, || - ||

সংবাদ প্রকাশের পর রুপসায় লাইসেন্সহীন ক্লিনিকে সিভিল সার্জনের ভিজিট এবং সাময়িক বন্ধের নির্দেশ

প্রকাশিত হয়েছে-
প্রকাশ করেছেন- স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট, নয়া আলো।

নিবন্ধনবিহীন বা নিবন্ধন নবায়ন না থাকা ও আনুষঙ্গিক সুবিধা না থাকাসহ বিধি বহির্ভূতভাবে কার্যক্রম চালানোর দায়ে খুলনার রুপসা উপজেলার জাবুসার দুটি বেসরকারি ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার বা রোগনির্ণয় কেন্দ্র সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
খুলনার সিভিল সার্জনের নেতৃত্বে স্বাস্থ্য বিভাগের একটি টিম জেলার রুপসা উপজেলা সরেজমিনে পরিদর্শন করে এ ব্যবস্থা নিয়েছে। দু’টি প্রতিষ্ঠান সাময়িকভাবে বন্ধ করার জন্য ওইসব প্রতিষ্ঠানকে বলা হয়েছে।

প্রতিষ্ঠান দুটি হল- খুলনার রুপসা উপজেলার জাবুসা চৌরাস্তা মোড়ের নাসির উদ্দিন মেমোরিয়াল হাসপাতাল ও জাবুসা হাটখোলার পাশে নোভা হসপিটাল এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার।

সোমবার (০১ মার্চ) রুপসা উপজেলায় খুলনা সিভিল সার্জন ডাঃ নিয়াজ মোহাম্মদ  ও ডেপুটি সিভিল সার্জন ডাঃ মোঃ সাইদুল ইসলামের নেতৃত্বে একটি  টীম পরিদর্শণ করেন।

নাসির উদ্দিন মেমোরিয়াল হাসপাতালে দেখা যায়, ফ্রিজে জীবন রক্ষাকারী ওষুধ, স্বাস্থ্যসেবা ও সার্জিক্যাল উপকরণসমূহের বদলে এই ক্লিনিক ও ডায়াগনষ্টিক সেন্টারের ফ্রিজ গৃহস্থলীর মতোই্ ব্যবহৃত হচ্ছে। জীবন রক্ষাকারী ওষুধ ও স্যার্জিক্যাল উপকরণের পাশাপাশি  ক্লিনিক/ডায়াগনষ্টিক সেন্টারের ব্যবহৃত ফ্রিজে রাখা হচ্ছে- বতল ভর্তি দুধ।এ ছারাও বিভিন্ন অনিয়মের পাশাপাশি কাগজপত্রে ত্রুটি খুঁজে পান পরিদর্শকরা। সেখানে রুগিদের প্রেসক্রিপশনে কোন ঔষধের নাম উল্লেখ না করে চিকিৎসা প্রদান করা হচ্ছে।

অপরদিকে নোভা হসপিটাল এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার  ক্লিনিকে স্বাস্থ্যসেবার নুন্যতম পরিবেশ নেই। ল্যাব ফিজিশিয়ান, প্যাথলজিষ্ট ও টেকনিক্যাল জ্ঞান সম্পন্ন কর্মী ছাড়াই চলছে ডায়াগনষ্টিক সেন্টারটি এবং ফ্রিজে জীবন রক্ষাকারী মেয়াদ উত্তীর্ন ওষুধ পাওয়া যায়। নোভা ক্লিনিক এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারকে আগামী এক মাসের মধ্যে লাইসেন্স নবায়ন, প্রয়োজনীয় চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ এবং স্বাস্থ্যসেবার গুণগত মান নিশ্চিত করতে না পারলে তার প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেয়া হবে বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন সিভিল সার্জন।

খুলনার সিভিল সার্জন ডাঃ নিয়াজ মোহাম্মদ বলেন, রুপসা উপজেলার জাবুসায় নাসির উদ্দিন মেমোরিয়াল হাসপাতাল ও নোভা হসপিটাল এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার ভিজিট করতে এসেছি। আমাদের কাছে তথ্য ছিল যে, এসব হসপিটাল এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারের লাইসেন্স করা হয় নাই। এ ডায়াগনস্টিক সেন্টারের হিসাবে ৪/৫মাস ধরে চালু আছে। এখানে কোনটায় নিয়ম মানা হচ্ছে না। আমরা এ দুটি ক্লিনিক এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারকে এক মাসের সুযোগ দিয়েছি। এর মধ্যে সকল কাগজপত্র বৈধ্য করার নির্দেশ দেওয়া হল।
উল্লেখ্য যে, গত ১৫ ফেব্রুয়ারী সোমবারে বিভিন্ন পত্রিকায় ” খুলনায় লাইসেন্স ছাড়াই বেসরকারি ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের রমরমা ব্যবসা” শিরোনামে সংবাদ প্রকাশের জেরে সিভিল সার্জনের ভিজিট করেন।

Please follow and like us: