শাহীন মাহমুদ রাসেল:
একটি রাষ্ট্রের নাগরিকদের পাঁচটি মৌলিক চাহিদার মধ্যে চিকিৎসা হলো অন্যতম। একটু সুস্থভাবে বেঁচে থাকার জন্যই মানুষের চিকিৎসার প্রয়োজন হয়। এ জন্য মানুষ ডাক্তার ও হাসপাতালের স্মরণাপন্ন হয়। কিন্তু আমাদের দেশের অধিকাংশ ক্লিনিক-হাসপাতালগুলো আজ সাধারণ মানুষের জন্য কসাইখানা ও মরণ ফাঁদে পরিণত হয়েছে। আর ডাক্তারদের মধ্যে বড় একটি অংশ আজ মানবসেবা ও মানবিকতা ভুলে গিয়ে কসাই ও ডাকাতের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছেন।
এছাড়া চিকিৎসা বিষয়ে পড়াশোনা না করেও অনেকে ডাক্তার সেজে চেম্বার দিয়ে বসে আছেন। মানুষ সুস্থতার জন্য চিকিৎসা নিতে গিয়ে ডাক্তারদের ভূল চিকিৎসায় আরও মৃত্যুর দিকে ধাবিত হচ্ছে।
সারাদেশে রাস্তার আনাচে-কানাচে ব্যাঙের ছাতার মতো গড়ে উঠেছে হাসপাতাল,ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার। এসব ক্লিনিক ও হাসপাতালে উন্নত চিকিৎসা সেবার নামে চলছে বাণিজ্য। বর্তমানে আমাদের দেশের অধিকাংশ হাসপাতাল-ক্লিনিকের মালিক ও ডাক্তাররা সঠিক চিকিৎসা দেওয়ার পরিবর্তে উপার্জনকেই বেশি প্রাধান্য দিয়ে থাকেন।
দেশের চিকিৎসা ক্ষেত্রে নৈরাজ্য দিন দিন বেড়েই চলেছে। অস্ত্রোপচারের পর পেটের ভিতর ছুরি বা গজ রেখেই সেলাই দেওয়া,অসুস্থ অঙ্গের পরিবর্তে সুস্থ অঙ্গ কেটে ফেলা,দাঁত তোলার নামে শিক্ষানবিস ডাক্তাররা হাত পাকাচ্ছেন,অনেক হাসপাতালে ডাক্তারের পরিবর্তে ওয়ার্ড বয়রাই আবার সর্বেসর্বা। জটিল কঠিন অপারেশন করতেও দ্বিধা করছেন না তারা। আবার সুযোগ সুবিধাহীন সরকারি হাসপাতালে একশ্রেণির ডাক্তার,নার্স, আয়া-কর্মচারীর চরম দুর্ব্যবহারের সামনে রোগিরা থাকছেন বড়ই অসহায়। আর মানবসেবার নাম করে গড়ে উঠা প্রাইভেট হাসপাতালগুলোরও একই অবস্থা।
কক্সবাজার শহরের শেভরন ক্লিনিক্যাল ল্যাবরেটরি লিমিটেডের বিরুদ্ধে এক রোগীকে ভুল রিপোর্ট দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
মোবারক হোসাইন নামের এক রোগী লিভার পরীক্ষা করানোর পর তার লিভার ক্যানসার হয়েছে উল্লেখ করে ভুল রিপোর্ট দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেছেন। ভুক্তভোগী মোবারক হোসাইন পৌর এলাকার নূর পাড়ার বাসিন্দা।
জানা গেছে, কিছুদিন ধরে পেটে অস্বাভাবিক ব্যথা অনুভব করলে গত ২৬ই অক্টোবর শেভরনে চেম্বাররত ডাক্তার মোস্তফা নূর মহসিনের স্মরণাপন্ন হয়। পরে চিকিৎসকের পরামর্শে গত ২৭ অক্টোবর শেভরনে আঘাত পাওয়া অংশের জন্য হেপাটাইটিস (anti HCV) পরীক্ষা করান। পরীক্ষা করা সেই আইডি নম্বর জি-১৭। কয়েক ঘন্টা পর তার পরীক্ষার রিপোর্ট দেওয়া হয়।
রিপোর্টে পরীক্ষা করার বিষয়বস্তুর স্থানে লিভারে সব ঠিক থাকলেও তার নিচে ফাইন্ডিংয়ে লেখা হয় হেপাটাইটিস সি(anti HCV) পজিটিভ (লিভারপ ক্যানসার)। যেখানে স্বাভাবিক মানুষের ১.00 থাকে, সেখানে তাদের রিপোর্ট অনুযায়ী ১২.00। তাছাড়া রিপোর্টে কোষের অস্বাভাবিক বৃদ্ধির কথাটিও উল্লেখ করা হয়েছে।
এমন রিপোর্টের কপি হাতে পেয়ে অবাক হয়ে যান মোবারক হোসাইন। এ বিষয়ে তার স্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, এমন অস্বাভাবিক রিপোর্ট দেখে আমরা হতভম্ব। টাকা বেশি হলেও রিপোর্ট যাতে ভালো আসে সেইজন্যই আমার স্বামীকে এখানে পরীক্ষা করাতে নিয়ে আসি। কিন্তু এখানে হেপাটাইটিস (anti HCV) পরীক্ষা করা হলেও রিপোর্ট দিয়েছে লিভারে ক্যানসার (anti HVC)পজিটিভ উল্লেখ করে। রিপোর্টটি পরিচিত আরও কয়েকজন চিকিৎসককে দেখালে তারা সেটি ভুল বলে আমাদের জানান। অন্য ক্লিনিক থেকে একাধিকবার পরীক্ষা পুনরায় করালে সেই রিপোর্টে (anti HCV) নেগেটিভ আসে। এমন অবস্থায় রিপোর্টটি নিয়ে শেভরনে যোগাযোগ করা হলে তারা পরীক্ষা পুনরায় করার দাবি করে। নামিদামি ল্যাবরেটরিতেও যদি এভাবে ভুল রিপোর্ট দেওয়া হয় তবে সাধারণ মানুষ কোথায় যাবে?
বিষয়টি অভিযোগ আকারে দায়িত্বপ্রাপ্তদের কাছে দেওয়া হবে বলে জানান ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা।
এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে কক্সবাজারের সিভিল সার্জন ডা. রফিক উস্ সালেহীন বলেন, শেভরনে ভুল রিপোর্টের বিষয়টি মৌখিকভাবে শুনেছি। এমন ভুলের দায় কেউ এড়াতে পারে না। লিখিতভাবে অভিযোগ পেলে ঘটনাটি তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
শেভরনের জেনারেল ম্যানেজার স্বদীপ শর্মা বলেন, রোগী মোবারক হোসাইনের রিপোর্ট নিয়ে যে ভুল হয়েছে তা পুনরায় পরীক্ষার করালে বুঝতে সম্ভব হবে। এখন কি কারণে ভুলে হয়েছে তা বুঝা দুষ্কর। তবে রিপোর্টটি ঠিক করে দেওয়া হবে। ভুলটি যারা করেছে তাদেরকে সতর্ক করা হয়েছে।
Please follow and like us: