বৃহস্পতিবার , ৩০শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ১৭ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ - গ্রীষ্মকাল || ১২ই জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি

সিরাজগঞ্জে হারিয়ে যাচ্ছে গ্রাম বাংলা ঐতিহ্য বোলানে রশি পাকানো

প্রকাশিত হয়েছে-
প্রকাশ করেছেন- মোহাম্মদ ইমন মিয়া, বাঙ্গরা,কুমিল্লা করেসপন্ডেন্ট।

এম এ মালেক,সিরাজগঞ্জঃ

প্রযুক্তির চরম উৎকর্ষে আর আধুনিকতার ছোয়ায় হারিয়ে যাচ্ছে সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলার গ্রাম বাংলা ওতিহ্যবাহী বোলানে রশি পাকানোর দৃশ্য। এক সময় গ্রামের মানুষ গৃহস্তলির কাজে রশির চাহিদা পুরন করত বোলানে পাকিয়ে। দুই দশক আগেও গ্রামের প্রতিটি বাড়িতে পাট দিয়ে বোলানে রশি পাকিয়ে সকল কাজ সম্পন্ন করত গ্রামের মানুষ।

বোলানে পাকানো রশি দিয়ে ঘর, বেড়া বাধা, গবাদি পশু বাধা সহ সকল প্রয়োজনীয় কাজ সমাধান করা হত। ওই সময়ে প্রতিটি বাড়ির পরিবার প্রধান অবসর সময় বসে পাট দিয়ে
বোলানে দড়ি তৈরি করত। অনেকে বোলানে রশি (দড়িঁ) তৈরি করে হাটে বাজারে বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করত।

বোলানে পাকানো রশি অন্য যে কোন রশির চাইতে শক্ত নিখুত ও দেখতে সুন্দর লাগত। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে গ্রামের কৃষক যখন
অবসরে থাকত তখন বাড়ির আঙ্গিনায় পাট ও বোলান নিয়ে বসে রশি নিয়ে বসে পড়তো। আর মনের সুখে হোক্কা টানতো এবং জারি গান সারি গান ও ভাটিয়ালি গান গাইত।

অনেকে আবার কেতাব পড়ত। এগুলো পাড়ার সকল বয়সের নারী পুরুষ বসে বসে শুনত। কিন্ত এসবই এখন সুধুই স্বৃতি। বর্তমানে গ্রামের পর গ্রাম ঘুরলেও বোলানে রশি পাকানো চোখে পরে না। এখন গ্রামের মানুষ আধুনিক পদ্ধতিতে তৈরী রশি বাজার থেকে ক্রয় করে সব কাজ করে থাকে।

সম্প্রতি তাড়াশ উপজেলার নওঁগা গ্রামের জৈনক ব্যক্তিকে বোলানে রশি পাকাতে দেখা যায়, তার সাথে কথা হলে তিনি জানান, এক সময় বোলানে রশি তৈরী করে বিভিন্ন হাট বাজারে বিক্রি করে পরিবার পরিজন নিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতাম।

কিন্ত আধুনিকতার যুগে এসে বোলানে পাকানো রশি’র কদর হারিয়ে গেছে। উপজেলার বিনসাড়া
গ্রামের বৃদ্ধ আব্দুস সোবহান বলেন, এক সময়ে পালা করে পাল্লা দিয়ে বোলানে রশি পাকাতাম আর জারি গান সারি গান ও ভাটিয়ালি গান
গাইতাম। কালের আবর্তে সব যেন হারিয়ে যাচ্ছে।

Please follow and like us: