মাদককে না বলি, মাদকমুক্ত সমাজ গড়ি এই প্রত্যয়কে সামনে রেখে সিরাজগঞ্জে মাদকবিরোধী এক ব্যতিক্রমী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শুক্রবার (২৬ জুন) বিকেল ৪টায় সিরাজগঞ্জ ইসলামিয়া সরকারি কলেজ মাঠ প্রাঙ্গণে আব্দুস সাত্তার ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
সমাজ থেকে মাদকের ভয়াবহতা দূর করে একটি সচেতন, সুস্থ ও সুন্দর প্রজন্ম গড়ে তোলার লক্ষ্যে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে সার্বিক সহযোগিতা করেন সিরাজগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির পরিচালক এবং আব্দুস সাত্তার ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান হাজী মো. আব্দুস সাত্তার।
সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন ধানবান্দী এলাকার প্রবীণ মুরব্বী আজাহার আলী মণ্ডল। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন গান্ধাইল আইডিয়াল ডিগ্রি কলেজের অধ্যাপক মাসুদ রানা। এতে স্বাগত বক্তব্য দেন হাজী কোরাবালি কলেজের প্রাক্তন অধ্যক্ষ মুকতেল হোসেন।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন সিরাজগঞ্জ জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি খ. ম. রকিবুল হাসান রতন, কমিউনিস্ট পার্টির মো. ইসমাইল হোসেন, বিশিষ্ট নাট্যকার ও লেখক মো. শরিফুল ইসলাম, মানিক কুমার সাহা ও জহুরুল ইসলাম মণ্ডলসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।
প্রধান আলোচকের বক্তব্যে হাজী মো. আব্দুস সাত্তার বলেন, মাদক একটি নীরব ঘাতক। এটি শুধু একজন ব্যক্তিকে নয়, একটি পরিবার, সমাজ ও জাতির ভবিষ্যৎকে ধ্বংস করে দেয়। মাদকের ভয়াবহতা থেকে যুব সমাজকে রক্ষা করতে হলে পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সামাজিক সংগঠন, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ও প্রশাসনকে একযোগে কাজ করতে হবে।
তিনি বলেন, মাদকাসক্তির কারণে পারিবারিক বন্ধন দুর্বল হচ্ছে, অপরাধ বাড়ছে এবং তরুণ সমাজ বিপথগামী হচ্ছে। তাই খেলাধুলা, শিক্ষা, সংস্কৃতি ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে তরুণদের সম্পৃক্ত করার মাধ্যমে মাদকের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।
সমাবেশে অংশগ্রহণকারীরা নিজেকে ভালোবাসুন, পরিবারকে ভালোবাসুন, মাদকমুক্ত সমাজ গড়ুন এবং মাদক ছাড়ি, সুস্থ জীবন গড়ি এসব স্লোগানে অনুষ্ঠানস্থল মুখরিত করে তোলেন। তারা মাদক নির্মূলে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
সমাবেশ শেষে সিরাজগঞ্জ শহরকে পরিচ্ছন্ন ও সবুজ নগরী হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মাঝে ফলজ, বনজ ও ঔষধি গাছের চারা বিতরণ করা হয়। আয়োজকরা জানান, মাদকমুক্ত সমাজ গঠনের পাশাপাশি পরিবেশ রক্ষায় বৃক্ষরোপণ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
নারীদের উল্লেখযোগ্য অংশগ্রহণে অনুষ্ঠানটি আরও প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে। বক্তারা আশা প্রকাশ করেন, সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় মাদকের বিরুদ্ধে শক্তিশালী সামাজিক আন্দোলন গড়ে উঠবে এবং আগামী প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ ও আলোকিত সমাজ প্রতিষ্ঠা সম্ভব হবে।