করোনা ভাইরাসের বিস্তার রোধে সারাদেশের দোকান পাট বন্ধের সরকারি নির্দেশনা মেনে চলছে সবাই। তবে ব্যতিক্রম সরকার অনুমোদিত সদর উপজেলার ঝাউডাঙ্গা বাজারে প্রকাশ্যে মদ বিক্রি করায় ক্ষিপ্ত হয়ে উঠেছেন এলাকবাসি। সরকারের নিয়ম-নীতি না মেনে সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত প্রকাশ্যে চলছে মদ বিক্রি। রাত বৃদ্ধির সাথে সাথে প্রচন্ড ভীড় করে দোকান থেকে কিনে নিচ্ছে বাংলা মদ। এতে ক্ষুদ্ধ হয়ে উঠেছেন স্থানীয় বাজারের ব্যবসায়ীরা।
বাজারের একাধিক ব্যবসায়ী নাম প্রকাশ না করা শর্তে তারা জানান, সরকার যখন করোনা ভাইরাস প্রতিরোধ ব্যস্ত এরই মধ্যে রনোজিৎ কোনোকিছু তোয়াক্কা না করে কীভাবে দিন-রাত মদের দোকান খুলে ভিতরে মদের আড্ডা বসিয়েছে। তাছাড়া স্থানীয় ও বহিরাগত যুবকসহ স্কুল পড়ুয়া শিক্ষার্থীদের কাছে মদ বিক্রয় করারও অভিযোগ আছে।
অভিযোগের ভিত্তিতে সরেজমিনে ঝাউডাঙ্গা বাজারের ৩নং গলিতে রনোজিৎ ঘোষের মদের দোকানের ঘটনার সত্যতা জানতে গেলে দেখা যায়, রনোজিৎ ঘোষ দোকান খুলে নিষিদ্ধ প্লাস্টিক পলিথিন ব্যাগে বিভিন্ন ব্যক্তিসহ যুবকদের কাছে বাংলা মদ বিক্রয় করছে। এমনত অবস্থায় নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস ছাড়া সকল দোকানপাট বন্ধ থাকলেও মদের দোকান খোলা থাকার খবরে জনমনে তৈরি হয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া।
অনেকেই বলছেন তার খুঁটির জোর কোথায়, দেশের এই পরিস্থিতিতে একজন মদ ব্যবসায়ীর মদের দোকান কিভাবে খোলা থাকে!
এ ব্যাপারে মদের দোকান মালিক রনোজিৎ ঘোষ সাংবাদিককে বলেন, আমার দোকান সরকার অনুমোদিত। দোকান বন্ধ রাখার বিষয়ে বাজার কমিটি বা কোনো প্রশাসন থেকে নির্দেশনা দেওয়া হয়নি।
তিনি আরো বলেন, আমি এবং রাধেশ্যাম পাটনারে ব্যবসা করি। আমি একমাস ও রাধেশ্যাম একমাস। রীতিমত সরকারের ভ্যাট দিয়ে নিয়ম মেনে মদ বেঁচা-কেনা করছি। সবই কর্তৃপক্ষকে জানিয়ে করছি এতে আপনারা আমাদের কিছুই করতে পারবেন না। এ বিষয়ে মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সাতক্ষীরা জেলার শাখার সার্কেল মাহাদুর রহমানের কাছে একাধিক বার মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়। এলাকার সচেতন মহলসহ ব্যবসায়ীরা সরকারি নির্দেশনা অমান্যকারী রাধেশ্যাম ও রনোজিৎ ঘোষের মদের দোকান বন্ধসহ কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণে কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন।