বছর ধরেই। প্রতিবছর শীত মৌসুমে নদীটি যেন হয়ে যায় পাখির আবাসস্থল। এবারও এ নদীতে বাসা বেঁধেছে বিলুপ্ত প্রায় দেশীয় প্রজাতির বিভিন্ন পাখিসহ হাজারো অতিথি পাখি। ফলে বিভিন্ন এলাকা থেকে পাখি প্রেমীরা দল বেঁধে আসছেন পাখি দেখতে। শীতকাল এলেই এই করতোয়া নদীতে অতিথি পাখির কিচির-মিচির শব্দে মুখরিত হয়ে উঠে। খুব বড় না হলেও নদীটি পাখির কারণে বেশ পরিচিতি লাভ করেছে। পাখির বিভিন্ন অঙ্গভঙ্গি, উড়ে চলা, নীরবে বসে থাকা মানুষকে আকৃষ্ট করে। তাই দূর দূরান্ত থেকে লোকজন এক নজর পাখি দেখার জন্য এখানে আসেন। সরেজমিনে দেখা যায়, শান্ত জলের বুকে কচুরিপানার সবুজ গালিচার মাঝে ঝাঁক বেঁধে ডানা মেলছে অতিথি পাখির দল। উড়ে চলা পাখির কিচির-মিচিরে মুখরিত চারপাশ। পিয়াং হাঁস, পাতি সরালি, লেঙজা হাঁস, বালি হাঁস, পাতিকূটসহ দেশী জাতের শামুকখোল, পানকৌড়ি, ছন্নি হাঁস বিল এলাকা মুখরিত করে তুলছে। কিন্তু পরিমাণে গত বছরের প্রায় অর্ধেক। এবছরও তিব্বতীয় মানিকচক, সাইবেরিয়ান ফিদ্দাসহ অনেক অতিথি পাখিই চোখে পড়ার মত। স্থানীয় নওগাঁ বাজারেরে এলাকার আমজাদ হোসেন জানান, এখানে পরিযায়ী পাখির সংখ্যা প্রায় ১০-১২ হাজার। এসব অতিথিদের রক্ষায় এবার বেশ তৎপর গ্রামবাসী। কোনো শিকারি যেন পাখিদের আঘাত করতে না পারে তাই নিজ দায়িত্বে পাহারা দিচ্ছেন তারা। পাখিদের আশ্রয়স্থল নিরাপদ করতে সহযোগিতা কামনা করেছেন স্থানীয় প্রশাসনের। আর এ বছর করতোয়া নদীতে অনেক পাখি এসেছে। পাখিগুলো দেখতে অনেক সুন্দর লাগছে। প্রতি বছরই এই অতিথি পাখিগুলো আসে এ নদীতে। তাড়াশ উপজেলা নির্বাহী অফিসার জনাব সুইচিং মং মারমা বলেন, এবছরের শুরু থেকে পাখি শিকারীদের বিরুদ্ধে প্রশাসন অত্যান্ত কঠোর অবস্থানে। ইতিমধ্যে বেশ কয়েকটি ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে দন্ড দেয়া হয়েছে, পাশাপাশি জনসচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে প্রচারনা চলছে এবং অভিযান অব্যাহত থাকবে।
Please follow and like us: