রবিবার , ৩রা মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ২০শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ - গ্রীষ্মকাল || ১৫ই জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি

সিরাজগঞ্জ বাগবাটি ইউপি সচিব মোঃ মাসুদ রানা’র অপসারণের দাবিতে মানববন্ধন

প্রকাশিত হয়েছে-
প্রকাশ করেছেন- আশরাফুল ইসলাম জয়, স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট ।

সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার ২নং বাগবাটি ইউনিয়নে বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে ইউনিয়ন পরিষদের সচিব মোঃ মাসুদ রানার অপসারণের দাবিতে মানববন্ধন ও অভিযোগ প্রদান করেছেন স্থানীয়রা।

মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) বেলা ১২টার দিকে বাগবাটি ইউনিয়ন পরিষদের সামনে স্থানীয় সর্বস্তরের জনগণের উদ্যোগে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। মানববন্ধন শেষে অংশগ্রহণকারীরা জেলা প্রশাসক বরাবর লিখিত অভিযোগ জমা দেন।

মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করে ব‌লেন, সরকারি ভিজিএফ কর্মসূচির আওতায় হতদরিদ্রদের জন্য বরাদ্দকৃত চাল বিতরণে ব্যাপক অনিয়ম করা হয়েছে। ১০ কেজি চাল দেওয়ার কথা থাকলেও অনেক ক্ষেত্রে ৮ থেকে সাড়ে ৮ কেজি করে চাল দেওয়া হয়েছে। এছাড়া শতাধিক কার্ডে অনিয়মের অভিযোগও তোলা হয়।

রাজিবপুর গ্রামের শহিদুল ইসলাম বলেন, আমাদের নামে বরাদ্দ থাকা ১০ কেজি চাল পূর্ণভাবে দেওয়া হয়নি। ৮ থেকে সাড়ে ৮ কেজি করে দেওয়া হয়েছে। এভাবে গরিব মানুষের প্রাপ্য চাল থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে, যা অত্যন্ত দুঃখজনক।

ঘোড়াচড়া গ্রামের নজরুল ইসলাম অভিযোগ করে বলেন, জন্মনিবন্ধন ও ওয়ারিশিয়ান সনদ নিতে গেলে অতিরিক্ত টাকা দাবি করা হয়। নির্ধারিত ফি’র বাইরে কয়েক হাজার টাকা পর্যন্ত নেওয়া হচ্ছে। টাকা না দিলে হয়রানি করা হচ্ছে, ফলে সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়ছে।

ফুলকোচা গ্রামের মোঃ ইব্রাহিম বলেন, ৫ আগস্টের পর থেকে সচিব মাসুদ রানা বিভিন্ন অনিয়ম করে আসছেন। গরিব ও অসহায় মানুষের নাগরিক সেবা প্রদান না করে অর্থের বিনিময়ে কাজ করছেন। এতে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ দিন দিন বাড়ছে।

এদিকে ইউনিয়নে স্থায়ী চেয়ারম্যান না থাকায় প্রশাসনিক কার্যক্রমে স্থবিরতা দেখা দিয়েছে বলেও অভিযোগ করেন এলাকাবাসী। দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রশাসক জেলা শহরে অবস্থান করায় সাধারণ মানুষকে প্রয়োজনীয় সেবা নিতে দূরে যেতে হচ্ছে। ফলে জন্মনিবন্ধন, ওয়ারিশ সনদসহ গুরুত্বপূর্ণ দাপ্তরিক কাজ ব্যাহত হচ্ছে।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, এসব অনিয়ম ও দুর্নীতির জন্য সংশ্লিষ্ট সচিবকে দায়ী করে দ্রুত তার অপসারণসহ দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান তারা। অন্যথায় ভবিষ্যতে আরও কঠোর কর্মসূচি গ্রহণের হুঁশিয়ারি দেন আন্দোলনকারীরা।

Please follow and like us: