এম এ মালেক,সিরাজগঞ্জঃ
শস্য ভান্ডার হিসেবে খ্যাত সিরাজগঞ্জের তাড়াশে ইরি-বোরো মৌসুমের অপেক্ষার পালা শেষ। সবুজ বর্ণ ফিকে হয়ে সোনালী বর্ণ ধারন করেছে কৃষকের সোনার ফসল। তবে শ্রমিক সংকটের কারনে ধান কাটতে পারছে না অনেক কৃষক। পাকা ধান ঘরে তুলতে না পাড়ায় দিশেহারা হয়ে পড়েছে চাষী।
তাড়াশ উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, এবছর উপজেলায় ২২ হাজার ৭৫০হেক্টর জমিতে
বোরো ধান চাষ করা হয়েছে। এর মধ্যে হাইব্রিড ২২ হাজার ২২০ হেক্টর বাকি ৫ শত ৫০ হেক্টর জমিতে উপশি জাতের ধান চাষ হয়েছে। স্বপ্নের সোনালী ধান পেকে গেলেও শ্রমিক সংকটের কারনে ফসল ঘরে তুলতে সৃষ্টি হয়েছে বড় বাধা।
শ্রমিক পর্যাপ্ত না পাওয়ায় যেন জমিতেই ঝরে
পড়ছে কৃষকের সোনালী স্বপ্ন। সরোজমিনে অত্র উপজেলার কহিত, বিনসাড়া, পেঙ্গুয়ারী,কাজিপুর
খুটিগাছাসহ বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, মাঠের পর মাঠ ধান পেকে সোনালী বর্ণ ধারন করলেও শ্রমিক সংকটের কারনে ধান
কাটতে পারছে না অনেক কৃষক।
বিনসাড়া গ্রামের কৃষক মো. আবু বক্কর
বলেন,২৫ বিগা জমিতে বোরো ধান চাষ করেছি। কিন্তু উপযুক্ত সময়ে ধান কাটতে না পারলে ব্যাপক বিপর্যয় ঘটবে। তাছাড়া ইতিমধ্যে মাঠে কালবৈশাখী ঝড় ও শিলা বৃষ্টিতে বোরো ধানের ব্যাপক ক্ষতি হওয়ায় আমরা আতংকে আছি।
স্থানীয় কৃষকদের সাথে কথা বলে জানা যায়,এবার প্রতি বিগা জমির ধান কাটতে শ্রমিকদের মজুরি বাবদ দিতে হচ্ছে ৪ হাজার টাকা। যা গত বছরে চাইতে দিগুন। কৃষকরা আরো জানা যায়, বোরো চাষে এবছর খরচও
গতবারের তুলনায় অনেক বেশি হয়েছে। অনেকে দাদন ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে চড়া সুদে টাকা নিয়ে বোরো আবাদ করেছে। ফসল ঘরে তুলতে না পারলে সবাই পথে বসে যাবে।
এ ব্যাপারে তাড়াশ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, এবছর আগের যে কোন বছরের চেয়ে বোরো আবাদ ভাল হয়েছে। এখন ধান কেটে ঘরে তুলতে পারলেই কৃষকের মুখে হাঁসি ফুটবে।