মেহেদী হাসানঃ- অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রবর্তক আধুনিক বাংলা কাব্যের রূপকার কেশবপুর সাগরদাঁড়ি কপোতাক্ষ তীরে মহাকবি মাইকেল মধুসুদন দত্তের ১৯৬ তম জন্মজয়ন্তী-২০২০ উপলক্ষ্যে আগামী ২২ জানুয়ারী থেকে শুরু হবে ৭ দিনব্যাপি মধু মেলা।
জেলা প্রশাসনের আয়োজনে ও উপজেলা প্রশাসনের সার্বিক তত্বাবধানে জোরে-সোরে চলছে মেলার প্রস্তুতি ও সাজগোজ।
মধুমেলার মান অক্ষুণ্য রাখতে এবার ব্যতিক্রম উদ্যোগ গ্রহণ করেছে প্রশাসন।
এবার অন্যবারের চেয়ে ভিন্নভাবে রুপ সাজিয়ে সাজ-সজ্জায় মধু মাঠকে তৈরির কাজ চলছে। মধুপ্রেমীদের আনন্দ দিতে মধুমঞ্চে চলবে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন জেলা উপজেলা ও স্থানীয় আগত শিল্পীদের গান, কবিতা আবৃতি, নৃত্য, যাত্রাপালাসহ বিভিন্ন পরিবেশন। এছাড়া মহাকবি মাইকেলের জীবনী সম্পর্কিত আলোচনাও মধুমঞ্চে অনুষ্ঠিত হবে।
মধু প্রেমীদের আকর্ষনীয় করতে মেলায় আরো থাকছে যাদু প্রদর্শনী, সার্কাস, নাগরদোলা, শিশু বিনোদন, মৃত্যুকুপ, কৌতুক, চুড়িপট্টি, কম্বলপট্টি, কাঠপট্টি, হোটেল, কুটির শিল্পসহ অনেক কিছু। মধুমেলার মাঠে এবার প্রায় ৫‘শ এর বেশী স্টল বসবে বলে জানাগেছে।
মহাকবির মৃত্যুর পর ১৮৯০ সালে কবির ভাইয়ের মেয়ে মানকুমারি বসু সাগরদাঁড়িতে প্রথম স্মরণসভার আয়োজন করেন। সেই থেকে শুরু হয় মধুজন্মজয়ন্তী ও মধুমেলার।
মেলা উদযাপন কমিটির সদস্য সচিব ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার নুসরাত জাহান জানান, প্রতিবারের ন্যায় এখানে একটি স্থায়ী পুলিশ ক্যাম্প স্থাপন করা হবে। পাশাপাশি ডিবি, জেলা পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটের সাথে প্রয়োজন মতো সাদা পোশাকে পুলিশ ও র্যাব-৬ এর টহল বলবৎ থাকবে।
এছাড়া মাঠে নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট নিয়োগ করা হবে। স্থানীয়ভাবে শতাধিক যুবক নিয়ে তৈরি করা হবে সেচ্ছাসেবক বাহিনী।
মধুমেলা উদযাপন কমিটির সভাপতি যশোর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ শফিউল আরিফ মধুমেলা অশ্লীলতামুক্ত হওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। মধুমেলাতে সব কিছু শালীনতার মধ্য দিয়ে উপস্থাপন করার জন্য কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে বলেও তিনি জানান।
কেশবপুর থানার অফিসার ইনচার্জ আবু সাঈদ জানান, মেলার মাঠে বিশৃঙ্খলা এড়াতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।
মূলত মহাকবির জন্মদিন ২৫ জানুয়ারি সাগরদাঁড়িতে মধুমেলার আয়োজন করা হয়। তবে এসএসসি পরীক্ষার কারণে গত বছরের ন্যায় এবারও মেলা আয়োজনের সময় এগিয়ে এনেছে প্রশাসন।