, || - ||

হামলা-মামলায় আতঙ্ক, বিক্ষোভ প্রতিবাদ সংবাদ সম্মেলন’র পর বিবাদ মীমাংসায় আনন্দ মিছিল শেষে জনমনে স্বস্তি 

প্রকাশিত হয়েছে-
প্রকাশ করেছেন- নজরুল ইসলাম চৌধুরী, জেলা করেসপন্ডেন্ট,ফেনী।
নজরুল ইসলাম চৌধুরীঃ
গত বৃহস্পতিবার (৫ সেপ্টেম্বর) ছাগলনাইয়ায় আ’লীগের দুই পক্ষের মাঝে সংগঠিত বিবাদে আহত হয় ঘোপাল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আজিজুল হক মানিকসহ দু’পক্ষের অন্তত ৭ জন নেতাকর্মী। এ মারামারির ঘটনাকে কেন্দ্র করে জনমনে আতঙ্ক বিরাজ করছিলো। থানায় পাল্টাপাল্টি মামলা করে দুই পক্ষ। পুলিশ গ্রেফতার করে দুই জনকে। শান্ত ছাগলনাইয়াবাসীর মনে অশান্তি আর আতঙ্ক বিরাজ করছিলো গত দুই তিনদিন। চেয়ারম্যান মানিকের ওপর হামলার প্রতিবাদে ফেনী জেলার সকল ইউপি চেয়ারম্যানরা প্রতিবাদ সভা ও জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের নিকট স্মারকলিপি প্রেরণ করেন। স্থানীয় চেয়ারম্যান’র ওপর হামলার প্রতিবাদে ঘোপালে প্রতিবাদ সভা হয়। সভায় নিজের ওপর হামলার ক্ষোভ প্রকাশে নানা প্রকার হুমকি দিয়ে বক্তব্য প্রদান করেন আজিজুল হক মানিক। অন্যদিকে এ অপ্রত্যাশিত ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ ও ব্যাখ্যা দিতে ঘটনার দিন রাতে সংবাদ সম্মেলন করেন নবনির্বাচিত উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান এনামুল হক মজুমদার। আবার মানিক চেয়ারম্যান’র ওপর হামলার প্রতিবাদে ছাগলনাইয়া জমদ্দার বাজারে বিক্ষোভ মিছিলও দেখাগেছে। এমন ঘটনায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ঘটনার পর থেকেই ছাগলনাইয়া থানার পুলিশের অবস্থান ছিলো দৃশ্যমান। অপরদিকে এ ঘটনায় পাল্টাপাল্টি এক মামলায় আসামি করায় এটি একটি মিথ্যা ও বানোয়াট মামলা দাবী করে রবিবার বিকেলে সংবাদ সম্মেলন করেছেন পাঠাননগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রফিকুল হায়দার চৌধুরী জুয়েল। অবশেষে এনামুল হক মজুমদার ও আজিজুল হক মানিক’র মাঝে সংগঠিত দ্বন্দ্বের অবসান ঘটান ফেনী-২ আসনের সাংসদ ও ফেনী জেলা আ’লীগের সাধারণ সম্পাদক নিজাম উদ্দিন হাজারী এমপি। রবিবার (৮ সেপ্টেম্বর) নিজাম উদ্দিন হাজারী এমপি এবং ছাগলনাইয়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আ’লীগের সাধারণ সম্পাদক মেজবাউল হায়দার চৌধুরী সোহেল’র উপস্থিতিতে এ বিবাদের মীমাংসা করা হয়। এ দ্বন্দ্বের মীমাংসা হওয়ার খবর পেয়ে দলীয় নেতাকর্মীদের মাঝে স্বস্তি দেখে দেয়। নিজেদের বিবাদের মিটমাট হওয়ায় সন্ধ্যায় ছাগলনাইয়া উপজেলা আ’লীগের সাধারণ সম্পাদক মেজবাউল হায়দার চৌধুরী সোহেল’র নেতৃত্বে হাজারো নেতাকর্মীর অংশগ্রহণে এক আনন্দ মিছিল বের করা হয়। মিছিল শেষে উপজেলা আ’লীগ কার্যালয়ে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। অপ্রত্যাশিত ঘটনায় মারামারি, মামলা, পাল্টামামলা, গ্রেফতার, বিক্ষোভ, প্রতিবাদ সভা, স্মারকলিপি প্রদান, সংবাদ সম্মেলন সহ সরকার দলীয় নেতাকর্মীদের এমন পাল্টাপাল্টি হুমকি ধমকিতে এলাকায় থমথমে ভাব বিরাজ করছিলো। অল্প সময়ের মধ্যে নিজেদের মাঝে ভুল বুঝাবুঝির অবসান ঘটায় জনমনে স্বস্তি নেমে এসেছে। বিষয়টি নিয়ে কোন পক্ষ পুনরায় বিবাদে জড়াবেনা বলেই আশা করছে সাধারণ জনগণ।
Please follow and like us: