, || - ||

সরকারি সম্পত্তি দখল করে স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগ, অভিযান চালিয়ে দখলমুক্ত করল প্রশাসন

প্রকাশিত হয়েছে-
প্রকাশ করেছেন- কামরুজ্জামান শিমুল, বাগেরহাট জেলা করেসপন্ডেন্ট।

বাগেরহাটের চিতলমারী উপজেলায় সরকারি খাস জমি দখল করে গাছ কেটে অবৈধভাবে ভবন নির্মাণের অভিযোগে প্রশাসন অভিযান চালিয়ে নির্মাণাধীন স্থাপনা ভেঙে দিয়েছে। একই সঙ্গে জমিটি সরকারি সম্পত্তি উল্লেখ করে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সাইনবোর্ড টানিয়ে দখলমুক্ত ঘোষণা করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার বোয়ালিয়া মৌজার সরকারি খাস জমিতে কয়েক ব্যক্তি শতাধিক গাছ কেটে ইট সিমেন্ট ও বালুর সংমিশ্রণে স্থাপনা নির্মাণ শুরু করেন। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হলে বিষয়টি প্রশাসনের নজরে আসে। পরে তদন্তে সরকারি জমিতে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় জেলা প্রশাসনের নির্দেশে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
অভিযানে নির্মাণাধীন ভবনের দেয়াল ও অন্যান্য অবকাঠামো ভেঙে ফেলা হয়। পরে সেখানে “এই জমির মালিক গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে জেলা প্রশাসক, বাগেরহাট” লেখা সরকারি সাইনবোর্ড স্থাপন করা হয়। পাশাপাশি ভবিষ্যতে কেউ যেন পুনরায় জমি দখলের চেষ্টা না করে সে বিষয়ে কঠোর সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, সরকারি জমিতে দীর্ঘদিন ধরে প্রভাব খাটিয়ে স্থাপনা নির্মাণের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে একটি প্রভাবশালী মহল। প্রশাসনের এ পদক্ষেপকে তারা স্বাগত জানিয়ে সরকারি সম্পত্তি রক্ষায় নিয়মিত নজরদারি এবং দখলদারদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।

এঘটনায় জমির মালিক দাবী করা নিয়ামত আলী খান বলেন, আমরা সাতজনে মিলে বোয়ালীয়া ভ্যান স্ট্যান্ডের পাশে নিজেদের ক্রয়কৃত জমিতে দোকান ঘর নির্মাণের কাজ শুরু করি। শুরুতেই এ কাজে স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীরা বাধা প্রদান ও চাঁদা দাবী করে। এই জমি খাস আমরা জানতাম না। প্রশাসন সরকারী সম্পত্তি দাবী করে স্থাপনা নির্মাণ বন্ধ করে দিয়েছে। আমরা আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। গাছ কাটার অভিযোগে সম্পূর্ণ মিথ্যা।

এ বিষয়ে  চিতলমারী উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) মিঠুন মৈত্র জানান, সরকারি জমি দখল, গাছ কর্তন কিংবা অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না। সরকারি সম্পত্তি রক্ষায় উচ্ছেদ অভিযান ও আইনগত ব্যবস্থা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে। আমরা জেলা প্রশাসকের নির্দেশনা ক্রমে সরকারি জমি দখল মুক্ত করার পদক্ষেপ নিয়েছি।

Please follow and like us: