, , ,

শিরোনামঃ-
  • হোম
  • ঢাকা
  • ১৪ ঘন্টার শ্বাসরুদ্ধকর অভিযানে উদ্ধার হলো অপহৃত শিশু সিমন




১৪ ঘন্টার শ্বাসরুদ্ধকর অভিযানে উদ্ধার হলো অপহৃত শিশু সিমন

মোহাম্মদ ইমন মিয়া, বাঙ্গরা,কুমিল্লা করেসপন্ডেন্ট।

আপডেট টাইম : আগস্ট ৩১ ২০১৮, ১০:৫১ | 1033 বার পঠিত | প্রিন্ট / ইপেপার প্রিন্ট / ইপেপার

মোঃ ইব্রাহিম হোসেন, ঢাকা প্রতিনিধিঃ

আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রথমেই যে নাম আসে, সেটা হলো পুলিশ। বলা হয়ে থাকে পুলিশ জনগণের সেবক। পুলিশ দেশমাতার নির্ভীক সৈনিক। পুলিশ সদাজাগ্রত বীর। পুলিশ জনগনের বন্ধু। বিপদে যার কাছে আশ্রয় নেয়া যায় তিনিই বন্ধু। শুধু তাই নয় পুলিশ সমাজের ভারসাম্য রক্ষা করে। অপরাধ নিমূলে সচেষ্ট থাকে, থাকে নিরাপত্তা দেওয়ার দায়িত্বে। এগুরু দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে চাই দেশ প্রেম। দলমতের উর্দ্ধে থেকে নিজ দায়িত্ব পালন করতে পারলেই যেমন সফল হওয়া যায়। তেমনি দক্ষ, সৎ, সাহসী পুলিশ অফিসার দেশের মানুষের কল্যাণে কাজ করবে এটাই কাম্য।

জনগনের নিরাপত্তা বিধান ও আইন শৃঙ্খলা স্বাভাবিক রাখতে যোগ্য, সৎ, সাহসী, পুলিশের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তেমনই এক জন দেশমাতার নির্ভীক সৈনিকের সন্ধান মিলছে তিনি হলেন, ঢাকা মেট্রোপলিটন তেজগাঁও বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার বিপ্লব কুমার সরকার বিপিএম, পিপিএম। পুলিশ যে জনগণের বন্ধু প্রতিনিয়ত প্রমান করে চলছে তিনি।

তোয়াছিন ইসলাম । ডাক নাম সিমন। চার বছর বয়সী সিমন বাবা-মা’র একমাত্র সন্তান। বাবা সাইফুল ইসলাম তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানাধীন পূর্ব নাখালপাড়ার লিচু বাগান এলাকায় ভাড়া থাকেন। পেশা: প্রথম আলো পত্রিকার মুদ্রণ শ্রমিক। সীমিত আয়ের সংসারে ভাড়া বাসায় থেকে স্ত্রী ও পুত্রের মুখে দুবেলা খাবার যোগাতে হিমশিম খেতে হয় সাইফুলকে।

২৮ আগস্ট ২০১৮ইং তারিখ স্ত্রী ও পুত্রকে নিয়ে বের হয়ে সারাদিন শিশু পার্ক, চিড়িয়াখানা ঘুরে রাত ০৮.০০ ঘটিকার দিকে বাসায় ফেরে সাইফুল।

সারাদিন ঘোরাঘুরির পর রান্নায় ব্যস্ত হয়ে হয়ে পড়ে সাইফুলের স্ত্রী। ছোট্র সিমন ব্যস্ত হয়ে পড়ে খেলাধুলায়। ক্লান্ত সাইফুল স্ত্রী-পুত্রকে নিয়ে দিনব্যাপী ঘোরাঘুরির আনন্দঘন স্মৃতি রোমন্থন করতে থাকে বিছানায় শুয়ে। এমন আনন্দঘন দিন নিমিষেই যে তার জীবনের সবচেয়ে বিষাদময় দিনে পরিনত হবে তা ঘূনাক্ষরেও টের পায়নি সাইফুল। রাত ৮.৫০ ঘটিকার দিকে স্ত্রীর চিৎকারে রুমের বাইরে আসে সাইফুল। তার স্ত্রী জানায় রান্নার কাজে ব্যস্ত থাকায় সিমনের খেয়াল রাখতে পারেনি। খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না সিমনকে।

সাইফুল ও তার স্ত্রীর আর্ত চিৎকারে জড়ো হলো বেশ কিছু লোক। তন্নতন্ন করে খোজা হলো বাসার চারপাশ। বাসা পেরিয়ে আশেপাশের রাস্তাঘাট, খেলার মাঠ, পরিচিতদের বাড়িঘর। খবর শুনে ছুটে এলো সাইফুলের কয়েকজন সহকর্মী, বন্ধু-বান্ধব ও আত্নীয়-স্বজন। আলাদা আলাদাভাবে খোজা হলো পুরো এলাকা। নাখালপাড়া, সাত রাস্তা, মহাখালী, রেলওয়ে স্টেশন, হাতিরঝিল, মধুবাগ, বিজয় স্বরণী, তেজগাঁও এলাকা। আত্নীয়-স্বজনেরা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নিয়ে চলে গেল ডিএমপির সব থানায়। ঢাকার পার্শ্ববর্তী থানাগুলোতে।
২৯ আগস্ট ২০১৮ইং তারিখ সকাল ৯.০০ ঘটিকায় তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানায় সাধারন ডায়েরী করে সাইফুল।২৯ আগস্ট ২০১৮ইং তারিখ দুপুর ০২.০৫ ঘটিকায় অজ্ঞাত একটি মোবাইল নম্বর থেকে সাইফুলের মোবাইলে কল আসে। অপর প্রান্ত থেকে জানানো হয়, ‘সাইফুলের একমাত্র ছেলে তাদের হাতে। তাকে অপহরন করা হয়েছে। ২০ লক্ষ টাকা মুক্তিপণের বিনিময়ে সাইফুল তার ছেলেকে ফিরে পেতে পারে। পুলিশকে জানালে বা কোনরকম চালাকি করলে ছেলের লাশের খোঁজও পাবে না সাইফুল’।

মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ে সাইফুলের। দুই হাজার টাকা যোগাড় করার সাধ্য নেই যার, সে কিভাবে যোগাড় করবে ২০ লক্ষ টাকা! পুরো বিষয়টি মোবাইল ফোনে তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানার এসআই মার্গুব তৌহিদকে জানিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়ে সাইফুল।

এ ঘটনা জানার পর তেজগাঁও বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার বিপ্লব কুমার সরকার বিপিএম, পিপিএম অপহৃত সিমনকে উদ্ধার না করে বাসায় না ফেরার নির্দেশ দেন তেজগাঁও শিল্পানচল জোনের এডিসি হাফিজ আল ফারুক ও এসি সালমান হাসানকে।

পুলিশকে জানানোর বিষয়টি অপহরনকারীরা জানতে পারলে সিমনকে মেরে ফেলতে পারে এই ভয়ে পুলিশের সাথে আর যোগাযোগ করতে চাচ্ছিলো না অপহৃত সিমনের বাবা সাইফুল। পুলিশ তার সাথে বার বার যোগাযোগ করতে চেষ্টা করার এক পর্যায়ে সাইফুল ভয়ে তার মোবাইল ফোন বন্ধ করে ফেলে। ঐদিন তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানায় সাইফুল যে নিঁখোজ জিডি করেছিল, সেই জিডিতে উল্লেখিত সাইফুলের ঠিকানার সূত্র ধরে তেজগাঁও শিল্পানচল থানা পুলিশ সিভিলে নিজেদেরকে সাইফুলের আত্নীয় পরিচয় দিয়ে তার বাসায় উপস্থিত হয়। পুলিশকে জানানো হলে সিমনকে অপহরনকারীরা মেরে ফেলবে জানিয়ে সাইফুল অপহরণকারী যে মোবাইল নম্বর থেকে তাকে ফোন করে মুক্তিপণ দাবী করেছে সে মোবাইল নম্বর দিতে অস্বীকৃতি জানায়।

সাইফুল ও তার স্ত্রীকে থানার আশেপাশে নেওয়া হবে না জানিয়ে আশ্বস্ত করে আত্নীয় পরিচয়ে বাসার আশেপাশের কাউকে বুঝতে না দিয়ে তাদেরকে তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানাধীন বেগুনবাড়ি এলাকায় একটি বাসায় আনা হয়।

পুলিশের পরামর্শে অপহরণকারীদের সাথে মোবাইলে নেগোসিয়েশন চালিয়ে যেতে থাকে সাইফুল ও তার স্ত্রী। সামান্য হেরফের হলেই অপহৃত সিমনের ছিন্নভিন্ন লাশের হুমকি।

তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল জোনের এডিসি হাফিজ আল ফারুকের নেতৃত্বে তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল জোনের এসি সালমান হাসানসহ তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানার একটি টীম রাত ০২.৩৮ ঘটিকার দিকে হাতিরঝিল এলাকা থেকে রোমান নামে অপহরনকারী চক্রের একজন সদস্যকে গ্রেফতার করে।

রোমানের স্বীকারাক্তি অনুসারে ঢাকা জেলার কেরানীগনজ থানাধীন আটিবাজার এলাকা থেকে মানিক নামের অপহরনকারী চক্রের আর একজন সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়। মানিকের স্বীকারাক্তি অনুসারে রাত অনুমান ০৩.৪০ ঘটিকার দিকে তেজগাঁও থানাধীন বিজয় স্বরণী এলাকার পিরমা মসজিদের গলির পাশের খোলা মাঠ থেকে অপহৃত সিমনকে উদ্ধার করা হয়। অপহৃত শিশুকে চেতনানাশক ঔষুষ দিয়ে অচেতন করে রাখা হয়েছিল।

অপহরণকারীদের দেয়া তথ্য অনুসারে ঐ রাতেই মোহাম্মদপুর, শেরে বাংলানগর ও মহাখালী ও বিজয় স্বরণী এলাকা থেকে অপহরনকারী চক্রের বাকি ৪ সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়। এ বিষয়ে তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।

Please follow and like us:

সর্বশেষ খবর

এ বিভাগের আরও খবর

প্রধান সম্পাদক- খোরশেদ আলম চৌধুরী, সম্পাদক- আশরাফুল ইসলাম জয়,  উপদেষ্টা সম্পাদক- নজরুল ইসলাম চৌধুরী।

 

ঢাকা অফিস : রোড # ১৩, নিকুঞ্জ - ২, খিলক্ষেত, ঢাকা-১২২৯,

সম্পাদক - ০১৫২১৩৬৯৭২৭,০১৬০১৯২০৭১৩

Email-dailynayaalo@gmail.com নিউজ রুম।

Email-Cvnayaalo@gmail.com সিভি জমা।

প্রধান সম্পাদক কর্তৃক  প্রচারিত ও প্রকাশিত।

 

সাইট উন্নয়নেঃ ICTSYLHET