মঙ্গলবার , ৯ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ২৬শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ - গ্রীষ্মকাল || ২২শে জিলহজ, ১৪৪৭ হিজরি

সলঙ্গায় বিদ্যুৎ সংযোগে প্রকাশ্য ঘুষ বাণিজ্য: ওয়্যারিং পরিদর্শক ও এজিএমের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ

প্রকাশিত হয়েছে-
প্রকাশ করেছেন- স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট, নয়া আলো।
সিরাজগঞ্জের সলঙ্গায় পল্লী বিদ্যুৎ সাব-জোনাল অফিসে বিদ্যুৎ সংযোগকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে চলমান দুর্নীতি, অনিয়ম ও দালালনির্ভর অবৈধ অর্থ বাণিজ্যের চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে। অফিসে কর্মরত ১০ জন ইলেকট্রিশিয়ান একযোগে লিখিত অভিযোগ দায়ের করে ওয়্যারিং পরিদর্শক আব্দুল বারী এবং এজিএম (কারিগরি) কম শাহজালালের বিরুদ্ধে গুরুতর অনিয়মের অভিযোগ তুলেছেন।
অভিযোগে বলা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট দুই কর্মকর্তা পরস্পর যোগসাজশে একটি প্রভাবশালী দালালচক্রের মাধ্যমে পল্লী বিদ্যুৎ সংযোগ কার্যক্রমকে ব্যক্তিগত আয়ের উৎসে পরিণত করেছেন। বিধি অনুযায়ী যেসব শিল্প সংযোগে ট্রান্সফরমার ও পোল বিনামূল্যে দেওয়ার কথা, সেখানে গ্রাহকদের কাছ থেকে দালালের মাধ্যমে অর্থ আদায় করে ট্রান্সফরমার কিনতে বাধ্য করা হচ্ছে।
লিখিত অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, প্রতিটি আবাসিক ও বাণিজ্যিক সংযোগের ক্ষেত্রে পরিদর্শন স্বাক্ষরের নামে ন্যূনতম এক হাজার টাকা করে আদায় করা হচ্ছে। এমনকি সমীক্ষা স্বাক্ষরের আগেই টাকা দাবি করা হয়। টাকা না দিলে আবেদন অফিসে গ্রহণই করা হয় না। ফলে সাধারণ গ্রাহকরা চরম হয়রানি ও অর্থনৈতিক শোষণের শিকার হচ্ছেন।
অভিযোগকারীরা জানান, পল্লী বিদ্যুৎ বোর্ড কর্তৃক অনুমোদিত ভিলেজ ইলেকট্রিশিয়ানদের পাশ কাটিয়ে দালাল ইদ্রিস আলী ও তার সহযোগীরাই মূলত সংযোগ সংক্রান্ত সব কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ করছে। অফিসের সিদ্ধান্ত ও কার্যক্রম ইদ্রিস আলীর কথাতেই পরিচালিত হচ্ছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগে আরও বিস্ফোরক তথ্য উঠে এসেছে একটি আবাসিক মিটার সংযোগে ইলেকট্রিশিয়ান মোহাম্মদ আলীর স্বাক্ষর জাল করে সংযোগ প্রদান করা হয়েছে। এ বিষয়ে এজিএম কম শাহজালালের কাছে লিখিত ও মৌখিক অভিযোগ জানানো হলেও তিনি তা আমলে নেননি। উল্টো অভিযোগকারী ইলেকট্রিশিয়ানদের বিরুদ্ধে দালালচক্রের মাধ্যমে হুমকি ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ উঠেছে।
সলঙ্গা সাব-জোনাল অফিসের ১০ জন ইলেকট্রিশিয়ান অভিযোগপত্রে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন, তারা একটি দুর্নীতিমুক্ত, দালালমুক্ত ও জবাবদিহিমূলক পল্লী বিদ্যুৎ অফিস চান। দ্রুত সময়ের মধ্যে নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন করে অভিযুক্ত কর্মকর্তা ও দালালচক্রের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়েছে।
অভিযোগপত্রে ইলেকট্রিশিয়ানরা আরও উল্লেখ করেন, অফিসে চলমান দুর্নীতি বন্ধ ও স্বচ্ছতা ফিরিয়ে আনতে অতি দ্রুত এজিএম (কারিগরি) কম শাহজালালকে তার দায়িত্ব থেকে অপসারণের জোর দাবি জানান তারা।
সলঙ্গা পল্লী বিদ্যুৎ সাব-জোনাল অফিসের ইলেক্ট্রিশিয়ান সমিতির সভাপতি মোস্তফা কামালের সঙ্গে কথা হলে তিনি বলেন,
“আপনাদের কাছে অভিযোগ দেওয়ার পর এজিএম কম সাহাজালাল স্যার আমাকে ফোন করেছিলেন। তিনি বললেন, আমাকে না জানিয়ে কেন সরাসরি হার্ডলাইনে গিয়ে অভিযোগ করা হলো। পাশাপাশি তিনি আরও বলেন, অফিসে এসে দেখা করেন আপনাদের সব দাবি মেনে নেওয়া হবে।”
অভিযোগপত্রের অনুলিপি বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুৎ বোর্ড (আরইবি), জেলা প্রশাসক সিরাজগঞ্জ, উল্লাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, জেলা প্রেস ক্লাব সিরাজগঞ্জসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট প্রেরণ করা হয়েছে।
অভিযুক্ত ওয়্যারিং পরিদর্শক আব্দুল বারীকে মুঠো ফোনে বক্তব্য চাইলে তিনি বলেন আমর কোন বক্তব্য নেই।
সলঙ্গা সাব-জোনাল অফিসের এজিএম (কারিগরি) কম শাহজালালের কাছে বক্তব্য চাইলে তিনি বলেন আমরা বিষয়ে এ অভিযোগ সম্পুর্ন মিথ্যা এধরণের কোন কিছু হয় নাই এখানে বাইরের কিছু লোকজন এখানে আসাযাওয়া করবে ইলেকট্রিশিয়ানরা আমার কাছে বলছে বাইরের লোকজন যেন ভিতরে না আসে স্যার আমরা যারা নিবন্ধিত ইলেকট্রিশিয়ানরা আছি আমরাই কাজ করবো। এবং আমার আমার বিষয়ে সকল অভিযোগ মিথ্যা।
এ বিষয়ে সিরাজগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি–১-এর সিনিয়র জেনারেল ম্যানেজার আবু আশরাফ মো. ছালেহ মোবাইল ফোনে এ প্রতিবেদককে বলেন, বিষয়টি তিনি গুরুত্বসহকারে দেখবেন।
Please follow and like us: