বেলজিয়ামভিত্তিক দাতা সংস্থা কারামা সলিডারিটি ও নেদারল্যান্ডসভিত্তিক ইসলামিক রিলিফের অর্থায়নে এবং সোশাল এইডের ব্যবস্থাপনায় সিরাজগঞ্জে তিন দিনব্যাপী ৩ হাজার ১২০ জন সুবিধাবঞ্চিত ও নিম্নআয়ের মানুষের মাঝে কোরবানির মাংস বিতরণ করা হয়েছে।
ঈদুল আযহার আনন্দ সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষের মাঝে ছড়িয়ে দেওয়ার লক্ষ্যে জেলার আমলাপাড়া ঈদগাহ মাঠ, ইসলামিয়া সরকারি কলেজ প্রাঙ্গণ, শিয়ালখোল, সাহানগাছা, বাহুকা ও সয়দাবাদ এলাকায় এ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হয়। কর্মসূচির আওতায় প্রত্যেক উপকারভোগীকে দুই কেজি করে কোরবানির মাংস প্রদান করা হয়।
আয়োজক সূত্রে জানা যায়, ঈদ উপলক্ষে দরিদ্র, অসহায়, বিধবা, প্রতিবন্ধী ও নিম্নআয়ের পরিবারগুলোর জন্য এই মানবিক সহায়তা কার্যক্রম পরিচালিত হয়। বিতরণ কার্যক্রমে উপকারভোগীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যায়। মাংস পেয়ে অনেকেই সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, কারামা সলিডারিটির কান্ট্রি ডিরেক্টর মোহাম্মদ আলী সোহেল, কারামা সলিডারিটির প্রোগ্রাম অফিসার সন্তু, ইসলামিয়া সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ শরিফ উস সাঈদ কপোত, সহযোগী অধ্যাপক মো. প্রিন্স, পুলিশ ইন্সপেক্টর টি এম আব্দুর রহমান, কবি ও ব্যবসায়ী সোপ্তিক ছালাম, আমরা ৮৬ এসএসসি ব্যাচ সিরাজগঞ্জের সাধারণ সম্পাদক মনজুর শাহীন, মো. আব্দুল হালিম, সোবায়দুল তিতুসহ বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব।
সমগ্র বিতরণ ও বাস্তবায়ন কার্যক্রম পরিচালনা করেন সোশাল এইড সিরাজগঞ্জের জেলা প্রতিনিধি মামুন ছালাম।
এ সময় বক্তব্যে মামুন ছালাম বলেন, ঈদের প্রকৃত শিক্ষা হলো ত্যাগ, সহমর্মিতা ও মানবতার সেবা। সমাজের পিছিয়ে পড়া মানুষের মুখে হাসি ফোটানোর উদ্দেশ্যে কারামা সলিডারিটি, ইসলামিক রিলিফ এবং সোশাল এইড যৌথভাবে এই কর্মসূচি বাস্তবায়ন করেছে। আমরা চেষ্টা করেছি যেন প্রকৃত অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত পরিবারগুলো এই সহায়তার আওতায় আসে। তিন দিনে জেলার বিভিন্ন এলাকায় ৩ হাজার ১২০ জন মানুষের হাতে দুই কেজি করে মাংস পৌঁছে দিতে পেরে আমরা আনন্দিত। ভবিষ্যতেও মানবিক ও কল্যাণমূলক কর্মকাণ্ড অব্যাহত থাকবে।
কারামা সলিডারিটির কান্ট্রি ডিরেক্টর মোহাম্মদ আলী সোহেল বলেন, মানবিক সহায়তার মাধ্যমে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো আমাদের অন্যতম অঙ্গীকার। ঈদের আনন্দ সবার সঙ্গে ভাগাভাগি করে নিতে আমরা এ ধরনের উদ্যোগ নিয়মিত বাস্তবায়ন করে থাকি।
বক্তারা বলেন, সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে পরিচালিত এ ধরনের উদ্যোগ সমাজে সম্প্রীতি, সহমর্মিতা ও মানবিক মূল্যবোধকে আরও শক্তিশালী করে। তারা ভবিষ্যতেও দরিদ্র ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কল্যাণে এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত রাখার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।
অনুষ্ঠান শেষে উপকারভোগীদের মাঝে সুশৃঙ্খলভাবে মাংস বিতরণ করা হয়। আয়োজকরা জানান, ঈদের আনন্দ সমাজের প্রতিটি মানুষের ঘরে পৌঁছে দিতে ভবিষ্যতেও বিভিন্ন মানবিক সহায়তা কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।