খুলনার ডুমুরিয়ায় তথ্য গোপন করে খাদ্য বান্ধব ডিলারশীপ নেওয়ার চেষ্টার অভিযোগ পাওয়া গেছে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। এঘটনায় ডুমুরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে।
প্রাপ্ত অভিযোগে উপজেলার রামকৃষ্ণপুর গ্রামের বিকাশ চন্দ্র মন্ডলের ছেলে নীলোৎপল মন্ডল উল্লেখ করেন, ২নং রঘুনাথপুর ইউনিয়নের থুকড়া বাজারে রাইসমিলের ব্যবসা করেন ওবাইদুর রহমান নামে এক ব্যক্তি। তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান উপজেলা খাদ্য অধিদপ্তরের সাথে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত। প্রচলিত আইন আছে খাদ্য অধিদপ্তরের ব্যবসার সাথে জড়িত কোন ব্যক্তি খাদ্য বান্ধব কোন ডিলারশীপ নিতে পারবেন না। তিনি প্রচলিত আইনের প্রতি তোয়াক্কা না করেই ১২ নং ইউনিয়নের রংপুর ইউনিয়নের আমভিটা বাজারে এসে খাদ্য বান্ধব ডিলারশীপের আবেদন করেছে। আবেদনে আমভিটা বাজারে তার কোন ব্যবসা বা ব্যবসা প্রতিষ্ঠান নেই। ডিলারশীপ আবেদনে আমভিটা বাজারে যে ঘর উল্লেখ করেছেন শওকত হোসেন নামে এক ব্যক্তির কাছ থেকে নেওয়া। যে ঘরে পূর্ব থেকে শওকত হোসেনের ২ছেলে একটি শাড়ি কাপড় ও অন্যটি চাউলের দোকান। তাই ওবাইদুর রহমান একটি ভূয়া ও ভুল তথ্য দিয়ে আসল তথ্য গোপন করে খাদ্য বান্ধব ডিলারশীপের আবেদন করেছে। এব্যাপারে অভিযোগকারী নীলোৎপল মন্ডল বলেন, জিএম ওবায়দুর রহমান ডুমুরিয়া উপজেলার ১২নং রংপুর ইউনিয়নের খাদ্য বান্ধব ডিলারশীপ এর জন্য আমভিটা বাজারে যে দোকান ঘরের পরিচয় দিয়েছে তা সম্পুর্ন ভূয়া। ১২নং রংপুর ইউনিয়নের আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আদিত্য মন্ডল এর মালিকানাধীন ঘর শওকত হোসেন ভাড়া তাকে দিয়েছে। ঐ ঘর আগে থেকেই প্রতিশ্রুতি সমবায় সমিতির কাছে ভাড়া দেওয়া যার মেয়াদ ৩১/১২/২০২৫ পর্যন্ত। এরকম ভূয়া কাগজপত্র দিয়ে কিভাবে সে আবেদন করে। তাছাড়া থুকড়া বাজারে গাজী রাইস মিল ডুমুরিয়া উপজেলার খাদ্য অধিদপ্তরের সাথে জড়িত। যার সত্ত্বাধিকারী গাজী নাজিম উদ্দীন। মিলের ব্যবসা পরিচালনা করে উনার ছেলে জি এম ওবায়দুর রহমান। যে আবার খাদ্য বান্ধব ডিলারশীপের আবেদন করেছে ভূয়া কাগজপত্র দিয়ে। এমনকি গাজী রাইস মিলের জায়গা নিয়ে ঝামেলা আছে, ঝামেলা থাকার পরও তিনি খাদ্য অধিদপ্তরের সুযোগ লাভ করেন। আমভিটা বাজার ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির সহ সভাপতি শংকর মন্ডল ও সাধারণ সম্পাদক ডাঃ ব্রজলাল মন্ডল বলেন, আমভিটা বাজারে ওবাইদুর রহমানের কোন ঘর নেই, ব্যবসাও নেই। উনি মিথ্যার আশ্রয় নিয়ে খাদ্য বান্ধব ডিলারশীপের আবেদন করেছে, যা আদৌও উচিৎ হয়নি। এব্যাপারে ওবাইদুর রহমানের মোবাইল নম্বরে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেন নি।
উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তা সুলতানা খানম, বিষয়টি আমি জানি, ইউএনও স্যারের কাছে একটি লিখিত অভিযোগ হয়েছে। স্যার তার অফিসের দুই কর্মকর্তাকে সরজমিনে তদন্তপূর্বক প্রতিবেদনের নির্দেশ দিয়েছে। তাদের তদন্ত প্রতিবেদনের পর পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ আল আমীন বলেন, অভিযোগ হয়েছে, তদন্ত পূর্বক ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।
Please follow and like us:









