বৃহস্পতিবার , ২৩শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ১০ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ - গ্রীষ্মকাল || ৫ই জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি

হিলির-ঘোড়াঘাটে মাল্টা চাষে স্বাবলম্বী আবু সায়াদ

প্রকাশিত হয়েছে-
প্রকাশ করেছেন- মোঃ ইনামুল হাসান নাইম, স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট ,ঢাকা।

মোঃ আব্দুল আজিজ, হিলি প্রতিনিধি: বরেন্দ্রঅঞ্চ লের শস্যভান্ডার হিসেবে খ্যাত দিনাজ পুরের ঘোড়াঘাট উপজেলায় বাণিজ্যিকভাবে চাষ হচ্ছে বারি-১ জাতের মাল্টা। মাল্টা পাহাড়ি ফল হিসেবে পরিচিত হলেও সমতল ভূমিতে রয়েছে এ ফলের ব্যাপক সম্ভাবনা। মাটির গুনাগুন ঠিক থাক লে সমতল এলাকাতেও মাল্টা চাষ করে লাভবান হতে পারেন কৃষকরা- এমনটি জানিয়েছে সফল মাল্টা চাষি কাজী আবু সায়াদ। বর্তমানে আমাদের দেশে অনেক জনপ্রিয় ও সহজলভ্য একটি ফল হচ্ছে মাল্টা। এ ফলটি সারা বছর পাওয়া যায় এবং দামে বেশ সস্তা। মাল্টাতে বিভিন্ন ভিটামিনসহ অনেক পুষ্টিগুণ রয়েছে। মাল্টা চাষ করে সফল হয়ে এলাকায় দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন ঘোড়াঘাট উপজেলার গোপালপুর গ্রামের কাজী আবু সায়াদ চৌধুরী। তার বাগানে গাছে গাছে ঝুলছে থোকা থোকা মাল্টা। বাগানে রয়েছে শতাধিক মাল্টা গাছ। শুধু তাই নয় মাল্টাসহ তার বাগানে সাথী ফসল হিসেবে লেবু গাছ, পেঁপে গাছ ও লিচু গাছ রয়েছে। কাজী আবু সায়াদের সফলতায় উদ্বুদ্ধ হয়ে এলাকার বেকার যুবকেরা ঝুঁকছেন মাল্টা বাগান গড়ে তোলার দিকে।আবু সায়াদ চৌধুরী ব্যক্তিগতভাবে ২০১৭ সালে আগস্ট মাসে ঘোড়াঘাট উপজেলা কৃষি অফিসের সহযোগিতায় উপজেলার পালশা ইউনিয়নের বিলপাড়া গ্রামের
পৈতৃক দেড় একর পরিমাণ পরিত্যক্ত পুকুরপাড়ের পশ্চিম পাশের্ব ২ বিঘা পরিমাণ জমিতে মাল্টা ( বারি-১) জাতের চারা রোপণ করেন। প্রায় ২ বছ রেই মাল্টা গাছে ফল ধরেছে। বাগানে গাছে গাছে শোভা পাচ্ছে বিভিন্ন সাইজের মাল্টা। সবুজ পাতা র আড়ালে কিংবা পাতা ঝরা ডালেও ঝুলছেথোকা থোকা মাল্টা। মাল্টা চাষি কাজী আবু সায়াদ চৌধূ রী সঙ্গে কথা হলে তিনি জানান, প্রথম গাছে মা ল্টা ধরার পর থেকে ফল চাষের মাধ্যমে বৈপ্লবিক পরিবর্তনের স্বপ্ন জাগে তার। এখন চলছে স্বপ্ন পূরণের পালা। স্থানীয় কৃষকরা এসব ফলমূল চাষে এগিয়ে এলে মাল্টাসহ বিভিন্ন ফলের চাহিদা মেটা নো সম্ভব। ফলগুলো সুমিষ্ট হওয়ায় বাণিজ্যিকভাবে লাভবান হওয়ার স্বপ্ন দেখ ছেন তিনি।তিনি আরো জানান, গত বছরের চেয়ে চলতি মৌসুমে মাল্টা ফলন ভালো হয়েছে। প্রতি কেজি মাল্টা বিক্রি হয় ১১০ থেকে ১৪০ টাকা দরে।ঘোড়াঘাট উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা এখলাস হোসেন জানান, ঘোড়া ঘাটসহ দিনাজপুর জেলায় ধান চাষের পাশা পাশি মাল্টা চাষের ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। ধান উৎপা দনের চেয়ে মাল্টা চাষে দশগুণ বেশি লাভবানহতে পারে এ অঞ্চ লের কৃষক। তিনি আরো বলেন, ভূগভ্যের অল্প পানি উত্তোলন করে কম খরচে ফলজ বাগান তৈরি করে কৃষক আর্থিকভাবে লাভবান হতে পারে।

Please follow and like us: