১লা মার্চ, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, সোমবার, ১৬ই ফাল্গুন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ১৬ই রজব, ১৪৪২ হিজরি

শিরোনামঃ-
  • হোম
  • দেশজুড়ে
  • কেশবপুরে ব্রাহ্মণডাঙ্গায় জমি নিয়ে বিরোধে পাল্টাপাল্টি সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত

কেশবপুরে ব্রাহ্মণডাঙ্গায় জমি নিয়ে বিরোধে পাল্টাপাল্টি সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত

এস আর সাঈদ কেশবপুুর,যশোর করেসপন্ডেন্ট।

আপডেট টাইম : জানুয়ারি ২৪ ২০২১, ১৫:১১ | 646 বার পঠিত

যশোরের কেশবপুরে জমি নিয়ে বিরোধে উপজেলা প্রেসক্লাবে পাল্টাপাল্টি সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার সন্ধ্যায় সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠকালে উপজেলা ব্রাহ্মণডাঙ্গা (কমলাপুর) গ্রামের মৃত রজব আলী মোড়লের পূত্র গোলাম ফারুক বলেন, গত ১৯ জানুয়ারী তার প্রতিপক্ষ গোলাম নওশের আলী মোড়লের পূত্র নাজমূল হোসেন সংবাদ সম্মেলনে তাদের ভূমি দখলবাজ আখ্যায়িত করে মিথ্যাচার করেছেন।
প্রকৃতপক্ষে উপজেলার ব্রাহ্মণডাঙ্গা (কমলাপুর ) ৯৯ নং মৌজা সি এস খতিয়ান ৯৫৯, এস এ খতিয়ান ৯৪৫। দাগ নং ১১৭২ ও ১১৭৭-এর জমি যথাক্রমে ৫০ শতক ও ১০ শতক। মোট ৬০ শতক। সি এস খতিয়ান ৪১৫, এস এ খতিয়ান ৪৫৩। দাগ নং ১১৮১, ১১৮৩, ১১৮৫ ও ১১৮৭। জমি যথাক্রমে ১৭ শতক, ১৪ শতক, ০৫ শতক ও ১৮ শতক। মোট ৫৪ শতক। সি এস খতিয়ানদ্বয়ের মালিক সামসুন্নেছা বিবি। সামসুন্নেছার বিবির দুই পুত্র। গোলাম আলী মোড়ল ও গোলাম রহমান মোড়ল। গোলাম আলী মোড়লের দুই পুত্র ও তিন কন্যা। পুত্রদ্বয় জোনাব আলী মোড়ল ও রজব আলী মোড়ল। এস এ খতিয়ান ৯৪৫ ও ৪৫৩। খতিয়ানদ্বয়ের মালিক গোলাম রহমান মোড়ল ও গোলাম আলী মোড়লের ওয়ারেশগন। তারা উক্ত জমি সি এস রেকর্ড থেকে ভোগ দখল করে আসছে। এ ছাড়া ঐ খতিয়ানদ্বয়ে আঃ হামিদ শেখ, টেটে মোড়ল, জিতু মোড়ল এর নাম দৃশ্যমান। এরা কেউ সামসুন্নেছা বিবির ওয়ারেশ নয় আবার ক্রয় সূত্রে মালিকও নয়। ভুল ক্রমে এসব নাম খতিয়ান দুটিতে এসেছে। অতীতে তাদের পূর্ব পুরুষরা এবং বর্তমানে তারা কেউ কখনো উক্ত খতিয়ানের জমি ভোগ দখল করেনি ও করে না। আর এস খতিয়ান ১৩৫। ভুলের ধারাবাহিকতায় এই খতিয়ানটিও ভুল। খতিয়ানটি এস এ ৯৪৫ ও ৪৫৩ নং খতিয়ানদ্বয় থেকে আগত। আর এস দাগ নং ২০৯১, ২০৯২, ২০৯৪, ২০৯৬ ও ২০৯৮। পাঁচ দাগে মোট জমি ৫২ শতক। খতিয়নটির মালিক (১)আঃ হামিদ শেখ, পিতা মাদার শেখ (২) কওছার মোড়ল, (৩) নওশের মোড়ল, (৪) লিয়াকত মোড়ল, (৫) হায়দার মোড়ল, (৬) শওকাত মোড়ল, সর্ব পিতা জিতু মোড়ল (৭) আঃ বারিক মোড়ল ও (৮) আঃ হালিম মোড়ল, উভয় পিতা টেটে মোড়ল। কিন্তু অতীতকাল থেকে এ সব জমি গোলাম আলী মোড়ল ও গোলাম রহমান মোড়লের ওয়ারেশগন ভোগ দখল করে আসছে। অথচ গত ১৪/০১/২০২১ ইং তারিখে নওশের মোড়লগংরা এস এ ১১৭২ দাগের জমিতে প্রবেশ করে রক্ষনা বেক্ষন করতে না পারলে তাদের অপূরণীয় ক্ষতি হবে উল্লেখ করে বিজ্ঞ আদালতে মিথ্যা পিটিশন দাখিল করেছে। যারা জমির মালিক না জমি দখল করে না তারা রক্ষনা বেক্ষন করবে কি। আমরা চারি ভাই গোলাম মোস্তফা, গোলাম মোহাম্মদ, গোলাম ফারুক ও গোলাম সরোয়ার। আমরা পৈত্রিক সূত্রে এস এ ১১৭২ , ১১৭৭, ১১৮১, ১১৮৩, ১১৮৫ ও ১১৮৭ দাগের মোট ১ একর ১৪ শতক জমির ১/৪ অংশের মালিক। এর মধ্যে ১১৭২ দাগের ৫০ শতক জমির মধ্যে সাড়ে ১৩ শতক জমি আমরা ভোগ দখল করে আসছি। উক্ত জমিতে আমাদের বাঁশ লাগানো আছে। গত ০৭/০১/২০২১ ইং তারিখ বিকেল আনুমানিক সাড়ে ৩ ঘটিকায় জিতু মোড়লের পুত্র নওশের মোড়ল উক্ত এস এ ১১৭২ দাগের জমি দখলে নেয়ার জন্যে ইউ পি সদস্য আঃ হালিম সানার সহযোগিতায় বিভিন্ন এলাকা থেকে ২৫/৩০ জন লোক নিয়ে উপস্থিত হয়। আগে থেকে আমরা জানতে পেরে গ্রামের কিছু লোকজন ডেকে জমিতে উপস্থিত থাকি ও জমির দখল প্রতিরোধ করি। গত ১১/০১/২০২১ ইং উক্ত জমিতে ১৪৪ ধারার আদেশ চেয়ে আমরা আদালতে আবেদন করি। মামলা নং পি-৪৮/২১। এদিকে ঐদিনই নওশের মোড়ল হালিম মেম্বারের সহযোগিতায় সকাল আনুমানিক ৯ ঘটিকায় বিভিন্ন এলাকা থেকে ৩৫/৪০ জন লোকসহ (১) নাজমুল, পিতা নওশের মোড়ল (২) আঃ বাসার, পিতা মৃত কওছার মোড়ল (৩) তবিবর (৪) আয়ুব, উভয় পিতা মৃত বারিক মোড়ল (৫) সোহাগ, পিতা তবিবর (৬) আঃ লতিফ (৭) আঃ রব, উভয় পিতা মৃত আঃ হামিদ শেখ (৮) মকবুল, পিতা ইলাহী বক্স হাজরা ৫৫/৬০ টি বাঁশ কেটে নিয়ে যায়। এর অধিকাংশ বাঁশ হালিম মেম্বার নিয়ে যায়। পরের দিন ১২/০১/২১ ইং তারিখ মঙ্গলবার আনুমানিক ভোর ৭ ঘটিকায় আবারো নওশের মোড়ল হালিম মেম্বার ও উল্লেখিত ব্যক্তিবর্গসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে ২৫/৩০ জন লোক এনে বাঁশ কাটতে শুরু করে । জানতে আমি তৎক্ষনাৎ আমরা পুলিশকে অবহিত করি। কেশবপুর থানার এএসআই সোহেল, কনস্টেবল অভিজিৎ ও গ্রাম পুলিশ সিরাজুল ইসলাম বাঁশ কাটা অবস্থায় সরেজমিনে উপস্থিত হয়। পুলিশ দেখে সবাই সরে যায়। প্রায় ৩০/৩২ টি কাটা বাঁশ পুলিশ জব্দ করে। দুই দিনে প্রায় ৯০/৯৫ টি বাঁশ কেটে ফেলে যার আনুমানিক ক্ষতি ৪০ হাজার টাকা। জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের ওয়ার্ড সভাপতি লুৎফর রহমান মোড়ল পুলিশকে আমাদের চারি ভাইয়ের নাম উল্লেখ করে বলেন যে এসব বাঁশ ও জমি তাদের। নওশের মোড়লগন জোরপূর্বক বাঁশ কেটে নিচ্ছে। উল্লেখ্য, বিগত ১৯৮১/৮২ সালের ঘটনা। এস এ ৩৮১ দাগের ৪৩ শতক জমি মৃত পাচু মোড়লের পুত্র জাহাবক্স মোড়ল ও শরিতুল্য মোড়লের পৈত্রিক সূত্রে প্রাপ্ত। শরিতুল্য মোড়লের সাড়ে ২১শতক জমির ৮ শতকে পানের বরজ ছিল। নওশের মোড়লগংরা উক্ত বরজ ভেঙ্গে নিজেদের জমি দাবী করে দখল করে নেয়। ইউনিয়ন পরিষদের সালিশে নওশের মোড়লগন শরিতুল্য মোড়লকে ক্ষতি পূরণ দিয়ে ও ক্ষমা চেয়ে পার পায়। আরো উল্লেখ্য, বিগত ২০/১১/২০১১ ইং তারিখ রবিবার যশোরের নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট ও জেলা ভূমি হুকুম দখল কর্মকর্তা শৈলেন্দ্রনাথ মন্ডলের নেতৃত্বে ব্যাব-৬ যশোর ক্যাম্পের সদস্যদের নিয়ে ৯৯ ব্রাহ্মণডাঙ্গা মৌজার এস এ ১ নং খাস খতিয়ানের ৩১০ দাগের উপর থেকে মৃত জিতু মোড়ল পুত্র কওছার মোড়ল ও শওকাত মোড়লের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করেন। কওছার মোড়লের আঃ বাসার আবারো অবৈধ স্থাপনার পূর্বের ভিতের উপর পাকা ঘর নির্মাণ করেছে । তারই দক্ষিণ পাশে একই লেভেলে পাঁচ ফুট খাসজমি দখল করে মৃত হামিদ শেখের পুত্র আঃ লতিফ পাকা গেট নির্মাণ করেছে। আর উত্তর পাশে পাঁচ ফুট খাসজমি দখল করে মৃত বারিক মোড়লের পুত্র তবিবর পাকা ঘর নির্মাণ করেছে। গত ২৬/০৬/২০১৯ ইং তারিখে সহকারী কমিশনার (ভূমি) কেশবপুর জনাব এনামুল হক সরেজমিন উপস্থিত তাদেরকে চার দিনের মধ্যে খাসজমির উপর থেকে স্থাপনা সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দিলেও তা আজও বাস্তবায়ন হয়নি।
সংবাদ সম্মেলনে গোলাম ফারুকের সাথে আরো উপস্থিত ছিলেন গোলাম সরোয়ার, হাসুনুজ্জামান ও আলিমুজ্জামান।

Please follow and like us:

পাঠক গনন যন্ত্র

  • 4392118আজকের পাঠক সংখ্যা::
  • 2এখন আমাদের সাথে আছেন::

সর্বশেষ খবর

এ বিভাগের আরও খবর

প্রধান সম্পাদক- খোরশেদ আলম চৌধুরী, সম্পাদক- আশরাফুল ইসলাম জয়,  উপদেষ্টা সম্পাদক- নজরুল ইসলাম চৌধুরী।

ঢাকা অফিস : রোড # ১৩, নিকুঞ্জ - ২, খিলক্ষেত, ঢাকা-১২২৯,

সম্পাদক - ০১৫২১৩৬৯৭২৭,০১৮৮০৯২০৭১৩

Email-dailynayaalo@gmail.com

প্রধান সম্পাদক কর্তৃক  প্রচারিত ও প্রকাশিত

সাইট উন্নয়নেঃ ICTSYLHET