, || - ||

৩৩ নম্বরে ফোন করে খাবার পাবো কল্পনাও করিনি

প্রকাশিত হয়েছে-
প্রকাশ করেছেন- এম দুলাল আহাম্মদ, খাগড়াছড়ি করেসপন্ডেন্ট।

মাটিরাঙ্গা উপজেলার ভূঁইয়াপাড়া এলাকায় পরিবার নিয়ে বসবাস করেন রং মিস্ত্রি মো. জাহাঙ্গীর আলম। তিনি প্রাণঘাতি করোনাভাইরাসের কারণে গত দুই সপ্তাহ ধরে কর্মহীন । হাতে কোনো টাকা নেই ঘরে খাবার নেআ। ফলে তিনদিন ধরে ছেলে-মেয়ে ও স্ত্রী নিয়ে অনাহারে অর্ধাহারে আছেন তিনি।
নিজের পরিবারের খাদ্য সঙ্কটের কথা জেনে এক আত্মীয় ৩৩৩ নম্বরে ফোন করে খাদ্য সঙ্কটের কথা জানানোর পরামর্শ দেন। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি যেখানে খাদ্যসামগ্রী দেননি সেখানে ফোন করে খাদ্যসামগ্রী পাবেন বিশ্বাস হয়নি জাহাঙ্গীরের। এরপরও খাবার পাবার আশায় ৩৩৩ নম্বরে ফোন করেন তিনি।
৩৩৩ নম্বরে ফোন দিয়ে নিজের কষ্টের কথা জানিয়ে খাদ্য সহায়তা চাইলে তাৎক্ষণিক ৩৩৩ কাস্টমার কেয়ার থেকে ফোন আসে মাটিরাঙ্গার ইউএনও বিভীষণ কান্তি দাশের কাছে। মুহূর্তেই তিনি অসহায় জাহাঙ্গীর আলমের সাথে মুঠোফোনে কল দিয়ে বাড়ীর অবস্থান জেনে পরিষদের ব্যবহৃত গাড়ী নিয়ে নিজেই বৃহস্পতিবার দুপুরে জাহাঙ্গীর আলমের কাছে যান। সেখানে তিনি জাহাঙ্গীর আলমের খোজ-খবর নেন এবং তার হাতে চাল, ডাল, তেল, লবণ ও সাবানসহ প্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী তুলে দেন।
জাহাঙ্গীর আলম বলেন, অনেক দিন ধরে কাজ নেই। কাজ করলে খাবার জোটে, না করলে নেই। ঘরে জমানো নেই টাকা-পয়সা। স্থানীয় প্রতিনিধি সবার ঘরে ঘরে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করলেও আমি পাইনি। উপায় না পেয়ে ৩৩৩ নম্বরে ফোন করেছি। তবে খাদ্যসামগ্রী পাব বিশ্বাস করতে পারিনি।
একইদিন মুঠোফোনে পাওয়া এসএমএসে খাদ্য সঙ্কটের কথা জানতে পেরে মাটিরাঙ্গার নতুপাড়ায় বিধবা করফুলের নেছার বাড়িতে গিয়েও খাদ্য সহায়তা দেন ইউএনও বিভীষণ কান্তি দাশ।

Please follow and like us: