২০শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, সোমবার, ৫ই আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ১২ই সফর, ১৪৪৩ হিজরি

শিরোনামঃ-
  • হোম
  • দেশজুড়ে
  • লকডাউনে দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে খেটে খাওয়া নিম্ন আয়ের মানুষের জীবন!!

লকডাউনে দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে খেটে খাওয়া নিম্ন আয়ের মানুষের জীবন!!

আউয়াল হোসেন পাটওয়ারী, রামগঞ্জ,লক্ষীপুর করেসপন্ডেন্ট।

আপডেট টাইম : আগস্ট ০৩ ২০২১, ১৭:৩৮ | 638 বার পঠিত

বিশ্বব্যাপী করোনার প্রকোপ ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে। ভ্যাকসিন প্রয়োগ শুরু হলেও এখনো নিয়ন্ত্রনে আসে নি। দেশে দিন দিন বাড়ছে করোনার সংক্রমণ। সংক্রমণের পাশাপাশি মৃত্যুর হার বাড়ছে আশঙ্কাজনক হারে। করোনার সংক্রমণ রোধে চলছে সরকার ঘোষিত সর্বাত্মক লকডাউন। আর এ কঠোর ‘লকডাউনে’ খেটে খাওয়া মানুষের জীবনে নেমে এসেছে সীমাহীন দুর্ভোগ। এই লকডাউনে চরম সংকটে পড়েছে শ্রমিক, রিকশা চালকসহ নি¤œআয়ের মানুষ জন। যারা দিন ভিত্তিক শ্রমজীবী। এই সময়ে নি¤œ আয়ের মানুষ বড় ক্ষতির মুখে পড়ে, এমনকি বেতনভোগী চাকরিজীবীরাও দুশ্চিন্তার মধ্যে পড়ে যান।
লকডাউন বা শাটডাউন যাই বলুন, দুশ্চিন্তা যত না করোনাভাইরাস নিয়ে, তার চেয়ে বড় উদ্বেগ হচ্ছে স্বল্প আয়ের মানুষের ওপর এই লকডাউনের প্রভাব। একদিকে যেমন শিল্প কারখানা বন্ধ, তেমনি যানবাহনও নেই সড়কে। ‘লকডাউনে’র ফলে মানুষ ঘর থেকেও বের হচ্ছেন কম। এমন অবস্থায় এ কঠোর ‘লকডাউনে’ যেন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে খেটে খাওয়া মানুষের জীবন। রয়েছে কপালে দুশ্চিন্তার কালো ছাপ। লকডাউনে সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষই কিছু না কিছু দুর্ভোগে পড়েন। তবে সবার সমস্যা এক রকম নয়। খেটে খাওয়া মেহনতি মানুষগুলোর কাছে ‘লকডাউন’ মানেই তিন বেলা খাবারের অনিশ্চয়তা।
সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে সবাইকে ঘরে থাকার জন্য। কিন্তু নি¤œ আয়ের মানুষজনের খাবারের সন্ধানে ঘর থেকে বের হওয়া ছাড়া কোন উপায় নেই। আর যারা কাজের সন্ধানে বের হচ্ছেন তারাও দিন শেষে হতাশ হয়ে বাড়ি ফিরছেন। কারণ স্বাভাবিক কাজকর্ম বন্ধ থাকায় তাদের আয়-রোজগার একেবারেই নেই বললেই চলে।
এমন পরিস্থিতিতে, সঞ্চয় ভেঙ্গে এবং ঋণ করে সংসার চালাতে বাধ্য হচ্ছেন খেটে খাওয়া মানুষেরা। এই অবস্থা কাটিয়ে উঠতে সরকারি সহায়তা চান তারা। অসহায় হত দরিদ্র দিনমজুর খেটে খাওয়া মানুষ গুলো।
এক গৃহকর্মী বলেন, বাড়িতে বাড়িতে কাজ করি, এ ‘লকডাউনে’ কাজ করতে পারি না। আমার স্বামীও অসুস্থ। সে খেলনা বিক্রি করতো, এখন সেটাও পারে না ‘লকডাউনে’র কারণে। দুই সন্তান নিয়ে টাকার অভাবে একদিকে যেমন খাদ্য সংকট, তেমনি স্বামীর চিকিৎসাও করাতে পারছি না। করোনাতে নয়, অবস্থা যা, তাতে আমরা ‘লকডাউনে’ই মরে যাব।
রিকশা চালকসহ অনেক শ্রমিক বলেন, ‘লকডাউনে’র কথা আর কি বলব ভাই, এখন কোনো খ্যাপ (ভাড়া) নাই। আগে তো মানুষ রাস্তায় বের হলেই ভাড়া মিলতো। এখন মানুষও রাস্তায় কম, আবার বাজার বন্ধ থাকায় মালামাল টানার কাজও নাই। দুই-একজন প্যাসেঞ্জার যা মেলে, তাও অনেক কষ্টে। বিশেষ করে ‘লকডাউনে’ রাস্তায় কিছু রিকশা দেখা গেলেও প্যাসেঞ্জার তেমন মেলে না বলেই মত তাদের। ফলে তারাও আছেন বিপাকে। তাদের অবস্থাও অনেক করুন। রিকশাচালক, দিনমজুর, হোটেল শ্রমিক, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, হকার, কুলি, গৃহকর্মীসহ অন্যান্য অসংখ্য পেশার মানুষ। তারা দিন এনে দিন খান। কঠোর এ ‘লকডাউনে’র সব চেয়ে খারাপ প্রভাব যেন তাদের ওপরেই পড়েছে।
শাটডাউন বা লকডাউন যাই হোক না কেন এসমস্ত শ্রমিকের কথা বিবেচনায় আনা দরকার। লকডাউন পরিস্থিতি বিবেচনায় আরো বৃদ্ধি হতে পারে। এমতাবস্থায় লকডাউন বাস্তবায়ন হওয়া চ্যালেঞ্জিং। কারণ এসব ছিন্নমূল মানুষ করোনাকে ভয় পায় না। তাদের কাছে করোনার যাতনার চেয়ে পেটের যাতনাই বড়। তাদের পেটে ভাত নাই। ঘর ভাড়ার টাকা নেই। কলসিতে চাল নাই। তাদের কাছে হ্যান্ড স্যানিটাইজেশন, সাবান দিয়ে হাত ধোয়া আর মাস্ক পরিধান স্বপ্নবিলাসের মতো। ৫ টাকার মাস্ক (ক্ষেত্রবিশেষ ১০ টাকা) আর ৩ ফুট দূরত্বে অবস্থান তাদের কাছে এখন অর্থহীন। যারা আনুষ্ঠানিক বেতনভুক্ত কর্মজীবীমানুষ তাদের ঘর থেকে বের না হলেও চলবে। তাদের বাজারে যাওয়া লাগে না। তাদের ঘরে বস্তাভর্তি বাসমতি চাল মজুদ আছে। ফ্রিজে ভর্তি মাছ আছে। আছে মাংস, অন্যান্য প্রয়োজনীয় খাদ্য পণ্য। ব্যবসায়ী আর শিল্পপতিদের অবস্থাতো আরো একধাপ উপরে। তাদের ব্যাংকে আছে টাকা। অন্যান্য সামগ্রীরও অভাব নেই। সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও বেশ সুখে আছেন। ঘরে বসেই পাচ্ছেন বেতন। খেয়েপরে মন এবং শরীর নিয়ে ফুরফুরে মেজাজে আছেন তারা। কিন্তু নি¤œ আয়ের এ সকল শ্রমিক ও দিনমজুরদের কথা কেউ ভাবছেন না। তাই এ সব মানুষের ঘরে বসে থাকা অসম্ভব হয়ে পড়েছে। ঘরে বসে তাদের আহার জুটছে না। তাদের সন্তানদের মুখে খাবার যাচ্ছে না। তাদের জঠরজ্বালাও মিটছে না। এ জ্বালা মেটাতে তাদের বাইরে আসাই লাগবে। তাই তারা শাটডাউন এবং লকডাউন মানতে নারাজ।
একজন পরিবহন শ্রমিকের বলেন, ‘আমার ফ্যামিলিতে লোক ৫ জন। মাসে লাগে আমার ৪০ কেজি চাউল। সুতরাং দুই কেজি চাউলের লকডাউন আমি মানি না। এগুলো তামাশা। এ তামাশা বন্ধ করতে হবে। হয় আমাদের ঘরে এক মাসের ৪০ কেজি চাল দিতে হবে। না হয় আমাদের কাজ করতে দিতে হবে। আমরা পরিবহন শ্রমিক নির্যাতিত-নিপীড়িত গোষ্ঠী। আমরা কাজ করে ভাত খেতে চাই। আমরা করোনাকে ভয় পাই না, ভয় পাই লকডাউনকে। করোনায় মরে গেলে শহীদ হবো। কিন্তু লকডাউনে না খেয়ে মরতে পারবো না। করোনায় গরীব মানুষ মরে না। গরীবেরা মরে, না খেয়ে।’ এসব দিনমজুরের বিষয়টি রাষ্ট্রের গুরুত্ব দেয়া উচিত। তাদের পাশে দাঁড়ানো উচিত। তাই এ সময় তাদের ঘরে ন্যূনতম দু’ সপ্তাহের খাবার পৌঁছানোর ব্যবস্থা করা যেতে পারে। এমতাবস্থায় নিন্মোক্ত উদ্যোগ গ্রহণ করা যেতে পারে।
৩০ জুন ২০২১ তারিখে বাজেট পাস হয়েছে। ২০২১-২০২২ সালের বাজেট নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ লাখ ৩ হাজার ৬৮১ কোটি টাকা। বিশাল এ বাজেট থেকে উল্লেখিত সংখ্যক দিনমজুরদের জন্য ১৪ দিনের অগ্রিম বাজেট ব্যয় করা যেতে পারে। প্রাথমিকভাবে ১৪ দিনের জন্য একটি কর্মসূচি গ্রহণ করা যেতে পারে। জনপ্রতি দিনে ১০০ টাকা বরাদ্দ দেয়া যেতে পারে। এতে একজন মানুষের ১৪ দিনে ১৪শ’ টাকা ব্যয় হবে। তিন কোটি ৯৫ লক্ষ মানুষের জন্য ব্যয় হবে ৫ হাজার ৫ শত ৩০ কোটি টাকা। যা সমগ্র বাজেটের ০.৯২% মাত্র। গৃহীত এ কর্মসূচি তাদের পরিবারে একটু হলেও স্বস্তি ফিরিয়ে আনবে বলে ভুক্তভুগিরা মনে করে। এ কর্মসূচি বাস্তবায়নে প্রশাসনকে কঠোর হতে হবে। দুর্নীতি-অনিয়ম যাতে না হয়, তা তীক্ষণ নজরে রাখতে হবে।

Please follow and like us:

পাঠক গনন যন্ত্র

  • 4722757আজকের পাঠক সংখ্যা::
  • 7এখন আমাদের সাথে আছেন::

সর্বশেষ খবর

এ বিভাগের আরও খবর

প্রধান সম্পাদক- খোরশেদ আলম চৌধুরী, সম্পাদক- আশরাফুল ইসলাম জয়,  উপদেষ্টা সম্পাদক- নজরুল ইসলাম চৌধুরী।

প্রধান সম্পাদক কর্তৃক  প্রচারিত ও প্রকাশিত

ঢাকা অফিস : রোড # ১৩, নিকুঞ্জ - ২, খিলক্ষেত, ঢাকা-১২২৯,

সম্পাদক - ০১৫২১৩৬৯৭২৭,০১৮৮০৯২০৭১৩

Email-dailynayaalo@gmail.com নিউজ রুম।

Email-Cvnayaalo@gmail.com সিভি জমা।

 

 

সাইট উন্নয়নেঃ ICTSYLHET